kalerkantho


সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা

জঙ্গি ও জঙ্গিদের পৃষ্টপোষকদের ক্ষমতার বাইরে রাখতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ জুন, ২০১৮ ২২:৪৩



জঙ্গি ও জঙ্গিদের পৃষ্টপোষকদের ক্ষমতার বাইরে রাখতে হবে

জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ সালের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যরা বলেছেন, সরকারের মেয়াদ শেষে সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচন হতে হবে। আর সেই নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তির বিজয়ের মাধ্যমে জঙ্গি ও জঙ্গিদের পৃষ্টপোষক বিএনপি-জামায়াতকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে হবে।

আজ রবিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ওই আলোচনা চলাকালে সভাপতিত্ব করেন প্রথমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও পরে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া। আলোচনায় অংশ নেন জাসদ সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার, আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, সুবিদ আলী ভূঁইয়া, এ কে এম রহমতুল্লাহ, মো. আব্দুল লতিফ, গাজী ম ম আমজাদ হোসেন মিলন, মাহফুজুর রহমান, সিমিন হোসেন রিমি, শফিকুল ইসলাম শিমুল, ডা. হাবিবে মিল্লাত ও মো. মনিরুল ইসলাম, ওয়ার্কার্স পার্টির ইয়াছিন আলী, বিএনএফের এস এম আবুল কালাম আজাদ এবং বিরোধী দল জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম, নাসরিন জাহান রত্মা ও রওশন আরা মান্নান।  

আলোচনায় অংশ নিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, খালেদা জিয়ার কোন সক্ষমতা ছিল না, স্বপ্নও ছিল না। শুধুই ছিল ব্যর্থতা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সক্ষমতা, স্বপ্ন ও ভিশন আছে বলেই দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে সর্বত্রে। দেশের মানুষের হাতে হাতে এখন মোবাইল, ল্যাপটপ, ইন্টারনেট। গ্রামের মানুষের মুখে এখন স্বস্তির হাসি। বর্তমান সরকার খালেদা জিয়ার মতো হাওয়া ভবন বানায় না, দুর্নীতি করে না, বিদেশের ব্যাংকে লুটের টাকা ভরে না। বিএনপি-জামায়াত হচ্ছে অন্ধকারের অশান্তির শক্তি। অন্যদিকে শেখ হাসিনা হচ্ছে উন্নয়ন ও শান্তির দূত। দেশের জনগণকেই ঠিক করতে হবে তারা কোনো শক্তির সঙ্গে থাকতে চান। 

তিনি বলেন, সরকার জঙ্গিদের যেমন কোন ছাড় দিচ্ছে না, তেমনি দুর্নীতিবাজ-লুটেরাদের বিরুদ্ধে জিরোটলারেন্স নিয়ে দমন করতে হবে। কাউকেই ছাড় দেওয়া ঠিক হবে না। তিনি বলেন, কারো জন্য অপেক্ষা নয়, যথাসময়ে নির্বাচন হতে হবে। আর নির্বাচনী ফলাফলে জঙ্গিদের সঙ্গীকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, মানুষ অগ্নি সন্ত্রাস-জঙ্গি সন্ত্রাস পছন্দ করে না। সরকার তা রুখে দিয়েছে। এই সরকার নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলে ক্ষমতায় এসেছিলো। এক্ষেত্রে আমরা কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছেছি। এভারেস্ট জয় করেছে বাংলাদেশের নারীরা। শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। এখন উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ। 

তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে মানবতার এক মহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ। আর এজন্য সকল প্রশংসা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তিনি ইতোমধ্যে মাদার অব হিউম্যানিটি খেতার পেয়েছেন। তেমনি ভাবে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো বিশাল বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে সক্ষমতার জানান দিয়েছে। উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে তিনি আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতকরা জিয়া-মোশতাকের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে স্বাধীনতার মূল্যবোধকেই ধ্বংস করতে চেয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর খুনী, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে দেশকে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে দেশকে বের করে এনেছি। দেশ যখন সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে তখন একটি মহল নির্বাচন ও নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র করছে। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ব্যহত করার চক্রান্ত চলছে। রাজনৈতিক নয়, চুরি অর্থাৎ এতিমের টাকা আত্মসাত করায় খালেদা জিয়া জেলে রয়েছেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে ফের অগ্নিসন্ত্রাসের চেষ্টা করা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করা হবে। ষড়যন্ত্রের বিষদাত ভেঙ্গে দেওয়া হবে। 

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, লন্ডনে পলাতক থাকা দণ্ডিত আসামি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমান তার বাংলাদেশি পাশপোর্ট স্যারের করে নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন। এর প্রমাণ সংসদে তুলে ধরে তিনি বলেন, তারেক রহমান তার বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। এর অনেক প্রমাণ রয়েছে। একটি বিট্রিশ কম্পানির ডিরেক্টর হিসেবে তার নাম উল্লেখ রয়েছে, সেখানে তার নাগরিকত্বের উল্লেখ করা হয়েছে ‘ব্রিটিশ’। যদিও ৪ মাস পরে তা তুলে বদল করে বাংলাদেশি’ উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উইক্লিক্সসহ আরো কয়েকটি তদন্ত সংস্থা প্রকাশ করেছে।

শাহরিয়ার আলম বলেন, আমি যখন বললাম তারেক রহমান বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বর্জন করেছে, তখন বিএনপির পক্ষ থেকে আমাকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়। আমি তাদের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে প্রমাণ  দিয়েছি, সত্যি তারেক রহমান আর বাংলাদেশি নাগরিক নয়, তিনি পাসপোর্ট স্যারেন্ডার করে নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। 

তিনি আরো বলেন, বিএনপি এখন এমন একজন মানুষকে দলের প্রধান বানিয়ে রাজনীতি করছে, তার নির্দেশ-উপদেশে দল চলছে। যিনি এ দেশেরই নাগরিকই নন। তিনি কিভাবে একটি রাজনৈতিক দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সনের দায়িত্বে থাকেন, দলের কি অন্য কেউ নেই?

বিএনএফের এস এম আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিএনপি-জামায়াত নির্বাচন বর্জনের নামে সারা দেশে যে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, তার মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমার দল বিএনএফ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। এ কারণে দেশ সাংবিধানিক সঙ্কট থেকে রক্ষা পেয়েছে, দেশের এতো উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন হবে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যাঁকে প্রয়োজন পড়বে তাঁকে নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করবেন।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেছেন, চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বড় বড় ভিষন-মিশন থাকলেও সবচেয়ে যেটি প্রয়োজন ছিল সেই বিনিয়োগের জন্য তেমন কোনো সুখবর নেই। শিল্প প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগের বিষয়ে কার্যকর কোনো দিকনির্দেশনা পাওয়া যাইনি।

তিনি আরো বলেন, ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে আনার কথা বলতে বলতে বিনিয়োগকারীরা রীতিমতো হাফিয়ে উঠেছেন। যদিও আশার কথা, একেবারে শেষ সময়ে এসে নির্বাচনের ছয়মাস বাকি থাকতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেটি পহেলা জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে। কিন্তু এ উদ্যোগ যদি সময় থাকতে অন্ততঃ আরো ৪/৫ বছর আগে নেওয়া যেত তাহলে বিনিয়োগে কিছুটা গতি আসত। কর্মসংস্থান বাড়ত। দেশ আরো এগিয়ে যেত।

ওয়ার্কার্স পার্টির ইয়াছিন আলী বলেন, বাজেটে এমপিওভুক্তি নিয়ে বরাদ্দ পর্যাপ্ত না থাকায় আমরা সবাই হতাশ। বেসরকারি শিক্ষকরা মানবেতর জীবন-যাপন করছে। চাহিদা অনুযায়ী এমপিওভূক্ত করা না গেলে আগামী নির্বাচনে এর প্রভাব পড়তে পারে।  

জাতীয় পার্টির রওশন আরা মান্নান বলেন, আর্থীকখাতে শৃঙ্খলা ও সুশাসন নিশ্চিত করলে এই বিশাল বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে। ব্যাংক লুট ও পুঁজিবাজার কেলেঙ্কারির কোন কথা বাজেটে নেই। 



মন্তব্য