kalerkantho


ইউনিসেফের বিবৃতি

ঝড়-বৃষ্টির মৌসুমে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ৫ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শিশু

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৯:৩৩



ঝড়-বৃষ্টির মৌসুমে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ৫ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শিশু

ফাইল ফটো

আসন্ন ঘূর্ণিঝড় ও বৃষ্টির মৌসুমে বাংলাদেশের আশ্রয় নেয়া ৫ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি শিশু মারাত্মক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে ইউনিসেফ। 

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউনিসেফের প্রতিনিধি এডোয়ার্ড বেইগবেদের আজ এক বিৃতিতে বলেন, ইতোমধ্যে সৃষ্ট ভয়ানক মানবিক পরিস্থিতি ঘূর্ণিঝড় ও মৌসুমী ঋতুতে আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। কয়েক লাখ শিশু ভয়ঙ্কর পরিবেশে বাস করছে। সামনে বন্যা, রোগ, ভূমিধস ও আবার স্থানচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে তারা।

তিনি আরও বলেন, অনিরাপদ খাবার পানি, অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও অপ্রতুল পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির কারণে কলেরা ও গর্ভবতী নারী ও তাদের সন্তানের জন্য মারাত্মক হেপাটাইটিস-ই’র প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। এছাড়া বদ্ধপানির জলাশয়ে ম্যালেরিয়ার জীবাণুবাহী মশার বিস্তার ঘটতে পারে। শিশুদের এসব রোগ-বালাই থেকে রক্ষা করা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

বিৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ও আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে চার হাজারের বেশি লোকের ডিপথেরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ২৪ শিশুসহ ৩২ জন মারা গেছে। 

ইউনিসেফ ও সহযোগীরা ডিপথেরিয়ার টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেছে। শিশু ও পরিবারগুলোকে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধার আওতায় আনার চেষ্টা করছে তারা। তবে অতিরিক্ত ভীড় ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সেখানে মারাত্মক রোগের ঝুঁকি আবারও বাড়ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, রোগের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কার পাশাপাশি আগামী বর্ষা ঋতুতে বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে, যা শিশুদের জীবনের জন্য সরাসরি ঝুঁকি। এমনকি মৌসুমের আগে সামান্য ঝড়ও সেখানে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। মার্চে বৃষ্টির মৌসুম শুরু হওয়ার আগে তাই প্রস্তুতির জন্য খুব কম সময়ই পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশে সাধারণত দুই মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন জলোচ্ছ্বাস হয়ে থাকে। মার্চ থেকে জুলাই ও সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর। তবে সবচেয়ে বেশি ঝড় হয় মে ও অক্টোবর মাসে। গত বছরের মে মাসে এই এলাকায় ঘূর্ণিঝড় মোরা’র আঘাতে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের অনেক ঘর ধ্বংস হয়ে যায়। আহত হয় অনেক মানুষ।

এছাড়াও জুন মাসে বৃষ্টির কারণে ব্যাপক ভূমিধস ও বন্যা দেখা দিতে পারে। এমন ঝড় বা বন্যায় শরণার্থীদের বাসস্থান, পানির ব্যবস্থা, পয়ঃনিষ্কাশন ও অবকাঠামোগত সুবিধা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।


মন্তব্য