kalerkantho


সংসদে রেলমন্ত্রী

রেলওয়ের সাড়ে তিন হাজার একর জমি অবৈধ দখলে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ২৩:৩৬



রেলওয়ের সাড়ে তিন হাজার একর জমি অবৈধ দখলে

রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক জানিয়েছেন, বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের জমির পরিমাণ ৬১ হাজার ৮৬০ একর। এর মধ্যে রেলওয়ের নিজ দখলে থাকা জমির পরিমাণ ৫৬ হাজার ৯৭০ একর। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে তিনি এতথ্য জানান।

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরো জানান, রেলওয়ের অবৈধ দখলীয় জমির পরিমাণ ৩ হাজার ৬৪৭ একর। উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধ দখলীয় রেলভূমি উদ্ধার/ অবৈধ দখল মুক্তকরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগ কর্তৃক স্থানীয় প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, রেলওয়ের অন্যান্য সংশস্নষ্টি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়ে থাকে। ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট প্রায় ১২৩ একর রেলভূমি অবৈধ দখল মুক্তকরত রেলওয়ের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে রেলওয়ের জমির পরিমাণ ২৫ হাজার ২৮ দশমিক ৬৬৯ হেক্টর বা ৬১ হাজার ৮৬০ একর। এরমধ্যে রেলওয়ে ভূ-সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী ৫ হাজার ৮৫৫ দশমিক ৫৮৭ হেক্টর একর রেলভূমি একসনা লীজ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি দলের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে রেলপথ মন্ত্রী জানান, দেশের গুরুত্বপূর্ণ রেলপথগুলো ডাবল লাইনে উন্নীত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৩৪৭ কিলোমিটার রেলপথ ডাবল লাইন রয়েছে।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের অগ্রগতি : সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সেলিনা বেগমের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিছেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পের সার্বিক ভৌত অগ্রগতি ৫০ শতাংশ। পদ্মা নদীর মাটির লেয়ারের ভিন্নতার কারণে ১৪টি পিয়ার লোকেশনে পাইলের ডিজাইন চূড়ান্ত করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। এ ধরনের কাজে অভিজ্ঞ দেশ/বিদেশের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে বিষয়টি দ্রম্নত নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যে পদ্মা সেতুর একটি স্প্যান বসানো হয়েছে এবং চলতি জানুয়ারি মাসে আরো একটি স্প্যান বসানো হবে। এটি বাস্তবায়নে পাইল ড্রাইভিং এবং পিয়ার কলামের পাশাপাশি অবশিষ্ট স্প্যানগুলো পর্যায়ক্রমে বসানোর মাধ্যমে চলতি বছরের ডিসেম্বর নাগাদ সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আবদুল মতিনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, অন-টেস্ট স্টিকার লাগিয়ে মটর সাইকেল রাস্তায় চলাচলে বন্ধ করছে বিআরটিএ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ কর্তৃক এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। মোটর সাইকেলের ইঞ্জিন ক্যাপাসিটি ১০০ সিসি বা এর কম এবং ওজন ৯০ কেজি বা এর কম হলে রেজিস্ট্রেশন ফি ভ্যাটসহ ৯ হাজার ৩১৩ টাকা। ১০০ সিসির বেশি হলে রেজিস্ট্রেশন ফি ভ্যাটসহ ১২ হাজার ৭৩ টাকা। ক্রেতার কাছে হস্তান্তরের পূর্বেই মোটরসাইকেল ও থ্রি হুইলার অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশনসহ যাবতীয় কার্যক্রম বিক্রয়কারী এজেন্ট/ডিলার নিশ্চিত করবে এমন সরকারি সিদ্ধান্ত রয়েছে।

বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭১ ভাগ : সরকার দলীয় অপর সংসদ সদস্য আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইনের প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি দেশের সাক্ষরতার হার ছিল ৪১ দশমিক ১৫ শতাংশ। বর্তমানে দেশে সাক্ষরতার হার ৭১ শতাংশ। নারী সাক্ষরতার হার ৬৮ দশমিক ৯ ভাগ এবং পুরুষ সাক্ষরতার হার ৭৩ শতাংশ। এছাড়া দেশের সকল জেলার মধ্যে ঢাকা জেলায় সবচেয়ে বেশি ৭০ ভাগ সাক্ষরতার হার।

মন্ত্রী আরো জানান, জেলাওয়ারী সাক্ষরতার হারের মধ্যে ঢাকায় ৭০ দশমিক ৫৪ ভাগ, ঝালকাঠিতে ৬৬ দশমিক ৬৮ ভাগ, পিরোজপুরে ৬৪ দশমিক ৮৫ ভাগ, গাজীপুরে ৬২ দশমিক ৬০ ভাগ, নড়াইলে ৬১ দশমিক ২৭ ভাগ, বরিশালে ৬১ দশমিক ২৪ ভাগ, খুলনায় ৬০ দশমিক ১৪ ভাগ, ফেনীতে ৫৯ দশমিক ৬৩ ভাগ, বাগেরহাটে ৫৮ দশমিক ৯৮ ভাগ, চট্টগ্রামে ৫৮ দশমিক ৯১ ভাগ, কুমিল্লা ৫৩ দশমিক ৩২ ভাগ, সিলেট ৫১ দশমিক ১৮ ভাগ, রাজশাহী ৫২ দশমিক ৯৮ ভাগ, রংপুর ৪৮ দশমিক ৫৫ ভাগ এবং ময়মনসিংহ ৪৩ দশমিক ৪৯ ভাগ।


মন্তব্য