kalerkantho


সরিষা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র

চিকিৎসা তো দূরে থাক, দরজাও খোলা হয় না

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

২৪ মে, ২০১৮ ১৫:৫৯



চিকিৎসা তো দূরে থাক, দরজাও খোলা হয় না

প্রতীকী ছবি

মালেকা বেগম, রোকেয়া বেগম, আনোয়ারা বেগম, ফরিদা আক্তার, হালিমা বেগম ও মজিবুর রহমান সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পরিবার কল্যাণকেন্দ্র হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এসেছেন। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও চিকিৎসক তো দূরের কথা হাসপাতালের দরজাও খোলা হয়নি। এমন দৃশ্য প্রায় প্রতিদিনের। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সরিষা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণকেন্দ্রে গিয়ে এমন দৃশ্যই চোখে পড়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই হাসপাতালটিতে একজন ভিজিটর (এফডাব্লিওভি), একজন ফার্মাসিস্ট, একজন উপসহকারী মেডিক্যাল অফিসার (সেকমো) একজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক ও একজন আয়ার পদ রয়েছে। এর মধ্যে কেউই কর্মরত নেই। অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে আছেন অন্য কেন্দ্রের দুজন। তাঁরা আসেন সপ্তাহে এক দিন করে। ফলে এক ধরনের অচলাবস্থায় চলছে হাসপাতালটিতে। এ অবস্থায় গত বুধবার ও গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত রোগীরা চিকিৎসকের দেখা না পেয়ে ক্ষোভ ঝেড়ে চলে যায়। বৃদ্ধা হালিমা বেগম জানান, তিনি প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূর থেকে এসেছেন জ্বর সর্দি ও শরীর ব্যথার ওষুধ নিতে। সাবিহা বেগম তাঁর শিশুসন্তানকে নিয়ে এসেছেন চিকিৎসা করাতে। দিনমজুর সজীব উদ্দিন সদ্য বিবাহিত স্ত্রী লায়লা আক্তারকে নিয়ে সকাল থেকে অপেক্ষা করছেন চিকিৎসকের জন্য। তাঁর স্ত্রী অন্তঃসত্ত্ব্বা। চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে এসেছিলেন। এ অবস্থায় তাঁদের কেউই গত দুই দিনেও চিকিৎসকের দেখা পাননি।

ঈশ্বরগঞ্জ পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন জানান, এখানে পাঁচটি পদ থাকলেও জনবলের অভাবে কাউকে পোস্টিং দেওয়া যাচ্ছে না। অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে দুজনকে পাঠানো হয়। তাঁরা সপ্তাহে দুই দিন কাজ করেন। এ ঘটনা স্বীকার করে আঠারবাড়ী ইউনিয়ন কেন্দ্রের ভিজিটর (এফডাব্লিওভি) সামছুন্নাহার বেগম ও বড়হিত ইউনিয়ন কেন্দ্রের উপসহকারী মেডিক্যাল অফিসার (সেকমো) মিজানুর রহমান বলেন, ‘নিজের দায়িত্ব পালন করে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করা সত্যি কষ্টের। এখানে স্থায়ীভাবে লোকবল দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সপ্তাহে এক দিন এসে এলাকাবাসীদের সেবা দেওয়া যায় না।’ ময়মনসিংহ জেলা উপপরিচালক মো. আব্দুর রউফ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ওই কেন্দ্রটির জন্য প্রতি মাসেই লোকবল চেয়ে চিঠি পাঠানো হচ্ছে মন্ত্রণালয়ে। এরপরও কোনো ব্যবস্থা হচ্ছে না। তবে সম্প্রতি বেশ কিছু পদে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এখন হয়তো ওই কেন্দ্রে লোকবল দেওয়া যেতে পারে।’


মন্তব্য