kalerkantho


বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন শেখ হাসিনা বাস্তবায়ন করছেন : শিল্পমন্ত্রী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ জানুয়ারি, ২০১৮ ২১:৫৯



বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন শেখ হাসিনা বাস্তবায়ন করছেন : শিল্পমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে খুনিরা তাঁর স্বপ্নের বাস্তবায়ন কিছুদিনের জন্য ব্যাহত করতে পারলেও তাঁর সুযোগ্য কন্যার নেতৃত্বে সে স্বপ্ন আজ বাস্তবায়িত হচ্ছে।

আজ সংসদে ঐতিহাসিক ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে এক অনির্ধারিত আলোচনায় শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে ফিরে ১২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের দায়িত্ব নিয়ে যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে গড়ে তোলার কাজে হাত দেন। সাড়ে ৩ বছরে তিনি দেশকে একটি অবস্থানে নিয়ে এসেছিলেন। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের দ্বিতীয় বিপ্লবের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু ’৭৫’র ১৫ আগস্ট খুনী মোস্তাকরা সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে হত্যা করে দেশের উন্নয়নের চাকা পিছনের দিকে ঠেলে দেয়। 

আমির হোসেন আমু বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে তারা মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধকে হত্যা করেছিল। পাশাপাশি দেশকে একটি নব্য পাকিস্তানে পরিণত করেছিল। 

শিল্পমন্ত্রী বলেন, বাঙালি জাতির সৌভাগ্যের বিষয় যে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নানা চড়াই-উৎরাই, জেল-জুলুম সহ্য করে সরকারের দায়িত্বে এসে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের দ্বিতীয় বিপ্লব সুখী-সমৃদ্ধ, দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশ ইতোমধ্যে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। অচিরেই মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। ’৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে। 

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে দেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। তাঁর সুদক্ষ নেতৃত্বের কারণে তিনি ‘স্টার অব দ্যা ইস্ট’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্বে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ উপাধিতেও ভূষিত হয়েছেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ধীরে ধীরে বাঙালি জাতিকে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের দিকে নিয়ে গিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন পর্যায়ে আন্দোলন-সংগ্রামের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে এক কাতারে দাঁড় করিয়েছিলেন। এ ভাষণে তিনি বাঙালি জাতির স্বাধীনতা ও মুক্তির ডাক দিয়েছিলেন। সে ঘোষণা অনুযায়ী বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে ৯ মাসের সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা এবং মুক্তি ছিনিয়ে এনেছিলেন। 

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের সে ভাষণকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবান দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে জাতিকে গৌরবান্বিত করেছে। 

তিনি বলেন, ৯ মাসে মুক্তিযুদ্ধের পর ’৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জিত হলেও জাতির পিতার অনুপস্থিতিতে বাঙালি জাতি মুক্তির স্বাদ পায়নি। ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে বাঙালি জাতি মুক্তির স্বাদ পায়। 

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে ’৭২-এর ১০ জানুয়ারি বাঙালি জাতি মুক্তির স্বাদ আস্বাদন করেছিল। তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে মাত্র সাড়ে ৩ বছরে একটি অবস্থানে নিয়ে গিয়ে দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু খুনী মোস্তাকরা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে তা বাস্তবায়ন করতে দেয়নি। বর্তমানে তাঁর সুযোগ্য কন্যার হাত ধরে বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লব তথা স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।


মন্তব্য