kalerkantho


নির্বাচনী বছরে সংযত অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা বজায় রাখার পরামর্শ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ এপ্রিল, ২০১৮ ১৭:৩১



নির্বাচনী বছরে সংযত অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা বজায় রাখার পরামর্শ

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) নির্বাচনী বছরে সরকারকে দেশে সংযত সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সিরডাপ মিলনায়তনে আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনায় এই সুপারিশ তুলে ধরে সংস্থার বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘নির্বাচনী বছরে প্রত্যাশা বেশি থাকে-এর মধ্যেও আপনারা বাস্তববাদী হোন। সংযত সামষ্টিক অর্থনীতি ব্যবস্থাপনা বজায় রাখুন। এর মানে-ঋণের প্রবাহ, সুদের হার, মুদ্রা বিনিময় হার এবং সরকারের ব্যয়ের ক্ষেত্রে সংযত থাকুন। বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত মুদ্রানীতি মেনে চলুন এবং এমন কিছু করবেন না, যাতে মূল্যস্ফীতি বাড়ে।’ একইসাথে তিনি আসন্ন বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষাখাতে অর্থ বরাদ্দ বাড়ানোর সুপারিশ করেন।

দেবপ্রিয় বলেন, নির্বাচনের ডামাডলে গরীব মানুষ যেন মারা না যায়। এজন্য সামাজিক নিরাপত্তা খাতে অর্থায়ন বাড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অন্তত দেড় শতাংশ বরাদ্দ রাখার সুপারিশ করেন তিনি।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ (এসডিজি) বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতের অর্থ ব্যবহারের সুযোগ তৈরির পরামর্শ দিয়ে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, যেহেতু আমরা সাফল্যের সঙ্গে এমডিজি বাস্তবায়ন করেছি। তাই এসডিজি বাস্তবায়নে বৈদেশিক সহায়তা সেভাবে পাওয়া যাবে না। সেক্ষেত্রে এসডিজি বাস্তবায়ন বা দারিদ্র বিমোচনে দেশের বেসরকারিখাত (এনজিও) থেকে অর্থায়ন কিভাবে করা যায় সেটা নিয়ে ভাবা যেতে পারে। 

সিপিডি আগামী বাজেটে করমূক্ত আয়সীমা তিন লাখ টাকা করার প্রস্তাব করে। 

দেশে শোভন কর্মসংস্থান হচ্ছে না উল্লেখ করে দেবপ্রিয় বলেন, দেশে আয়হীন কর্মসংস্থান হচ্ছে। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) উচ্চতর প্রবৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ হলেও কর্মসংস্থান আরো গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আগে ছিল কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি, এখন হয়ে গেছে আয়হীন কর্মসংস্থান।

তিনি বলেন, সরকারের হিসাবে-কর্মসংস্থান বেড়েছে, এর বিপরীতে আমরা দেখছি দেশের মানুষের প্রকৃত গড় আয় কমেছে। এর মধ্যে নারী এবং গ্রামের মানুষের আয় বেশি কমেছে। যে কর্মসংস্থান হচ্ছে-তার অধিকাংশই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে। যেখানে শ্রমের অধিকার নেই এবং মজুরী কম। অন্যদিকে শিক্ষিত বেকারত্ব বাড়ছে।

সিপিডির বিশেষ ফেলো আরো বলেন, প্রবৃদ্ধির হার, আয়ের হার, কর্মসংস্থানের হার এবং উৎপাদনের পরিমাণ বাড়লেও এগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্য আছে কি না, সেটা একটা প্রশ্ন। যদি সামঞ্জস্য না থাকে, তাহলে চিন্তার বিষয়। প্রবৃদ্ধির হার ৭ কিংবা ৮ বিষয় নয়, এটা দিয়ে কর্মসংস্থান এবং মানুষের আয় বাড়লো কিনা-সেদিকে নজর দিতে হবে।

ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকটকে রোগের উপসর্গ অভিহিত করে দেবপ্রিয় বলেন, ‘তারল্য সংকট কেবলমাত্র রোগের উপসর্গ। মূল রোগটা হলো-ব্যাংকিং খাতে বিকলাঙ্গ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংকিং খাত নিতান্তই এখন এতিমে পরিনত হয়েছে। এই খাতের রক্ষকরা (ব্যাংক মালিক) ভক্ষক হয়ে এতিম শিশুকে নির্যাতন করছে।’

নির্বাচনী বছরে রেমিটেন্স প্রবাহ যেমন বেড়ে যায়-তেমনি অর্থ পাচারেরও ঝুঁকি থাকে এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ব্যাংক, পুঁজিবাজার ও আমদানি এই তিন মাধ্যমে দেশের বাইরে অর্থ পাচার হয়ে থাকে। সেদিকে সরকার বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংককে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি। 

এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, মুদ্রানীতির ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ১৬ দশমিক ৫ ছাড়িয়ে এখন ঋণপ্রবাহ ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ। অথচ ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ জিডিপির তুলনায় তিন বছর ধরে একই জায়গায় আটকে আছে। তিনি প্রশ্ন করেন, এত টাকা গেল কোথায়?

চলতি অর্থবছরের বাজেট পর্যালোচনায় সিপিডি বলছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং নন-এনবিআর মিলে এ বছর ৫০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হওয়ার আশংকা রয়েছে।

প্রতিবছরের এই সময়ে ‘বাংলাদেশের উন্নয়নে স্বাধীন পর্যালোচনা (আইআরবিডি)’ এবং বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করে থাকে সিপিডি। এবারের আইআরবিডি দলের সমন্বয়ক হচ্ছেন সিপিডির গবেষণা ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান। পর্যালোচনায় বাংলাদেশের অর্থনীতির সার্বিক দিকটি তুলে ধরেন তিনি।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন ও গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বক্তব্য রাখেন।


মন্তব্য