kalerkantho


নেপালে ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্ত

১৩ শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে সিলেট রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যালে শোক

সিলেট অফিস   

১৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



১৩ শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে সিলেট রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যালে শোক

বিমান দুর্ঘটনায় নিহত সিলেটে পড়তে আসা নেপালের মেডিক্যাল শিক্ষার্থীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

পিরীক্ষা শেষে ওঁরা ১৩ জন দেশে ফিরছিলেন। গতকাল সোমবারই শেষ হয়েছিল গাইনি ও মেডিসিন বিভাগের এমবিবিএস সমাপনী পরীক্ষা। কিন্তু নিজ নিজ বাড়িতে শেষ পর্যন্ত আর তাঁদের পৌঁছানো হয়নি। নিজ দেশে পৌঁছালেও কাঠমাণ্ডু ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গতকাল ইউএস-বাংলা বিমান দুর্ঘটনায় ওঁরা ১৩ জনই মারা যান। নেপালের এই শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করতেন সিলেটের জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। এই ১৩ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

এই ১৩ শিক্ষার্থী হলেন সঞ্জয় পৌডেল, সঞ্জয়া মহারজন, নেগা মহারজন, অঞ্জলি শ্রেষ্ঠ, পূর্ণিমা লোহানি, শ্রেতা থাপা, মিলি মহারজন, শর্মা শ্রেষ্ঠ, আলজিরা বারাল, চুরু বারাল, শামিরা বেনজারখার, আশ্রা শখিয়া ও প্রিঞ্চি ধনি।

এ বিষয়ে রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. আবেদ হোসাইন বলেন, ‘গতকাল গাইনি ও  মেডিসিন বিভাগের এমবিবিএস সমাপনী পরীক্ষা শেষ হয়। এরপর নেপালি ১৩ শিক্ষার্থী দেশের বাড়িতে ছুটি কাটাতে ইউএস-বাংলার ওই ফ্লাইটে করে নেপাল যায়। নেপাল দূতাবাসসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা জেনেছি, বিমান বিধ্বস্তে ১৩ শিক্ষার্থীর সবাই মারা গেছে। ওরা সবাই ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিল।’

ডা. আবেদ হোসাইন আরো বলেন, চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা শেষে ফল প্রকাশের জন্য দুই মাসের মতো সময় লাগে। এই সময়ে সবাই নিজেদের বাড়িতে চলে যায়। নেপালের শিক্ষার্থীরাও তাঁদের দেশে যাচ্ছিলেন। বিকেলেই দুর্ঘটনার খবর পান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পাচ্ছি ওদের সবাই মারা গেছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের কলেজে প্রায় আড়াই শ নেপালি শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের মাধ্যমে সর্বশেষ তথ্য জানার চেষ্টা করছি।’

এদিকে ১৩ শিক্ষার্থী মারা যাওয়ার ঘটনায় জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজে শোকের ছায়া নেমে আসে। গত রাতে কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, কলেজের শিক্ষার্থীরা সর্বশেষ তথ্য জানতে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করছে। কলেজের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সন্দীপ ইয়াদপ কালের কণ্ঠকে জানান, বিকেলে খেলার মাঠে গিয়ে প্রথম খবরটি পান তিনি। এর পর থেকে সবাই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে সর্বশেষ অবস্থা জানার চেষ্টা করছে।


মন্তব্য