kalerkantho


শ্যামলীতে সংখ্যালঘুর বাড়ি দখল, যুবলীগ নেতা বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



রাজধানীর শ্যামলী ২ নম্বর রোডে একটি সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়ি দখল করতে উঠেপড়ে লেগেছেন আওয়ামী লীগ-যুবলীগ নেতারা। পরিবারটিকে জোর করে উচ্ছেদের পর প্রায় ৯ কোটি টাকা মূল্যের বাড়িটি দখলে নেন ক্ষমতাসীন দলের কজন নেতা। এক সপ্তাহ আগে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ওই পরিবারের সদস্যদের গাড়িতে তুলে নিয়ে বাড়ির মালপত্রও লুট করেন তাঁরা। অভিযোগ উঠেছে, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক কামরান শহিদ প্রিন্স মহব্বত ও মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি তৌফিকুর রহমান রেজা মিসলু, থানা সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক সামিউল আলিম চৌধুরী ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল হাই ও তাঁর ছেলে শেরেবাংলানগর থানা তাঁতী লীগের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক রাজন মাতব্বর, ২৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের ইউসুফ শামীম ওরফে গরু শামীম, শেরেবাংলানগর থানা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শারমিন আক্তারসহ একটি সিন্ডিকেট বাড়িটি দখলে নেয়।

তবে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের পুলিশ সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়ি দখলের বিষয়টি জানতে পেরে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। পরিবারটির নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের নেতা মিসলু ও তাঁতী লীগ নেতা রাজন মাতব্বরকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মিহির বিশ্বাস বাদী হয়ে শেরেবাংলানগর থানায় মামলা করেছেন।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, ‘আসামিরা সংখ্যালঘু পরিবারটিকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে অপহরণ করে নিয়ে যায়। আমরা ঘটনা জানার পর আইনগত সব পদক্ষেপ নিয়েছি। দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মালপত্র উদ্ধারেও চেষ্টা করা হচ্ছে। বাড়িতে আমাদের নজরদারি আছে।’ তিনি আরো বলেন, জমি নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে সেটা আদালত ফয়সালা করবেন। অপহরণ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালালে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা দেওয়া পুলিশের দায়িত্ব। এখানে কার কী পরিচয় তা দেখা হবে না।

সূত্র জানায়, মামলার পর পুলিশি তদন্তে বাড়ি দখলের মূল হোতা কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা কামরান শহিদ প্রিন্স মহব্বতসহ ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের নাম বেরিয়ে আসে।

 


মন্তব্য