kalerkantho


বৈরী আবহাওয়ায় পানবরজে বিপর্যয়

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



তীব্র শীত, ঘন কুয়াশাসহ বৈরী আবহাওয়ায় রাজশাহীর পানের বরজগুলোতে বিপর্যয় নেমে এসেছে। চাষিরা সর্বস্বান্ত হতে চলেছে এ প্রতিকূলতায়। শীতে ছোপ ছোপ দাগসহ পচন ধরছে বরজের পানে। একপর্যায়ে ঝরে পড়ছে পানপাতা। দ্রুত পান বিক্রি করতে গিয়েও বিপাকে চাষিরা। ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে কম; স্থানীয় বাজারে অর্ধেকেরও কম দামে পান বিক্রি করে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি তারা। গত এক সপ্তাহে পান চাষিরা কয়েক কোটি টাকার ক্ষতির মুখোমুখি বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর পবা, মোহনপুর, বাগমারা, পুঠিয়া, দুর্গাপুর ও চারঘাট এলাকায় এ বছর দুই হাজার ১৯৬ হেক্টর (১৬ হাজার ৩৪০ বিঘা) জমিতে পানের আবাদ হয়েছে। পান চাষিরা জানায়, কয়েক দিন ধরে রাজশাহীতে টানা শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করায় মারাত্মক প্রভাব পড়েছে পানবরজে। অধিকাংশ বরজের পানের পাতায় প্রথমে কালো দাগ দেখা দিচ্ছে। দু-এক দিন পর থেকে দাগওয়ালা পানগুলো ঝরে পড়ে যাচ্ছে মাটিতে। পচে যাচ্ছে পানপাতা ও শেকড়।

দুর্গাপুর উপজেলার কালীগঞ্জ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে প্রচুর পানের আমদানি। তবে পাইকারি ব্যবসায়ী কম। এতে করে পানের দাম নেমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে। পান চাষিরা বলছিল, গত বৃহস্পতিবার তারা যে এক পোয়া পান (স্থানীয় হিসাব মতে ৬৪টি পানে হয় এক বিড়া, আর ৩২ বিড়ায় হয় এক পোয়া) বিক্রি করেছে পাঁচ হাজার টাকায়। একই পান পরদিন বিক্রি করা হয়েছে তিন হাজার টাকায়। মধ্যম মানের পান বিক্রি হচ্ছে আট-নয় শ টাকায়ও। এমনকি চার-পাঁচ শ টাকায় ছোট আকারের পান পাওয়া যাচ্ছে।

দুর্গাপুর দাওকান্দি গ্রামের রাশেদ হোসেন জানান, তিনি বৃহস্পতিবার এক পোয়া (৩২ বিড়া) পান বিক্রি করেছেন পাঁচ হাজার টাকায়। কিন্তু এক দিনের ব্যবধানে দামে ধস নামে। পরদিন একই পান বিক্রি হয়েছে তিন হাজার টাকা দরে। চাষিরা অর্ধেক দামে পান বিক্রি করে ক্ষতি কমাতে চাচ্ছে।

আড়তদার রুহুল আমিন জানান, বিপুল পরিমাণ পান চাষ হয় দুর্গাপুর, পবা, মোহনপুর ও বাগমারায়। ফলে প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও পানের হাট বসে। বরজে ব্যাপকহারে পান ঝরে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে চাষিরা সেই পান বাজারে আনছে। ক্রেতা কম থাকায় দামও কমে এসেছে। রাজশাহীর পান ঢাকা, চট্টগ্রাম, মুন্সীগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, সিলেট, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যায়।

পবা উপজেলার বড়গাছী গ্রামের কয়েকটি পানবরজ ঘুরে দেখা যায়, শীতজনিত রোগে আক্রান্ত গাছ মৃতপ্রায়। বরজের পান ঝরে ঝরে মাটিতে পড়ে আছে। পাতাশূন্য অনেক গাছ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহীর উপপরিচালক দেব দুলাল ঢালী এ বিষয়ে বলেন, চাষিদের পরামর্শসহ সহযোগিতা করা হচ্ছে। মাঠকর্মীরা প্রতিনিয়ত চাষিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। অতিরিক্ত শীতের কারণে এক ধরনের রোগবালাই হচ্ছে। আশা করছি, দ্রুতই পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।


মন্তব্য