kalerkantho


সংলাপে মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান

শিশু হত্যা-নির্যাতন বন্ধে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ জানুয়ারি, ২০১৮ ০১:৫১



শিশু হত্যা-নির্যাতন বন্ধে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে

ফাইল ছবি

বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। তিনি বলেছেন, চাঞ্চল্যকর রাকিব-রাজন হত্যাকারীদের মতো শিশু হত্যা-নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত অন্য অপরাধীদের শাসি্ত নিশ্চিত করা গেলে অপরাধ কমে আসবে। এ জন্য নির্যাতিতের পাশে সম্মিলিতভাবে সবাইকে দাঁড়াতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সম্মেলন কক্ষে অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (এএসডি) আয়োজিত সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। 'শিশু সুরক্ষা : আমাদের করণীয়' শীর্ষক সংলাপের মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বিদায়ী বছরে ৯৪৯টি শিশু হত্যা-নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৫৪৮টি ধর্ষণ, ৬৬টি গণধর্ষণ, ১৮টি ধর্ষণের পর হত্যা, ৬১টি পিটুনি, সাতটিকে পিটিয়ে হত্যা, ৪৮টি মা-বাবার দ্বারা হত্যা, ২৫টি পর্নোগ্রাফি, ১৫২টি অপহরণের শিকার এবং ২৪টি নবজাতকের লাশ উদ্ধার হয়েছে। এর আগে ২০১৬ সালে ৮৭৭টি শিশু হত্যা-নির্যাতনের শিকার হয়।

এএসডির নির্বাহী পরিচালক জামিল এইচ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংলাপটি সঞ্চালনা করেন এএসডি উপনির্বাহী পরিচালক মো. মোজাম্মেল হক। বক্তব্য দেন বিচারপতি মো. নিজামুল হক, শিশু অধিকার ফোরামের পরিচালক আব্দুস শহীদ মাহমুদ, মানবাধিকারকর্মী মো. মাহবুবুল হক, সমাজসেবা কর্মকর্তা কে এম শহীদুজ্জামান, শিশু বিশেষজ্ঞ শরফুদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ উত্থাপন করেন এএসডির প্রজেক্ট ম্যানেজার ইউ কে এম ফারহানা সুলতানা।

সংলাপে প্রধান অতিথি কাজী রিয়াজুল হক আরো বলেন, শিশুর অধিকার নিশ্চিত করায় বাংলাদেশের অগ্রগতি অনেক। বিদ্যমান আইনের বাস্তবায়ন করা গেলে আরো ভালো ফল পাওয়া যাবে। এ জন্য জাতীয় থেকে আঞ্চলিক পর্যায়ের শিশুবিষয়ক কমিটিগুলো সক্রিয় করা দরকার। তিনি বলেন, মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে শিশু কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাব বাস্তবায়নে কাজ চলছে। শিশু অধিদপ্তর গঠনেরও তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সরকার এসব বিষয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে বলে উলে্লখ করেন তিনি।
বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে শিশু আইন প্রণয়ন করেছিলেন। বর্তমান সরকারও এ বিষয়ে আন্তরিক। কিন্তু দেশে অনেক আইন থাকলেও যথাযথ প্রয়োগ নেই। তাই আগে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

সংলাপে উত্থাপিত প্রস্তাবে শিশুর সুরক্ষায় সাত দফা সুপারিশ তুলে ধরেন এএসডি উপনির্বাহী পরিচালক মো. মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, বসি্তবাসী শিশু, পথশিশু, ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশু, গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুসহ অবহেলিত শিশুদের সামগ্রিক উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইন ও নীতিমালার পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। এ জন্য অর্থ বরাদ্দের পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি শিশু হত্যা-নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের শাসি্ত নিশ্চিত করতে হবে।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, দেশে ৩৪ লাখ শিশু শ্রমের সঙ্গে জড়িত। এর মধ্যে ৩২ লাখ ৭২ হাজার ৭৭৯টি অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে এবং এক লাখ ৭৭ হাজার ৫৯০টি প্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত। আর ১২ লাখ শিশু ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমের সঙ্গে জড়িত। এই ঝুঁকি মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।


মন্তব্য