kalerkantho


ফারমার্স ব্যাংকের কেলেঙ্কারিতে সম্পৃক্ততা অস্বীকার

স্পিকারের কাছে প্রটেকশন চাইলেন মহীউদ্দীন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান থাকাকালে ঋণ কেলেঙ্কারিতে তাঁর জড়িত থাকা নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগ অস্বীকার করে এ ব্যাপারে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে প্রটেকশন দাবি করেছেন ক্ষমতাসীন দলের সিনিয়র নেতা ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘তিনটি পত্রিকা ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে আমার বিরুদ্ধে কতিপয় ঘৃণিত, অসত্য তথ্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রকাশ করেছে। যে অভিযোগ এসেছে তা সম্পূর্ণ কল্পনাভিত্তিক ও অনুমাননির্ভর।’

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে গণমাধ্যমে আসা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন মহীউদ্দীন খান আলমগীর। তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে আমি নাকি ঋণ বিতরণের আগে গ্রাহকদের কাছ থেকে কমিশন নিয়েছি। এত বড় অসত্য কথার সম্মুখীন আমার ৭৭ বছরে কখনো হতে হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত জীবনে আমি শিল্প ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় ছিলাম, কৃষি ব্যাংকের শিল্পঋণ সংস্থার সভাপতি ছিলাম, জেদ্দায় প্রতিষ্ঠিত ইসলামী ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ছিলাম। আমার কার্যক্রম সম্পর্কে এ রকম কোনো উদাহরণ, কোনো অপবাদ কেউ কোনো দিন উপস্থাপন করতে পারেনি।’

মহীউদ্দীন খান আলমগীর নিজের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তুলে ধরে বলেন, ‘আমার ব্যাংক হিসাবের পুরো অংশ নিয়ে এসেছি। এখানে কেউ কি প্রমাণ করতে পারবেন, কোন ঋণগ্রহীতার কাছে থেকে আমার এখানে অর্থ ঢুকেছে? পত্রিকাগুলো রিপোর্টে উল্লেখ করেছে, আমি চেয়ারম্যান থাকাকালে ১৭ জুলাই ১৩ কোটি টাকা গ্রাহকের হিসাব থেকে আমার হিসাবে এসেছে। কিন্তু আমার ব্যাংক হিসাব এখানে আছে, গত ১৭ জুলাই থেকে পরবর্তী সাত বা ১০ দিনে আমার হিসাবে এ ধরনের কোনো অর্থ জমা হয়নি। তাই আমি মনে করি, এ ধরনের অপবাদ সমাজের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টির প্রতিকূল।’

মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, ‘চেয়ারম্যান থাকাকালীন অনুমোদনহীন ঋণ দেওয়া হয়েছে বলে যা প্রচার করা হয়েছে, সে অভিযোগও অস্বীকার করছি। কেননা আমি চেয়ারম্যান থাকার সময়ে অনুমোদন ছাড়া কোনো ঋণ প্রক্রিয়াজাত করা হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকও এটা পর্যবেক্ষণ করেছে। ফারমার্স ব্যাংকে যে পরিমাণ ঋণ অনুমোদন হয়েছে তার চেয়ে বেশি ঋণ দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগও আনা হয়েছে রিপোর্টে। আমি এই অভিযোগও অস্বীকার করছি। কারণ টাকা দেওয়া ও সঞ্চালন করার এখতিয়ার ব্যাংক কর্মকর্তাদের, ম্যানেজার এবং অন্যদের। অনুমোদনের বাইরের কোনো ঋণ দিয়ে থাকলে সেটা তাঁদের দায়িত্ব। তবে আমি চেয়ারম্যান থাকাকালে আমার জানামতে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি।’

ব্যাংকটিতে সব ক্ষেত্রে যথাযথ কর্মকর্তা নিয়োগ না হওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে ব্যাংকের সাবেক এই চেয়ারম্যান বলেন, ‘ফারমার্স ব্যাংকের সব ক্ষেত্রে যথাযোগ্য কর্মকর্তা নিয়েছি। বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে একমাত্র ফারমার্স ব্যাংকেই সবচাইতে বেশি মুক্তিযুদ্ধের উত্তরসূরিদের নিয়োগ দিয়েছি। এটা ইচ্ছা করেই করেছি। এতে কেউ যদি মনে করেন ব্যাংকের স্বার্থ লঙ্ঘিত হয়েছে, তাঁরা সত্য ও সৎ কথা বলেননি।’


মন্তব্য