kalerkantho


বাংলাদেশ প্রতিদিনের গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা

জনশক্তি রপ্তানিতে শ্রম-দক্ষতা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



জনশক্তি রপ্তানিতে শ্রম-দক্ষতা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া ভবনের কনফারেন্স কক্ষে গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিন আয়োজিত ‘জনশক্তি প্রেরণ : সংকট ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

জনশক্তি রপ্তানিতে নানা সমস্যা রয়েছে। তবে সে তুলনায় সম্ভাবনা অনেক বেশি। সেই সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে বিদেশি রেমিট্যান্স আরো বাড়ানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে এবং তাদেরকে বিদেশে পাঠানোর পর সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তাদেরকে সরকারিভাবে সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। বিষয়টি পর্যবেক্ষণে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে রাখতে হবে শক্তিশালী ভূমিকা।

দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন আয়োজিত ‘জনশক্তি প্রেরণ : সংকট ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া ভবনের কনফারেন্স কক্ষে গতকাল সোমবার এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মুহাম্মদ নূর আলী, সাবেক রাষ্ট্রদূত ওয়ালিউর রহমান, এ কে মোমেন, এস এম আতীকুর রহমান, বায়রা সভাপতি বেনজির আহমদ, মহাসচিব মুহম্মদ রুহুল আমীন, সাবেক সভাপতি গোলাম মুস্তফা, অর্থনীতিবিদ ড. জামাল উদ্দিন, মানবাধিকারকর্মী ব্যারিস্টার মুহম্মদ আলী, বিএমইটির ডিজি সেলিম রেজা, বায়রার যুগ্ম সচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী, মেরিট ট্রেড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ, ব্র্যাকের মাইগ্রেশন বিভাগের হেড অব প্রগ্রাম শরীফুল হাসান প্রমুখ।

নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, মন্ত্রণালয় একাগ্রতার সঙ্গে শ্রমিকদের সমস্যা নিয়ে কাজ করছে। সমস্যাগুলোও কমে আসছে। জনশক্তি রপ্তানির সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, ‘এই খাতকে কিভাবে আরো উন্নত ও গণমুখী করা যায় তার জন্য পরামর্শ প্রয়োজন। মন্ত্রণালয়ে কাজ করতে গিয়ে আপনারা কোনো সমস্যায় পড়লে জানাবেন।’

এ কে মোমেন বলেন, বিদেশে প্রায় এক কোটি ১১ লাখ জনশক্তি অবস্থান করছে। জনশক্তি খাতকে আরো দক্ষ করে তুলতে বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। ওয়ালিউর রহমান বলেন, ‘জনশক্তি পাঠানো এবং তাদেরকে দক্ষ করে তোলার ক্ষেত্রে আমলাতন্ত্রিক জটিলতা রয়েছে। বিদেশে আমাদের দূতাবাস ও মিশনগুলোকে ভালোভাবে ভূমিকা রাখতে হবে।’ মুহম্মদ নূর আলী বলেন, জনশক্তি রপ্তানি খাত নিয়ে সরকারকে একটি গবেষণা বিভাগ চালু করতে হবে। পদ্ধতিগত উন্নতির পাশাপাশি আইন ও নীতিমালা করে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

নঈম নিজাম বলেন, বিমানবন্দরে শ্রমিকদের হয়রানি কমাতে হবে। জনশক্তি রপ্তানি নিয়ে দূতাবাসগুলোকে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে হবে। তাহলে এই খাত আরো শক্তিশালী হবে।

বেনজির আহমদ বলেন, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো লাখ লাখ মানুষ বিদেশে পাঠিয়ে বাংলাদেশের রেমিট্যান্সে বিশেষ অবদান রাখছে। অথচ সব ধরনের রপ্তানি ব্যবসার জন্য সরকারের প্রণোদনা ও কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা থাকলেও এই খাত অবহেলিত। জনশক্তিকে দক্ষ করে তোলার ক্ষেত্রেও সরকারের কোনো বরাদ্দ নেই।

শরীফুল হাসান বলেন, ‘আমাদের দেশের প্রাণ হলো কৃষক, এনজিওকর্মী ও প্রবাসী জনশক্তি। কিন্তু এ তিনটিকেই দেশে অবহেলা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তারা বিদেশেও অবহেলার শিকার হয়।’

 

 


মন্তব্য