kalerkantho


বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলুন : প্রধানমন্ত্রী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ জানুয়ারি, ২০১৮ ২১:১১



বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলুন : প্রধানমন্ত্রী

ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি দেশের বর্তমান উন্নয়নের ধারা বজায় রেখে দেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার শপথ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আজ আমাদের মাঝে আর নেই কিন্তু তাঁর আদর্শ আছে। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফেরার পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক বিশাল জনসভায় ভাষণকালে তিনি যে দিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন সে অনুযায়ীই দেশ গঠনে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। কাজেই আমাদের অঙ্গীকার হচ্ছে জাতির জনকের স্বপ্নের সমৃদ্ধ দেশ গঠন করা’।

আজ বুধবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের আলোচনা সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এ কথা বলেন।

সরকার প্রধান বলেন, আজকের দিনে জাতির পিতার প্রতি আমরা সেই ওয়াদা দিচ্ছি-পিতার কাছে আজকে আমরা কথা দিলাম বাংলাদেশকে তাঁর স্বপ্নের ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে আমরা গড়ে তুলবো 
ইনশাল্লাহ।

তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের দেশ। আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করব। ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী পালন করব। ২০৪১ সালে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ হবে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ।

সেই দেশ আমরা গঠন করব- এই ওয়াদা জাতির পিতার কাছে দিয়ে বাংলাদেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশকে আজকে বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আজ বাংলাদেশ সমগ্র বিশ্বে মর্যাদা পেয়েছে। জাতি হিসেবে আজকে বিশ্বে সন্মান পাচ্ছে এবং আমরা ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে সমগ্র বিশ্ববাসীর সমর্থন পাচ্ছি। তাদের প্রশংসা পেয়ে দেশ বিশ্বে আরো মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে।

দেশের পররাষ্ট্র নীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’- এ নীতি বজায় রেখেই বাংলাদেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। যেটা জাতির পিতা আমাদের শিখিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের আন্দোলন ও বিদেশি চাপের মুখে পাকিস্তানিরা বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, ’৭২ এর ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে আসার মধ্যে দিয়ে স্বাধীনতা পূর্ণতা পেয়েছিল। তার আগে প্রতিটা মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিল- কি হবে, তাদের মহান নেতাকে ফিরে পাবে কি না? জনগণের সেই আশা আকাঙ্খা ১০ জানুয়ারি বাস্তবে রুপ নেয়।

লন্ডন থেকে টেলিফোনে প্রথম দীর্ঘ ৯ মাস পরে তারা জাতির পিতার খবর জানতে পারেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অথচ দেশে ফিরেই তিনি (বঙ্গবন্ধু) ছুটে গেলেন ওই রেসকোর্সের ময়দানে। যেখানে তিনি ৭ মার্চের ভাষণের মাধ্যমে জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করেছিলেন। সেখানেই তিনি দেশ গঠনের ডাক দেন। স্বাধীন দেশের রুপ রেখা কি হবে, দেশ কিভাবে চলবে তার নির্দেশনা দেন।

স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর জাতির পিতা যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে সর্বশক্তি নিয়োগ করেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু প্রথমেই ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সদস্যদের দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বন্ধু দেশসমূহ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাত্র ১০ মাসে বঙ্গবন্ধু বাংলার মানুষকে সংবিধান উপহার দিয়েছিলেন।

আদমী নাহি মাঙ্গতা মিট্টি মাঙ্গতা-এই কথা বলে পাকিস্তানি জান্তা দেশকে একটি ধ্বংসস্তুপে পরিণত করে-এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অবস্থা থেকে যখন জাতির পিতা দেশকে টেনে তুলতে যাচ্ছিলেন ঠিক সে সময়ই স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি তাঁকে স্বপরিবারে হত্যা করে জাতির অগ্রগতির চাকাকে স্তব্ধ করে দেয় । দেশে হত্যা, ক্যু এবং ষড়যন্ত্রের রজনীতি শুরু হয়।

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের তথাকথিত বহুদলীয় গণতন্ত্র মানে স্বাধীনতা বিরোধীদের রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আর এই যুদ্ধাপরাধীদের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়াই তার রাজনীতি।

তিনি বলেন, সংবিধানের ১২ অনুচ্ছেদ বাতিল করে এবং ৩৮ অনুচ্ছেদ আংশিক সংশোধন করে জিয়াউর রহমান যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেটা কিন্তু জনগণের গণতন্ত্র ছিল না, ছিল কারফিউ গণতন্ত্র। আর যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসনের মামান্তর মাত্র। যে কারণে বাংলাদেশ এগোতে পারেনি। মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে বিশ্ব দরবারে অর্জিত সন্মান ভ’লুন্ঠিত হয়ে যায়।’

আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের সেবক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যেমন আমরা করেছি তেমনি ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স সংসদে বাতিল করে জাতির পিতা হত্যার বিচার করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছি।

এরপর ’৯৬-২০০১ বাংলাদেশের মানুষের জন্য স্বর্ণযুগ ছিল আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময়েই বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে এবং বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস ফিরে আসে।
২০০১ সালে পুনরায় ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে ব্যর্থ হলে দেশ আবার পিছিয়ে পড়ে। কমিউনিটি ক্লিনিক, একটি বাড়ি একটি খামারসহ সকল উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ হয়ে যায়। সাক্ষরতার হার ৬৫ ভাগ থেকে কমে ৪৪ ভাগ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ৪ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট থেকে কমে ৩ হাজারর ২০০ মেগাওয়াট হয়ে যায়।

তিনি বলেন, সে সময় আল বদর, রাজাকার, বুদ্ধিবীবী হত্যাকারী চক্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। দেশ এভাবেই ২৮ থেকে ২৯টি মূল্যবান বছর বাংলার মানুষের জীবন থেকে হারিয়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত পতাকা ওই রাজাকারদের হাতে তুলে দেওয়াতেই তারাই হয়ে যায় দেশের হর্তাকর্তা।

তিনি বলেন, ৬৩ জেলার ৫০০ জোনে বোমা বিস্ফোরণ, ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা, বাংলাভাই এবং জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য শুরু করে। একজন মন্ত্রী ও দুইজন সংসদ সদস্যকে হত্যা করে, ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা করে আইভি রহমানসহ ২৪ জনকে হত্যা করে। সংখ্যালঘু নির্যাতন ও হত্যা এবং তাদের এই হত্যাযজ্ঞ থেকে কোনো ধর্মের লোক রেহাই পায়নি। ৬ বছরের রজুফা থেকে বহু নারী এদের গণধর্ষণের শিকার হয় এবং অনেকে আত্মহত্যা করে নিজেদের সম্ভ্রম রক্ষা করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করে ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর তাঁর সরকার আবার সেই বিধ্বস্ত প্রায় অর্থনীতিকে টেনে তোলার পরিকল্পনা এবং তাঁর বাস্তবায়ন শুরু করে। জাতির পিতার আদর্শে তাঁর সরকার দেশ গড়ে তোলার কাজ শুরু করে, যার সুফল দেশের জনগণ আবারো ভোগ করে।

তিনি বলেন, আমরা ৯ বছরে দেশের যে উন্নয়ন করেছি অন্যরা ২৮ বছরেও সেভাবে দেশের উন্নয়ন করতে পারেনি কেন। দেশকে তারা এখনো মনে প্রাণে বিশ্বাস করে না। এজন্য তারা দেশের উন্নয়নে কাজ করে না।


মন্তব্য