kalerkantho


ঈশ্বরগঞ্জে শিশু ধর্ষণের চেষ্টা

এলাকাবাসীর সহায়তায় মামলা

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় এক বখাটে যুবক। এতেই ক্ষান্ত থাকেনি সে। ওই শিশুর পরিবারকে হুমকি-ধমকি দিয়ে থানায় যেতেও বাধা দেয় সে। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় শিশুটির পরিবার থানায় গিয়ে মামলা করে। গতকাল শুক্রবার সকালে আঠারবাড়ী ইউনিয়নের সুন্দাইল পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শিশুটির বাবা একজন দিনমজুর। ঘটনার পর এলাকাবাসীর সহায়তায় পাশের একটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে মেয়েকে নিয়ে আশ্রয় নেন তিনি। গতকাল শুক্রবার সকালে আঠারবাড়ী ইউনিয়নের রায়ের বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জের কক্ষে ভীতসন্ত্রস্ত মেয়েটি মাকে জড়িয়ে বসে আছে।

মেয়েটি জানায়, সে এ বছর প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। গতকাল সকাল ১০টার দিকে তার মা প্রতিবেশীর বাড়িতে যান। এ সময় তার এক ভাই ভাত খাওয়ার জন্য মাকে খুঁজছিল। মাকে ডেকে আনার জন্য মেয়েটি বাড়ি থেকে বের হয়। পথে এক জলপাইগাছের নিচে পাশের বাড়ির সিরাজ মিয়ার ছেলে মো. তরাজ মিয়া (৩০) তাকে জাপটে ধরে এবং মুখে কামড় দেয়। মেয়েটি নিজেকে মুক্ত করার জন্যে ধস্তাধস্তি শুরু করে; কিন্তু শক্তিতে কুলাতে না পেরে চিৎকার দিলে তার মাসহ অন্য প্রতিবেশীরা ছুটে আসে। তখন তরাজ দৌড়ে পালিয়ে যায়।

মেয়েটির মা জানান, ঘটনা ঘটিয়ে তরাজ তাঁকে হুমকি দিয়ে বলে, ‘যা হওয়ার হয়েছে। বাড়ির বাইরে গেলে খবর আছে।’ পরে পাড়া-প্রতিবেশীর সহায়তায় তিনি পুলিশ তদন্ত্র কেন্দ্রে এসেছেন বিচারের জন্য। তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) মো. আবদুল মোতালিব চৌধরী জানান, তিনি ঘটনাটি শোনার পর একজন কনস্টেবল দিয়ে মেয়েটিকে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় পাঠিয়ে দিয়েছেন।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মো. বদরুল আলম খান বলেন, শিশুটির জামা ছেঁড়া ছিল। মুখের কয়েকটি স্থানে কামড়ের চিহ্নও রয়েছে। শিশুটির চিৎকারে বড় কোনো সর্বনাশ হয়নি। এই অবস্থায় মেয়েটির মা বাদী হয়ে তরাজ মিয়াকে অভিযুক্ত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। তরাজকে গ্রেপ্তারের জন্যে পুলিশ চেষ্টা করছে।



মন্তব্য