kalerkantho


সংসদে তথ্যমন্ত্রী

দিগন্ত ও ইসলামিক টিভির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ জানুয়ারি, ২০১৮ ২৩:৪১



দিগন্ত ও ইসলামিক টিভির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি

বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে লাইসেন্স পাওয়া বহুল আলোচিত বেসরকারি টিভি চ্যানেল দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টিভির লাইসেন্স বাতিলের ব্যাপারে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার। জাতীয় সংসদে আজ বৃহস্পতিবার তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এ খবর জানান। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী চ্যানেল দুটির সম্প্রচার স্থগিত রাখার কারণও ব্যাখ্যা করেন।

সরকার দলীয় জোটের দল তরীকত ফেডারেশনের সংসদ সদস্য এম এ আউয়াল উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু জানান, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সময় ৯টি টিভি বেসরকারি চ্যানেল লাইসেন্স পেয়েছে। একইসঙ্গে ঘোষণাপত্র পেয়েছে ২১৪টি পত্র-পত্রিকা। লাইসেন্স পাওয়া টিভি চ্যানেলগুলো হচ্ছে বৈশাখি টিভি, আর টিভি, বাংলাভিশন, যমুনা টিভি, দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভি, চ্যানেল ওয়ান, সিএসবি নিউজ ও দেশ টিভি। এর মধ্যে চ্যানেল ওয়ান ও সিএসবি নিউজের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। আর দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টিভির সম্প্রচার স্থগিত রাখা হয়েছে। মন্ত্রী তার এ জবাবে উল্লেখিত ২১৪টি পত্রিকার নামও সংযুক্ত করেন।

এ সময় বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) সংসদ সদস্য মো. ফখরুল ইমাম তথ্যমন্ত্রীর কাছে দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টিভির লাইসেন্স বাতিল না করে সম্প্রচার স্থগিত রাখার আইনগতভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সরকারের এমন আচরণ মত প্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী কিনা তিনি তা-ও জানতে চান। জবাবে মন্ত্রী বলেন, 'দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টিভির লাইসেন্স বাতিলের ব্যাপারে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বিষয়টি এখনো বিবেচনাধীন রয়েছে।' মন্ত্রী সংসদকে চ্যানেল দুটির সম্প্রচার বন্ধ রাখার কারণও ব্যাখ্যা করেন। তিনি চ্যানেল দুটিকে 'দাঙ্গার উসকানিদাতা' আখ্যা দেন।

হাসানুল হক ইনু বলেন, হেফাজতে ইসলামের তেঁতুল হুজুরের (আল্লামা আহমদ শফি) নেতৃত্বে যেদিন (২০১৩ সালের ৫ মে) ঢাকা দখলের চেষ্টা চলছিল তখন এই দুটি টিভি চ্যানেল সরকারের বিধি-নিষেধ না মেনে উসকানি দিয়ে যাচ্ছিল। এটা দেখেই সেদিন সন্ধ্যার পর আমরা চ্যানেল দুটির সম্প্রচার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেই, যা এখনো বন্ধ আছে।'

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে অনুমোদিত বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সংখ্যা ৪৫টি এবং নিবন্ধিত পত্রিকার সংখ্যা ৩ হাজার ২৫টি। এর মধ্যে ১ হাজার ১৯১টি দৈনিক, ৩টি অর্ধ সাপ্তাহিক, ১ হাজার ১৭৫টি সাপ্তাহিক, ২১২টি পাক্ষিক, ৪০৪টি মাসিক, ৭টি দ্বিমাসিক, ২৮টি ত্রৈমাসিক, ১টি চতুর্মাসিক এবং ২টি করে ষান্মাসিক ও বার্ষিক পত্রিকা রয়েছে। ঢাকা থেকে ১ হাজার ২৪৬টি এবং মফস্বল থেকে ১ হাজার ৭৭৯টি পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে। একই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরো জানান, সারাদেশের অনলাইন পত্রিকার হালনাগাদ কোনো তালিকা সরকারের কাছে নাই। তবে তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য ২ হাজার ১৮টি অনলাইন পত্রিকার আবেদন পাওয়া গেছে।

চলচ্চিত্র প্রসঙ্গ : এম এ আউয়ালের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তথ্য মন্ত্রী বলেন, 'চলচ্চিত্র একটি গণমাধ্যম। বিভিন্ন জাতীয় বিষয় জোড়ালোভাবে উপস্থাপনের যোগ্যতা রাখে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এটা সেই ষাটের দশকে বুঝতে পেরেই ঢাকায় চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা (এফডিসি) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতার পরও আমাদের চলচ্চিত্র বেশ ভালোই এগিয়ে যাচ্ছিল। ৭৫-এ তার মর্মান্তিক মৃত্যুর পর থেকেই চলচ্চিত্রের নিম্নমুখী যাত্রা শুরু হয়।' আমাদের চলচ্চিত্রও হলিউড-বলিউডের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সারাবিশ্বের বাংলা ভাষাভাষীদের মনোরঞ্জনে সক্ষম হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


মন্তব্য