kalerkantho


পৃষ্ঠপোষকতা চান বাংলা চ্যানেলে বিশ্ব রেকর্ডধারী রাসেল

সোহেল হাফিজ, বরগুনা    

১৬ এপ্রিল, ২০১৮ ১২:৪৮



পৃষ্ঠপোষকতা চান বাংলা চ্যানেলে বিশ্ব রেকর্ডধারী রাসেল

দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে জীবন সংগ্রাম থেকে প্রতিনিয়ত ঝরে পড়ছে হাজারো তরুণ। আবার দারিদ্র্যের মাঝে থেকেও শত প্রতিবন্ধতাকে ডিঙিয়ে অক্লান্ত শ্রম আর চেষ্টার মধ্য দিয়ে কেউ কেউ ঠিকই পৌঁছে যায় কাঙ্খিত লক্ষ্যে। বরগুনার মেধাবী তরুণ রাসেল তাদেরই একজন। সম্প্রতি বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়ে বিশ্বসেরা সাঁতারুদের পেছনে ফেলে গত ১২ বছরের রেকর্ড ভেঙেছেন তিনি।

এর আগে ইংলিশ চ্যানেল বিজয়ী নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত সাঁতারু ভিকি ভ্যানগোল এ বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেন তিন ঘণ্টা ৪৭ মিনিটে। এ ছাড়া ইংলিশ চ্যানেল বিজয়ী অপর এক ইন্ডিয়ান সাঁতারু ঋতু কেদিয়া বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেন তিন ঘন্টা ৪০ মিনিটে। সর্বশেষ গত ১৯ মার্চ মাত্র তিন ঘণ্টা আট মিনিট সাত সেকেন্ডে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়ে গত ১২ বছরের সকল রেকর্ড ভাঙলেন ২২ বছরের যুবক সাইফুল ইসলাম রাসেল। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিখ্যাত আন্ডার ওয়াটার ফটোগ্রাফার ও ডাইভার প্রয়াত হামিদুর রহমানের স্মরণে ২০০৬ সাল থেকে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ফরচুন বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার এ আয়োজন। টেকনাফের শাহপরী দ্বীপের ফিশারিজ জেটি থেকে শুরু হয় এ প্রতিযোগিতা। ১৬.১ কিলোমিটার সমুদ্র পাড়ি দিয়ে তা শেষ  হয় সেন্ট মার্টিনস দ্বীপে। দুজন নারীসহ ২৮ জন সাঁতারু অংশ নেন এবারের ফরচুন বাংলা চ্যানেল ২০১৮ প্রতিযোগিতায়। শেষ পর্যন্ত টিকে থাকেন মাত্র ১৮ জন। 

সরোজ অ্যাডভেঞ্চার ও এক্সট্রিম বাংলার আয়োজনে ফরচুন বাংলা চ্যানেল ২০১৮ অনুষ্ঠিত হয় চলতি বছর ১৯ মার্চ। এ আয়োজনকে সফল করতে সার্বিক সহযোগিতা দেয় বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট করপোরেশন, বাংলাদেশ নেভি, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, এনসিসি ব্যাংক এবং ব্র্যাক ব্যাংক।

বরগুনার ছেলে রাসেল বরগুনা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ২০১০ সালে এএসএসসি পাশ করেন। তার বাবা একজন দরিদ্র দোকানি। টানাটানির সংসার। এ গলি ও গলি টিউশনি করে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ তার। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগ থেকে অনার্স ফাইনাল দিয়েছেন তিনি। খেয়ে না খেয়ে কেটেছে তাঁর শিক্ষা জীবন। দরিদ্র পরিবার থেকে পাননি এতটুকু সহযোগিতা। তবু থেমে থাকেনি তার জীবন সংগ্রাম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হল শাখা ছাত্রলীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাসেল। ক্রীড়া জগতের অধিকাংশ অঙ্গনেই রয়েছে তাঁর সমান পদচারণা। সাঁতারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন তিনি।

আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সাঁতারে বর্তমান রানার আপ। হ্যান্ডবল, ফুটবল, ব্যাডমিন্টন এবং দৌড়েও রয়েছে তাঁর বিশেষ অর্জন। বিশেষ ঝোঁক রয়েছে তার ড্যান্সেও। ইউটিউব দেখে ড্যান্সের চর্চা চালিয়ে যান তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‌আন্তঃবিভাগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে রাসেলের ব্রেক ড্যান্স থেকে মুগ্ধ হন সবাই।

২০১৭ সালে সুইমিং ট্যালেন্ট হান্ট-এর মাধ্যমে সারা দেশের ২৫ হাজার সাঁতারুর মধ্য থেকে বাছাই করা সেরা ১৬০ জনের একজন রাসেল। সেসময় বাংলাদেশ ন্যাশনাল সুইমিং কমপ্লেক্সে চার মাসের একটি প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করেন তিনি। এরপর থেকেই সাঁতারের নেশা পেয়ে বসে তাকে। এখন তার একটাই স্বপ্ন- ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়া। স্বপ্ন আছে বিশ্বের নামকরা সাতটি চ্যানেলই পাড়ি দেওয়ার। বিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে দেশের সত্যিকারের একজন সেবকও হতে চান রাসেল। দূর করতে চান বাবা-মায়ের দুঃখও।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী থাকাকালে  বরগুনার বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন রাসেল। ন্যাশনাল চিলড্রেন টাক্স ফোর্স (এনসিটিএফ)-এর শিশু সাংবাদিক ছিলেন রাসেল। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে চতুর্থ তিনি। তার পিতা মো. নূরুল ইসলাম বরগুনার শহরতলী খেজুরতলা এলাকায় একটি মুদির দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার মা রাহিমা বেগম একজন গৃহিনী।

বরগুনার এই মেধাবী যুবক একসময় বিশ্বসেরা সাঁতারু হয়ে উজ্জ্বল করবেন বাংলাদেশের মুখ- এমনটাই প্রত্যাশা রাসেল ও তার বন্ধুদের। এ জন্য চাই সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। এ লক্ষ্যে কালের কণ্ঠের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সহানুভূতি চেয়েছেন তিনি। 



মন্তব্য