kalerkantho


বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

ঢাকায় বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো থামছে না

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ মার্চ, ২০১৮ ০৯:০০



ঢাকায় বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো থামছে না

ঢাকার মিরপুর রোডে কল্যাণপুর এলাকা। সকালের ব্যস্ত রাস্তায় ঝাঁকে-ঝাঁকে মোটর সাইকেল রাস্তা কিংবা ফুটপাত দিয়ে এঁকে-বেঁকে এগিয়ে যাচ্ছে। দূর থেকে দেখা গেল একজন মোটরসাইকেল আরোহী এবং একজন মাইক্রোবাস চালকের মধ্যে ঝগড়া চলছে।

কেন এই ঝগড়া? এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করতেই মাইক্রোবাস চালক মো. সিরাজ তীব্র ক্ষোভ ঝাড়লেন মোটরসাইকেল আরোহীর বিরুদ্ধে। ততক্ষণে মোটরসাইকেল আরোহী চলে গেছেন।

সিরাজ বলেন, 'কিচ্ছু বুঝে না। হের (মোটরসাইকেল আরোহী) কথা অইলো হের আগে যাইতে অইবো। রং সাইড দিয়া ঢুইকা বলে যে আমরা আগে যাইয়া লই।' 

বাংলাদেশে, বিশেষ করে ঢাকা শহরে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেশ বেড়েছে।

এ বাহনটি দিনে-দিনে যেমন জনপ্রিয় হচ্ছে, তেমনি মোটরসাইকেল চালকদের বিরুদ্ধে বেপরোয়া আচরণের অভিযোগও জোরালো হচ্ছে। একইসঙ্গে মোটরসাইকেল আরোহীদের দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান ও ভারি হচ্ছে।

বিপদজনক বাহন হিসেবে মোটরসাইকেলের পরিচিতি থাকলে ঢাকার মতো শহরগুলোতে চলাচলের জন্য অনেকেই এটিকে বেছে নিচ্ছেন।

মোটর সাইকেলের যখন এমনিতেই যখন বাড়ছে, তখন তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মোবাইল অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেল পরিবহন সেবা। এ সেবা আসার পরও অনেকে নতুন করে মোটরসাইকেল কিনেছেন বাড়তি লাভের আশায়।

তীব্র যানজটের ঢাকা শহরে দ্রুত গতিতে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়ার জন্য মোটরসাইেকেলের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন আরোহীরা।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ সেন্টারের সাবেক পরিচালক শামসুল আলম বলেন, 'বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মোটরসাইকেল একটি ঝুঁকিপূর্ণ বাহন। চার চাকার বাহনের তুলনায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ঝুঁকি ৩০ গুণ বেশি বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক শামসুল আলম।

মানুষ নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এ বাহনটির দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে বলে অধ্যাপক আলম মনে করেন। শহরের বিভিন্ন জায়গায় সুযোগ পেলেই বেপরোয়া মোটর সাইকেল চালানো কিংবা ফুটপাতের ওপর দিয়ে মোটরসাইকেল চালানো একটি নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনা।

পথচারীদের অভিযোগ অনেক মোটরসাইকেল আরোহী ফুটপাতের ‌ওপর দিয়ে মোটরসাইকেল চালানো তাদের অধিকার বলে মনে করে। তাছাড়া সড়কের সিগন্যালে অপেক্ষার ধৈর্যও তাদের থাকে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

কিন্তু এমন পরিস্থিতির জন্য মোটরসাইকেল আরোহী ফরহাদ হোসেন দায়ী করলেন অন্য বাহনকে। তিনি  বলেন, 'আমাদের জন্য রাস্তার বাম পাশে কয়েক ফুট জায়গা ছেড়ে দিক। তাহলে তো আমরা যেতে পারি। কিন্তু বাস কিংবা প্রাইভেটকারগুলো সে সুযোগ দিতে চায় না।'

মোটরসাইকেল যাতে ফুটপাতের ওপর দিয়ে চলতে না পারে সেজন্য ২০১২ সালে হাইকোর্ট একটি নির্দেশনা দিয়েছে। ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে ফুটপাতের ওপর যাতে মোটরসাইকেল উঠতে না পারে সেজন্য স্টিলের পাইপ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে।

অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ সেন্টারের সাবেক পরিচালক শামসুল আলম বলেন, 'তীব্র যানজটের কারণে সাবাই দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য ব্যাকুল।' যানজট সমস্যার সমাধান না হলে এ প্রবণতা ঠেকানো বেশ মুশকিল বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক আলম।

পুলিশ বলছে, বেপরোয়া কিংবা ফুটপাতে মোটরবাইক চালানোর বিরুদ্ধে শহরের বিভিন্ন জায়গায় জরিমানা করা হচ্ছে। কিন্তু আরোহীদের সচেতনতা ও মানসিকতা না বদলালে এটি পুরোপুরি বন্ধ করা মুশকিল বলে মনে করে  পুলিশ।


মন্তব্য