kalerkantho


‌'দেশের ৮ লাখ প্রতিবন্ধীর বিষয়ে সরকার আন্তরিক'

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ২৩:৫১



‌'দেশের ৮ লাখ প্রতিবন্ধীর বিষয়ে সরকার আন্তরিক'

ফাইল ছবি

বর্তমানে দেশে মোট প্রতিবন্ধীর সংখ্যা ৮ লাখ ৬ হাজার ৩১০ জন। জাতীয় সংসদকে এ তথ্য জানিয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন দাবি করেছেন, বর্তমান সরকার প্রতিবন্ধী বান্ধব। তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।

আজ রবিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এতথ্য জানান। সরকারি দলের সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের জরিপ অনুযায়ী দেশে শারীরিক প্রতিবন্ধীর সংখ্যা ৬ লাখ ৮৫ হাজার ২৬৩ জন। এ ছাড়া ১ লাখ ২১ হাজার ৪৭ জন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী রয়েছেন। তিনি আরো জানান, প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কিত বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা-২০০৯ এর আওতায় সরকার বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের জন্য জাতীয় প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন ক্যাম্পাসে ২০১১ সালে একটি সম্পূর্ণ অবৈতনিক স্পেশাল স্কুল ফর চিলড্রেন উইথ অটিজম চালু করেছে।

পরবর্তীতে ঢাকা শহরের মিরপুর, লালবাগ, উত্তরা ও যাত্রাবাড়ীতে ৪টি, রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, রংপুর ও সিলেট এই ৬টি বিভাগীয় শহরে এবং গাইবান্ধা জেলায় একটিসহ মোট ১১টি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুল এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সর্বমোট ৬২টি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুল চালু করা হয়েছে। এ ছাড়া বিএসএড ডিগ্রিপ্রাপ্ত শিক্ষক ও প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত কেয়ার-গিভারের সমন্বয়ে স্কুলগুলো পরিচালিত হচ্ছে। এসব স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭ হাজার ৭০৯ জন।

একই দলের এ কে এম রহমতুল্লাহের প্রশ্নের জবাবে মেনন বলেন, দেশের প্রতিবন্ধীদের সমাজের বোঝা না ভেবে সমাজের বিভিন্ন সেক্টরে কাজে লাগিয়ে জাতীয় উন্নয়নে শামিল করতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ ছাড়া সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় প্রতিবন্ধীদের জন্য অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি কর্মসূচি এবং দগ্ধ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে চলেছে। এ ছাড়া মমতাজ বেগমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, চলমান ২০১৭-১৮ অর্থবছরে অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৬২৪ জন হতে বাড়িয়ে ২ হাজার ৮৫৯ জন করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সদস্য মো. ফরিদুল হক খানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় ১৯৯৯-২০০১ সালের মধ্যে দেশের ৬টি বিভাগে ৬টি শান্তি নিবাস, অর্থাত্ বৃদ্ধাশ্রম চালু করা হয়। পরবর্তীতে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এগুলোকে সেফহোমে রূপান্তর করা হয়। বর্তমান সরকার ওই সেফহোমের পাশাপাশি পুনরায় ৬টি বৃদ্ধাশ্রম চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতিমধ্যে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদিতও হয়েছে। তবে জনবল নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকায় আপাতত শান্তি নিবাসগুলো সীমিত আকারে পরিচালিত হচ্ছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনায় দেশের ৮৫টি সরকারি শিশু পরিবারে ১০ আসনের বৃদ্ধাশ্রম চালু করার নির্দেশনা দিয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।

একই দলের সদস্য আবদুর রউফের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরে বয়স্কভাতা কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা ৪৫ হাজার ২৯৮ জন থেকে ৫ হাজার ৫৩০ জন বাড়িয়ে ৫০ হাজার ৮২৮ জন করা হচ্ছে।


মন্তব্য