kalerkantho


চাঁদপুরে বাইকচাপায় প্রাণ গেল ৬ মাসের শিশুর

প্রিয় দেশ ডেস্ক   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



 চাঁদপুরে বাইকচাপায় প্রাণ গেল ৬ মাসের শিশুর

চাঁদপুরের হাইমচরে বেপরোয়া গতির ইজি বাইকের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ গেছে ছয় মাসের শিশুর। মা-বাবা অসুস্থ শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসা দিতে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাদের বহনকারী ইজি বাইকের নিচে সে চাপা পড়ে। মা-বাবাও আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার দুপুরে উত্তর আলগী এলাকায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। আরো তিন জেলায় রবিবার রাতে ও গতকাল সড়ক দুর্ঘটনায় এক সেনা সদস্যসহ দুজন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছে। কালের কণ্ঠ’র প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

চাঁদপুর : উত্তর আলগীর ঘটনায় ইজি বাইকটিসহ চালক সোহাগ মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত শিশুটি উত্তর আলগী ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামের কৃষক মোস্তফা পাটোয়ারী ও রাশিদা বেগমের ছেলে। সূত্র জানায়, ঠাণ্ডাজনিত অসুস্থ শিশু সাব্বির হোসেনকে নিয়ে মা-বাবা বাড়ি থেকে ব্যাটারিচালিত ইজি বাইকে করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাচ্ছিলেন। কিছু দূর যেতেই ইজি বাইকের গতি বেশি থাকায় বিপরীত থেকে আসা একটি গাড়িকে অতিক্রম করতে গিয়ে ইজি বাইকটি উল্টে যায়। এতে বাইকে থাকা মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুটি। বাইকের ব্যাটারির নিচে চাপা পড়ে প্রাণ যায় তার। দুর্ঘটনায় মা-বাবাও আহত হন। মায়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মোস্তফা অভিযোগ করেন, বাইক চালানোর সময় চালক সোহাগ মিয়া কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনছিলেন।

হাইমচর থানার উপপরিদর্শক মো. আব্দুল মান্নান জানান, শিশুটির মা রাশিদা বেগমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মোস্তফা-রাশেদার চার বছরের আরেকটি সন্তান রয়েছে।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা বলে, বেপরোয়া গতির ইজি বাইকের নিচে পড়ে এর আগেও প্রাণহাণির ঘটনা ঘটেছে।

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) : রাজীবপুরে ট্রাক্টরের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী জাকির হোসেন (২১) নামের সেনাবাহিনীর এক সদস্য নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। তাঁরা পাঁচ বন্ধু। বন্ধু কলেজছাত্র জুয়েল হোসেনের (২১) অবস্থা গুরুতর। তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত অন্য মোটরসাইকেলের আরোহী প্রিন্স মাহমুদ, নাইম হোসেন ও শরীফুল ইসলাম রাজীবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। গতকাল দুপুরে রৌমারী-রাজীবপুর সড়কের শিবেরডাঙ্গী এলাকায় মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে। হতাহতদের বাড়ি  গোলাবাড়ি গ্রামে। জাকিরের বাবার নাম মমিনুল হক। জানা গেছে, দুটি মোটরসাইকেলে করে পাঁচ বন্ধু জাকির হোসেন, নাইম, প্রিন্স, শরীফুল ও জুয়েল হোসেন কর্তিমারী থেকে রাজীবপুরে যাচ্ছিলেন। অন্যদিক থেকে আসা বালুভর্তি ট্রাক্টরের সঙ্গে একটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। পরে দ্বিতীয় মোটরসাইকেলও গিয়ে পড়ে ট্রাক্টরের ওপর। মোটরসাইকেল দুটি খুবই দ্রুতগতিতে চলছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে।

জাকির হোসেন দুই বছর আগে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ছুটি নিয়ে বাড়িতে এসেছিলেন। অন্য চার বন্ধু যাদুরচর ডিগ্রি কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। রাজীবপুর থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানান, ট্রাক্টরটি আটক করা হলেও চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

ময়মনসিংহ (আঞ্চলিক) : দুটি ট্রাক ও একটি পিকআপের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত ও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে। আহতদের ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রবিবার মধ্যরাতে ময়মনসিংহের নান্দাইল ডিগ্রি কলেজের উত্তর দিকে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের চণ্ডীপাশা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সোলায়ান (২২) কিশোরগঞ্জের কুলিয়াচর উপজেলার দাড়িয়াকান্দা ফারুক মিয়ার ছেলে। আহতরা হলেন ময়মনসিংহের রনি মিয়া (৩০), নান্দাইলের মুশুলি গ্রামের মামুন (৩৫), কুলিয়ারচরের আলীর চর গ্রামের মিজান (৩০), ঈশ্বরগঞ্জের নাউরী গ্রামের সোহরাব (৩৫) ও তারাটি গ্রামের আবদুল আজিজ (৪০)। এ ঘটনায় পুলিশ নান্দাইল থানায় একটি মামলা করেছে।

ঘটনাস্থলের পাশের বাসিন্দারা ও পুলিশ জানায়, নান্দাইলের তারেরঘাট বাজার থেকে পাথরবোঝাই একটি ট্রাক ময়মনসিংহের দিকে যাচ্ছিল। নান্দাইল ডিগ্রি কলেজের কাছে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি খালি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। তখন খালি ট্রাকের পেছন দ্রুত বেগে ধাক্কা দেয় একটি পিকআপ (মিনি ট্রাক)।

গোপালগঞ্জ : মুকসুদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই চালকসহ তিনজন মারাত্মক আহত হয়েছে। তাদের প্রথমে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে খুলনা মেডিক্যাল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গতকাল বিকেলে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পূর্ব শালিনাবক্স এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, খুলনা থেকে ঢাকাগামী তেলবাহী একটি ট্রাক পেছন থেকে একটি পিকআপকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে দুটি গাড়িই রাস্তায় উল্টে পড়ে। মুকসুদপুর থানার ওসি মো. আজিজুর রহমান বলেন, হাইওয়ে পুলিশের রেকার দিয়ে গাড়ি দুটি সরানো হয়েছে।


মন্তব্য