kalerkantho


রূপা গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়

এবার ফাঁসি কার্যকরের দাবিতে দৌড়াবেন শাহজাহান

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



এবার ফাঁসি কার্যকরের দাবিতে দৌড়াবেন শাহজাহান

কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপা হত্যার প্রতিবাদ ও হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে আমৃত্যু দৌড়ানোর ঘোষণা দেন টাঙ্গাইলের প্রবীণ দৌড়বিদ মির্জা শাহজাহান। তিনি গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে দৌড় শুরু করেন। তিনি প্রতি বুধবার ১০ কিলোমিটার দৌড়ানোর ঘোষণা দেন এবং দৌড় শুরু করেন। মানুষকে সচেতন করতে রূপা হত্যার বিচারের দাবি জানিয়ে টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন স্থানে ব্যানার তৈরি করে ঝুলিয়ে দেন। এ ছাড়া তিনি গায়ের গেঞ্জি ও সাইকেলে রূপা হত্যার বিচার দাবিসংক্রান্ত স্লোগান লিখে নেন। সব মিলিয়ে প্রতিবাদের মূর্ত প্রতীকে পরিণত হন শাহজাহান।

গতকাল সোমবার সকালে রূপা হত্যা মামলার রায় ঘোষণার সময় মির্জা শাহজাহান প্ল্যাকার্ড হাতে টাঙ্গাইল আদালত চত্বরে উপস্থিত ছিলেন। রূপা হত্যাকাণ্ড নিয়ে তিনি কথা বলেন কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে। মির্জা শাহজাহান বলেন, ‘রূপা হত্যার ঘটনা যখন বিভিন্ন পত্রিকায় পড়লাম, তখন মনে হয়েছে এর চেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা আর কিছু নেই। একজন অসহায় মেয়েকে একা পেয়ে নরপশুরা কিভাবে গণধর্ষণের পর হত্যা করল। ঘটনা পড়ে আমি কান্না ধরে রাখতে পারিনি। দম বন্ধ হয়ে আসছিল। চিন্তা করলাম—স্বাধীন দেশে এ রকম ঘটনা কিভাবে ঘটে। তখনই সিদ্ধান্ত নিলাম আমার সর্বশক্তি দিয়ে এ ঘটনার প্রতিবাদ করব এবং বিচার দাবিতে আন্দোলন করব। এ আন্দোলনের মাধ্যম হিসেবে বেছে নেই দৌড়। প্রবীণ বয়সেও রূপা হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতি বুধবার ১০ কিলোমিটার দৌড় শুরু করি।’

মির্জা শাহজাহান বলেন, ‘অবশেষে আজ (গতকাল) আমার আন্দোলন সফল হয়েছে। আসামিদের মধ্যে চারজনের ফাঁসি হয়েছে। একজনকে কেন ফাঁসি দেওয়া হয়নি তা বিজ্ঞ আদালত ভালো জানেন—এটা আইনের ব্যাপার। তবে তারও ফাঁসি হলে আরো ভালো লাগত। এ রায়ে আমি খুশি হয়েছি। আমার দাবি বাস্তবায়ন হয়েছে। তবে এখানেই আমি থামব না। এখন আসামিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আবার দৌড় শুরু করব। আগের মতোই যথানিয়মে প্রতি বুধবার দৌড়াব।’ আসামিরা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করলে মির্জা শাহজাহান ঢাকাতে গিয়েও দৌড়াবেন বলে জানান। তিনি বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহে টাঙ্গাইলে দৌড়াব। আর মাসে একবার প্ল্যাকার্ড-ফেস্টুন নিয়ে হাইকোর্ট এলাকা দিয়ে দৌড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। স্বাধীন বাংলাদেশে যেন আর কোনো রূপাকে এভাবে জীবন দিতে না হয়—সে আশাবাদ আর মানুষকে সচেতন করতেই আমার দৌড়।’


মন্তব্য