kalerkantho


জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা

খালেদা জিয়া ইতিমধ্যেই জেল খাটলেন ৫৪ দিন

এম বদি-উজ-জামান   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হওয়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এখন কারাবন্দি। গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে তাঁকে কারাগারে নেওয়া হয়। তবে দেখতে দেখতে গতকাল সোমবার পর্যন্ত এ মামলায় খালেদা জিয়া কারাভোগ করে ফেলেছেন ৫৪ দিন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এ মামলায় নিয়োজিত আসামিপক্ষের দুই আইনজীবী আমিনুল ইসলাম ও জাকির হোসেন ভুঁইয়া।

এই দুই আইনজীবী কালের কণ্ঠকে জানান, সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে ২০০৮ সালে কারাবন্দি থাকার সময় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। ওই বছরই তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। এ মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর দিন থেকে তিনি যত দিন পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন সেই সময়টুকু এই পাঁচ বছরের সাজা থেকে বাদ যাবে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫ক ধারা অনুযায়ী জেলহাজতে থাকাকালীন সময় সাজা থেকে বাদ যায়।

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে রাখা হয়েছিল সংসদ ভবনসংলগ্ন বিশেষ কারাগারে। সুপ্রিম কোর্টে জামিন পাওয়ার পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর কারাগার থেকে মুক্তি পান খালেদা জিয়া। তবে মুক্তির আগেই তাঁর বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর ২০ দিন পর ২৩ জুলাই ওই মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ফলে সেদিন থেকেই এ মামলায় খালেদা জিয়ার কারাভোগ শুরু হয়। এ কারণে ওই বছর মুক্তির আগ পর্যন্ত এ মামলায় খালেদা জিয়া কারাগারে ছিলেন ৪৯ দিন। সব মিলিয়ে ওই সময় খালেদা জিয়া কারাগারে ছিলেন মোট এক বছর আট দিন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার নথি অনুযায়ী ২০০৮ সালে ৪৯ দিন কারাভোগ করেন খালেদা জিয়া। আর গত ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে নেওয়ার পর থেকে গতকাল পর্যন্ত পাঁচ দিন কারাভোগ করেছেন তিনি। সে হিসাবে খালেদা জিয়া এ মামলায় কারাভোগ করলেন ৫৪ দিন।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫ক ধারায় বলা আছে, ‘দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি জেলহাজতে থাকিলে সেক্ষেত্রে কারাদণ্ডের মেয়াদ বাদ দিতে হইবে : (১) কেবলমাত্র মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডণীয় অপরাধের ক্ষেত্র ব্যতীত যে ক্ষেত্রে কোনো আদালত একজন অভিযুক্তকে কোনো অপরাধে অপরাধী হিসাবে গণ্য করিয়া থাকেন এবং এইরূপ অপরাধীকে দোষী সাব্যস্ত করিয়া বিনাশ্রম বা সশ্রম যেকোনো মেয়াদের দণ্ড প্রদান করিয়া থাকেন, সে ক্ষেত্রে উক্ত আদালতে ওই অপরাধের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি ইত্যবসরে যে মোট মেয়াদ জেলহাজতে থাকিবে ওই মোট মেয়াদ প্রদত্ত কারাদণ্ডের মেয়াদ হইতে বাদ দিবেন।’

 


মন্তব্য