kalerkantho


বস্তায় ভরে পাঁচ কোটি টাকা নেওয়া সেই সেতাফুলকে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ২০:৫২



বস্তায় ভরে পাঁচ কোটি টাকা নেওয়া সেই সেতাফুলকে গ্রেপ্তার

বস্তায় ভরে পাঁচ কোটি টাকা নেওয়া কিশোরগঞ্জের সেই আলোচিত সেতাফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

ভূমি অধিগ্রহণের টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগে সিনিয়র সহকারী সচিব (পিরোজপুর জেলা ভূমি অধিগহণ কর্মকর্তা) মো. সেতাফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দুদকের একটি টিম। আজ বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পিরোজপুর সার্কিট হাউজের সামনে থেকে আটক করা হয়। 

দুদকের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের সমন্বিত একটি টিম অভিযান চালিয়ে সেতাফুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে বলে কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেন দুদকের উপ-পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য। গ্রেপ্তারের কিছুক্ষণ আগেই কিশোরগঞ্জ সদর থানায় দুদকের সহকারী পরিচালক রাম প্রসাদ বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের পরপরই বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের কর্মকর্তারা তাকে গ্রেপ্তার করেন।

সেতাফুল ইসলাম কিশোরগঞ্জ জেলায় ভূমি অধিগহণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরবর্তী সময়ে কিশোরগঞ্জে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠার পরপরই তাকে সেখান থেকে বদলি করে পিরোজপুর জেলায় অধিগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ভূমি অধিগহণ ওই কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনকালে অসৎ উদ্দেশে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনুমোদিত ভূমি অধিগ্রহণের (এল-কেস)  সরকারি পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাত করেন। অভিযোগ উঠছে, একটি সিন্ডিটের সঙ্গে যোগসাজোস করে জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের প্রায় ১৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে গেছেন সরকারের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা সেতাফুল ইসলাম। এর মধ্যে পরপর দুই দিনে তিনি সোনালি ব্যাংকের কিশোরগঞ্জ শাখা থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা তুলে বস্তায় ভরে নিয়ে গেছেন এমন অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। দৈনিক কালের কণ্ঠে সবার আগেই দুর্নীতিবাজ অধিগ্রহণ কর্মকর্তা সেতাফুল ইসলামকে নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন ছাপা হয়। সেই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার সরকারের উপর মহলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। ওই প্রতিবেদনের পর দুদকও বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখতে শুরু করে।প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে জালিয়াতি করে টাকা হাতিয়ে নেয়া প্রমাণ হওয়ায় সেতাফুলের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দেয় কমিশন। অনুমোদন পাওয়ার পরপরই কিশোরগঞ্জে দুদক কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলাটি করেন এবং সেতুফুল গ্রেপ্তার হন।


মন্তব্য