kalerkantho


সংসদে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

এ বছরেই গ্যাসের ঘাটতি দূর হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০২:৪১



এ বছরেই গ্যাসের ঘাটতি দূর হবে

নিরাপদ, নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাপরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। সে হিসাবে ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান।

আর চলতি ২০১৮ সালের মধ্যেই গ্যাসের ঘাটতি দূর হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী। ঘাটতি দূর হলে সার কারখানাসহ সব খাতে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

ক্ষমতাসীন দলের সদস্য এম আব্দুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাপরিকল্পনায় তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বর্তমানে যেখানে ২৯ শতাংশ, ২০৪১ সালে তা ১ শতাংশে নামিয়ে আনার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যুতায়নের জন্য সৌরশক্তিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে গ্যাস, এলএনজি, নবায়ণযোগ্য জ্বালানি ও পরমাণুভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

একই সংসদ সদস্যের আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, সঠিক সদ্ধিান্ত, যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সিস্টেম লস সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ডিপিডিসি একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় অন্যান্য বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ও কম্পানিতে বিদ্যুৎ চুরি বন্ধের লক্ষ্যে সব অ্যানালগ মিটার অপসারণ করে ডিজিটাল প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সদস্য দিদারুল আলমের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, সমুদ্রের ঢেউ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে সমীক্ষা করা হচ্ছে। কিন্তু সমুদ্রের ঢেউ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রযুক্তি ব্যয়বহুল ও বাণিজ্যিকভাবে টেকসই ও জনপ্রিয় নয়। তবে সমুদ্রের ঢেউ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রযুক্তি উন্নত বিশ্বের কিছু দেশে এখনো পরীক্ষাধীন পর্যায়ে আছে বলে তিনি জানান।

খনিজ সম্পদের সন্ধান : তরীকত ফেডারেশনের মহাসচিব এম এ আউয়ালের প্রশ্নের জবাবে খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) এবং পেট্রোবাংলার অনুসন্ধান কার্যক্রমের ফলে দেশে এ পর্যন্ত উন্নত মানের বিটুমিনাস, পিট কয়লা, চুনাপাথর, সাদা মাটি, কাচবালি, কঠিন শীলা, নুড়িপাথর, নির্মাণ বালি ও ভারী খনিজ মনিক ইত্যাদি খনিজ সম্পদ আবিষ্কৃত হয়েছে।

চলতি বছরেই গ্যাসের ঘটতি দূর : ক্ষমতাসীন দলের সদস্য বেগম ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির প্রশ্নের জবাবে চলতি বছরই গ্যাসের ঘটতি দূর হবে বলে আশা প্রকাশ করে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎ, আবাসিক ইত্যাদি খাতে গ্যাসের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং তার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় বর্তমানে বেশ কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পাঁচটি সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে অধিক দক্ষতাসম্পন্ন তিনটি সার কারখানায় (শাহজালাল, কাফকো ও যমুনা) সরবরাহ চালু রয়েছে। গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টার পাশাপাশি গ্যাসের বর্ধিত চাহিদা মেটানোর জন্য এলএনজি আমদানির কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে।



মন্তব্য