kalerkantho


গবেষণা ইনস্টিটিউটের অনুষ্ঠানে তথ্য

পাট বীজের ৯০ ভাগ বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়

পাটের নতুন জাত উদ্ভাবনের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার তাগিদ কৃষিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ মে, ২০১৮ ২১:৪৬



পাট বীজের ৯০ ভাগ বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়

দেশে প্রতি হেক্টরে নির্ধারিত সময়ে অধিক, উন্নত মানের পাট এবং এ জাতীয় ফসলের আঁশ উৎপাদন, প্রান্তিক এবং অপ্রচলিত (লবণাক্ত, পাহাড়ী, চরাঞ্চল) জমিতে আবাদোপযোগী উন্নতমানের দেশি, তোষা, কেনাফসহ পাটের বিভিন্ন জাত উদ্ভাবনে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট। তবে কষ্টের কথা হলো বাংলাদেশ পাট উৎপাদনে শ্রেষ্ট হলেও এখনো পাট বীজের ৯০ শতাংশই বাইরের দেশ থেকে আমদানি করতে হয়। কেন জানি বীজ সংরক্ষণ প্রক্রিয়া একটা স্থায়ী সমাধানের দিকে যাচ্ছে না। 

আজ বুধবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক অনুষ্ঠানে এমন তথ্য তুলে ধরেন বক্তারা। 

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ক্রমাগত জমির জৈব উপাদানের ঘাটতি, জমির উর্বরতা শক্তির ক্রম হ্রাসকে মোকাবিলা করার জন্য প্রচলিত মাত্রায় সার ব্যবহারের পরিবর্তে বর্তমানে জাত ও জমি ভিত্তিক সুনির্দিষ্ট সারের মাত্রা নির্ধারিত করা হচ্ছে। দীর্ঘবছর ধরে একই ধরনের ফসল আবাদ করে জমির পুষ্টির ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি এবং একই ধরনের রোগ বালাইয়ের প্রাচুর্য দমন করতে সাফল্য এসেছে তা ধরে রাখতে হবে। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, দেশে বিদেশে পাট এখন পরিবেশ বান্ধব একটি অর্থকরি ফসল। পাট থেকে যেভাবে বহুমুখিপন্যতৈরী এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সেভাবে দেশে উন্নতমানের পাটের বীজ উত্পাদনেও বিজ্ঞানীদের গবেষনায় আরো জোর দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, দেশের কৃষি পরিবেশ ও কৃষকদের চাহিদা বিবেচনায় পাটের নতুন নতুন জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট। তাদের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে যেকোন ধরনের সহায়তা দিয়ে যাবে সরকার।
অনুষ্টানে পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মঞ্জুরুল আলম বলেন, পাট চাষাবাদ লাভজনক করা এবং পরিবেশ বান্ধব এ আঁশ ফসলের আবাদ অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে এ পর্যন্ত পাট এবং পাট জাতীয় ফসলের ৪৫টি উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে, যার মধ্যে দেশি পাট ২৪টি, তোষা পাট ১৫টি, কেনাফ ৪টি ও মেস্তা ২টি। উক্ত ৪৫টি জাতের মধ্যে বর্তমানে ৯টি দেশি, ৬টি তোষা, ৩টি কেনাফ এবং ২টি মেস্তা জাতের বূজ বাণিজ্যক ভাবে উত্পাদিত ও আবাদ হচ্ছে।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে পাট পচনের সময় প্রায় সকল পাট আবাদী এলাকায় পানির তীব্র অভাব দেখা দেয়। ফলে কৃষক উন্নত জাতের পাট উত্পাদন করলেও পচন পানির অভাবে নিম্নমানের পাট উত্পাদিত ও বাজারজাত হচ্ছে। এ অবস্থা নিরসনকল্পে স্থানোপযোগী এবং স্বল্প পানিতে পচানোর জন্য উন্নত পাট পচন পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে। সরাসরি পাট গাছ পচানো, পাটের ছাল পৃথক করে পচানো এবং একান্তই পানি না থাকলে বা উত্পাদন অধিক হলে পৃথককৃত পাটের কাচাঁ ছাল শুকিয়ে সংরক্ষণ এবং পরবর্তী সময়ে তা পচিয়ে উন্নত আঁশ উত্পাদন প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করা হয়েছে। পাটের পোকা মাকড় দমনে বিদেশ নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশ বান্ধব উদ্ভিজ্জ বা দেশজ প্রাকৃতি কীটনাশক ব্যবহার কৌশল এবং কীটনাশক উদ্ভাবন করা হয়েছে।

বক্তারা বলেন, কৃষক পর্যায়ে উত্পাদিত পাট বীজের সংরক্ষন পদ্ধতি উদ্ভাবন এবং কৃষকদের সে পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। পাট বীজের জন্য পর নির্ভরশীলতা কমানোর লক্ষ্যে স্বল্পাকারে কৃষক পর্যায়ে পাট বীজ উৎপাদন পদ্ধতি ও নাবী পাট বীজ উৎপাদন কৌশল উদ্ভাবন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পাট, বিশেষ করে কেনাফ ও মেস্তা জার্মপ্লাজম সংগ্রহ এবং তা মূল্যায়ন করে উত্তরোত্তর পাট এবং এ জাতীয় আঁশ ফসল উন্নয়ন প্রচেষ্টা চলছে।


মন্তব্য