kalerkantho


জাতীয় প্রেসক্লাবে ৮ দিন ধরে অবস্থান করছেন মাদ্রাসা শিক্ষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ২২:৫৭



জাতীয় প্রেসক্লাবে ৮ দিন ধরে অবস্থান করছেন মাদ্রাসা শিক্ষকরা

জাতীয়করণের দাবিতে গত আট দিন ধরে অবস্থান ধর্মঘট পালন করে যাচ্ছেন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকরা। দাবি পূরণে এখনও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস না পাওয়ায় আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে আমরণ অনশন পালনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি।
 
আজ সোমবার বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি রুহুল আমিন চৌধুরী বলেন, ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করে আমরা মানবেতর জীবনযাপন করে আসছি। ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠায় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসারা জাতীয়করণসহ আট দফা দাবিতে আমরা গত আট দিন ধরে শীতের মধ্যে অবস্থান ধর্মঘট পালন করে আসলেও সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস দেওয়া হয়নি। এ কারণে মঙ্গলবার থেকে আমরণ অনশনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে কোনো আশ্বাস না এলে আমরণ অনশন শুরু হবে।
 
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস ছাড়া আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনে আমরা প্রাণ দেব তবু আন্দোলন থামাবো না।
 
আন্দোলনকারী শিক্ষকরা বলেন, লেখাপড়া শিখে শিক্ষকতার মহান পেশায় এসেছি। বেতন-ভাতা না পাওয়ায় পরিবারের ভরণপোষণের খরচ চালতে পারছি না। মানবেতর জীবনযাপন করছি। রেজিস্ট্রার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোও জাতীয়করণ করতে হবে।
 
শিক্ষকরা বলেন, তীব্র শীতের মধ্যে রাস্তায় বসে আন্দোলন করলেও সরকারের পক্ষ্য থেকে কোনো আশ্বাস মেলেনি। অথচ আমাদের পাশেই আন্দোলন করছিলেন নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। শিক্ষামন্ত্রী এসে তাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে তারা আন্দোলন স্থগিত করেছেন। আমরা একই দেশের নাগরিক। তাদের মতোই শিক্ষক। কিন্তু আমাদের দিকে কারো কোনো দৃষ্টি নেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো প্রতিনিধি যোগাযোগও করেননি। এ কারণে বাধ্য হয়ে আমরা আন্দোলনে নেমেছি। দাবি আদায় ছাড়া তারা রাজপথ থেকে যাবেন না বলে জানান।
 
শিক্ষক নেতারা বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা বেতন পান সেখানে ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকরা তেমন কোনো বেতন পান না। 
 
তারা আরও বলেন, বেতন ভাতা না পেয়ে ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকরা মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাই আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে হস্তক্ষেপ কমনা করছি।

মন্তব্য