kalerkantho


পাঁচজনের মধ্যে শিশু ও বাবার খোঁজ নেই

শ্রীপুরে কান্নার রোল

শাহীন আকন্দ, গাজীপুর   

১৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



এফ এইচ প্রিয়ক ও তাঁর স্ত্রী আলমুন নাহার এ্যানি তাঁদের একমাত্র শিশুকন্যাকে নিয়ে ছয় দিনের ভ্রমণে নেপালের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। তাঁদের ভ্রমণসঙ্গী ছিলেন প্রিয়কের মামাতো ভাই মেহেদি হাসান মাসুম অমিয় ও তাঁর স্ত্রী সৈয়দা কামরুন নাহার স্বর্ণা। গতকাল সোমবার বিকেলে কাঠমাণ্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবরটি জেনে প্রতিবেশীরা প্রথমে প্রিয়কের মা ফিরোজা বেগমকে তা জানায়। খবর শুনেই ‘ও আল্লাহ গো!’ বলে মূর্ছা যান তিনি। মুহূর্তে খবরটি জেনে যান মেহেদির মা-বাবাও। স্বজনদের চিৎকার-আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজটিতে থাকা ৩২ বাংলাদেশি যাত্রীর পাঁচজনই গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে একটি শিশু, দুজন নারী ও দুজন পুরুষ। উপজেলার নগরহাওলা গ্রামে পাশাপাশি বাড়ি তাঁদের।

মেহেদি হাসান মাসুম গত রাত ৮টায় তাঁর মাকে ফোন করেন। মাসুমের মা মোমতাজ বেগম জানান, তাঁর ছেলে ফোন করে জানিয়েছেন যে প্রিয়কের স্ত্রী আলমুন নাহার এ্যানি ও মাসুমের স্ত্রী স্বর্ণা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রিয়ক ও তাঁর তিন বছর বয়সী মেয়ে তামাররা প্রিয়ক কোথায় আছে তা তিনি জানেন না।

প্রিয়কের ফুফাতো ভাই টি আই সানি জানান, প্রয়াত শরাফত হোসেনের ছেলে এফ এইচ প্রিয়ক আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত ফটোগ্রাফার, আর মাসুম পেশায় ব্যবসায়ী। প্রিয়কের চাচাতো ভাই লুত্ফর রহমান জানান, গতকাল ছয় দিনের সফরে নেপালের উদ্দেশে রওনা হন তাঁরা। নেপালে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিক আশিক রেজা কালের কণ্ঠকে জানান, শ্রীপুরের শিশু, নারীসহ পাঁচজনের মধ্যে তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

গত রাতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রিয়ক ও মাসুমের বাড়িজুড়ে কান্না আর আহাজারি চলছে। খবর শুনে ছুটে আসা প্রতিবেশী ও স্বজনরাও কাঁদছিল। কারো মোবাইল ফোন বেজে উঠলেই সবাই আগ্রহে মুখ তুলে চাইছে, এই বুঝি কোনো খবর এলো।

রাত ৮টা ৫০ মিনিটে নেপাল থেকে ফোন করেন এফ এইচ প্রিয়কের স্ত্রী আলমুন নাহার এ্যানি। ফোন ধরেন মাসুমের বাবা তোফাজ্জল হোসেন। তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘প্রিয়ক ও তাঁর শিশুকন্যা নিখোঁজ রয়েছে। সে ও মাসুম সুস্থ রয়েছে। মাসুমের স্ত্রী আহত হলেও আশঙ্কামুক্ত। এ্যানি ফোনে এসব কথা বলছে আর অনবরত কাঁদছে।’


মন্তব্য