kalerkantho


মিঠাপুকুরে যমুনেশ্বরীতে অবৈধ বালু উত্তোলন

ভাঙছে বাঁধ, হুমকিতে বসতভিটা ফসলি জমি

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

১৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ভাঙছে বাঁধ, হুমকিতে বসতভিটা ফসলি জমি

রংপুরের মিঠাপুকুরে যমুনেশ্বরী নদীর উচা বালুয়া, হাছিয়া ও আটপুনিয়া—এই তিন পয়েন্টে দীর্ঘদিন অবাধে বালু উত্তোলন করায় হুমকিতে পড়েছে বাঁধ, বসতভিটা ও ফসলি জমি। রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় এক শ্রেণির স্থানীয় প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। ফলে উচা বালুয়া পয়েন্টে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাঁধটি ভেঙে যাচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা জানায়, মিঠাপুকুরের বড়বালা ইউনিয়নের আটপুনিয়া বাগানবাড়ী এলাকায় বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য মমদেল হোসেন নামের এক ব্যক্তি মিঠাপুুকুর থানায় অভিযোগ করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি প্রশাসন।

উচা বালুয়া এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গ্রাম রক্ষা বাঁধের ওপর দিয়ে সরাসরি নদী থেকে ট্রাক্টরে ভরে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে বাঁধের খানিকটা অংশ ভেঙে গেছে। এ ছাড়া বালুভর্তি ট্রাক্টর চলাচলের কারণে রাস্তাগুলোতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু প্রভাবশালীদের ভয়ে স্থানীয়রা প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদেরও পকেটে ঢুকছে বালু উত্তোলনের জন্য মাসোয়ারার টাকা। হাছিয়া এলাকায় শহিদুল ইসলাম, রাব্বি, আবু সাইদ, আমজাদ হোসেন, কিনা মিয়া, ভগলু, আনোয়ার হোসেনসহ এলাকার প্রায় ১০ জন প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ব্যক্তি বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে। ইতিমধ্যে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), মিঠাপুকুর থানার পুলিশ ও বালুয়া মাসিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান বালু পয়েন্টে অভিযান চালান। কিন্তু প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে তারা।

বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ময়নুল হক বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে হাছিয়া পয়েন্টে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আমি বেশ কয়েকবার সেখানে গিয়ে নোটিশের মাধ্যমে নিষেধ করে এসেছি; কিন্তু তারা শোনেনি।’ প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় আজাহার মণ্ডল ও আব্দুল মজিদ বলেন, বালু উত্তোলকারীরা বেশ প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জড়িত।

বড়বালা ইউনিয়নের আটপুনিয়া বাগানবাড়ী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করছে ওই গ্রামের আজিজল মিয়ার ছেলে হুয়াইল ও জুয়েল। তাদের সঙ্গে রয়েছে একই গ্রামের ফারুক হোসেন, হোসেন আলী, সাহাবুল ইসলাম ও রবিউল ইসলাম। কবিরুল ইসলাম ও মোস্তাফিজার রহমান নামে প্রভাবশালীরা বালু উত্তোলনকারীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

তবে মিঠাপুকুর থানার ওসি মোজাম্মেল হক বলেন, প্রায় সব পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মামলাও হয়েছে অনেক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। উচা বালুয়া ও হাছিয়া পয়েন্ট দুটি বন্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুন-অর রশীদ বলেন, অভিযান চালিয়ে পয়েন্টগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর পরও যদি কেউ বালু উত্তোলন করে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 


মন্তব্য