kalerkantho


ছোট্ট শিশুটির মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না : ডা. সামন্তলাল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ মে, ২০১৮ ১২:২৪



ছোট্ট শিশুটির মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না : ডা. সামন্তলাল

রক্তনালীর টিউমারে আক্রান্ত সাতক্ষীরার শিশু মুক্তামণির মৃত্যুর সংবাদটি কিছুক্ষণ আগেই জেনেছি। চিকিৎসক জীবনে এ রকম সংবাদ খুব কমই শুনতে হয়েছে। জীবনে বহু রোগীর চিকিৎসা করে সুস্থ করে তুলেছি, আবার বহু রোগীর মৃত্যুও দেখেছি। কিন্তু মুক্তামণির মৃত্যু আমার জন্য হার্ট ব্রেকিং খবর। ছোট্ট এ শিশুটির ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক ইউনিটের প্রধান সমন্বয়কারী ডা. সামন্তলাল সেন। আজ বুধবার সকালে মুক্তামণির মৃত্যুতে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, মুক্তামণির চিকিৎসার খোঁজ নিতে মঙ্গলবার সাতক্ষীরা থেকে একজন চিকিৎসক পাঠানো হয়েছিল। তার বাড়িতে নিয়মিত চিকিৎসক পাঠানো হতো। আমাদের ইচ্ছা ছিল মুক্তামণিকে ঢাকায় আনা। এ জন্য ওর বাবার সঙ্গে কয়েক দফা কথাও হয়েছে। মুক্তামণির বাবাকে বলি, ঢাকায় না হউক অন্তত সাতক্ষীরা হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু তার বাবা রাজি হয়নি। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেছিলেন- স্যার, অনেক তো চেষ্টা করেছেন। ভাগ্যে খারাপ- ভাল হয় নাই। এখন মেয়েটা অনেক কষ্ট পাইতাছে। আর টানাহেঁচড়া করতে চাই না। আল্লাহর হাতে ছাইড়া দিছি। মরলে বাড়িতেই মরুক। আর আজ সকালেই তার মৃত্যু সংবাদ শুনতে হলো।

এদিকে মুক্তামণির খবর নিতে তার বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসকরা জানায়, মুক্তামণির শারিরিক অবস্থা খুবই খারাপ। হাতে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। মারাত্নক (হিমোগ্লোবিনের অভাব) রক্তশূন্যতায় ভুগছে। মুক্তামণি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ছয় মাস চিকিৎসা নিয়েছে। তার চিকিৎসায় কোনো ত্রুটি ছিল না। হাসপাতালের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসার জন্য সব চেষ্টা আমরা করেছি।

গত ২০১৭ সালের ১০ জুলাই তাকে ঢাকায় ভর্তি করার পর থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের দুই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. আবুল কালাম আজাদ ও ডা. সামন্তলাল সেনের নেতৃত্বে একটি মেডিকেল টিম ছয় মাস ধরে তাকে চিকিৎসা দেয়। এ সময় তার দেহে কয়েক দফা অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসায় তার স্বাস্থ্যের আশানুরূপ উন্নতি হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও মুক্তামণির চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। তিনি সরকারি খরচে তার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এদিকে ঢাকায় টানা ছয় মাস চিকিৎসা শেষে এক মাসের ছুটিতে মুক্তামণি ২০১৭ সালের ২২ ডিসেম্বর বাড়ি ফিরে যায়। এর পর থেকে ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়িতে রেখে তার চিকিৎসা চলতে থাকে। এরই মধ্যে তার অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে।

 


মন্তব্য