kalerkantho


ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও গাইবান্ধা-১ আসনে উপনির্বাচন আজ

নাসিরনগরে ভোটারদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

১৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) সংসদ আসনের উপনির্বাচন আজ মঙ্গলবার। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই নির্বাচনকে সরকারের ‘এসিড টেস্ট’ হিসেবেই মনে করা হচ্ছে। ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। এই নির্বাচন মডেল নির্বাচন বলে আশা করছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বি এম ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম, জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী রেজওয়ান আহমেদ ও ইসলামী ঐক্যজোট প্রার্থী এ কে এম আশরাফুল হক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

যদিও জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখলের শঙ্কার কথা নির্বাচন কমিশনের কাছে বলা হয়েছে। গত রবিবার দলটির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার এ অভিযোগ দেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা অবশ্য এরই মধ্যে জানিয়েছেন, নাসিরনগরে অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টরাও সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস দিয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হকের মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়। গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর তিনি মারা গেলে নির্বাচন কমিশন আসনটি শূন্য ঘোষণা করে। ১৯৭৩, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ সালে তিনি এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ১৪ হাজার ৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ১০ হাজার ৪১০ জন ও নারী ভোটার এক লাখ তিন হাজার ৫৯৯ জন। ৭৪টি ভোটকেন্দ্রের ৩৬৪টি বুথে ভোটাররা ভোট দিতে পারবে।

উপনির্বাচনে অংশ না নিলেও বিভিন্ন কারণেই আলোচনায় আছে বিএনপি। নির্বাচনে অংশ না নেওয়া দলটির নেতাকর্মীরা নির্বাচনের দিন ভোট দিতে গেলে কার পাল্লা ভারী হবে, এ নিয়েও সর্বত্র চলছে আলোচনা। যে কারণে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা ওই সব ভোটারের ওপর আগে থেকেই নজর রেখেছেন। তাদের ভোটের দিনে কেন্দ্রে আনার জন্য বিশেষ করে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের তৎপর থাকতে বিভিন্ন পর্যায় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হান্নান বলেন, ‘দেশে বর্তমানে ভোটের পরিবেশ নেই বলে আমাদের দল নির্বাচনে অংশ নেয়নি। দলের কোনো নেতা সিদ্ধান্তের বাইরে অন্য কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করলে সাংগঠনিক ক্ষমতা থেকেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।’

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার বলেন, ‘সব বিরোধী দলও যদি এক হয়ে যায় আর আওয়ামী লীগ যদি একদিকে থাকে তাতেও তারা আমাদের হারাতে পারবে না। এ উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরই জয় হবে।’

জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা এমপি বলেন, ‘যুগ যুগ ধরেই আমরা দেখে এসেছি কোনো দল নির্বাচনে না এলে তাদের সমর্থিত ভোটাররা সমমনা দলকে বেছে নেয়। সেই ক্ষেত্রে আমরা বিএনপির ভোট পাব বলে আশা করছি।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন জানান, আনসার সদস্যদের পাশাপাশি  গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১০ ও সাধারণ কেন্দ্রে  চারজন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। উপনির্বাচনের আইন-শৃঙ্খলার বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই দেখা হচ্ছে।

নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার সাহেদুন্নবী চৌধুরী জানান, প্রার্থীদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। সবার সহযোগিতায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


মন্তব্য