kalerkantho


কেসিসি নির্বাচন

প্রধান দুই দলের প্রার্থিতা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে নেতাকর্মীরা

কৌশিক দে, খুলনা   

২১ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনের জন্য আগামী ৩১ মার্চ তফসিল ঘোষণা করা হবে শুনে নড়েচড়ে বসেছেন মেয়রসহ সম্ভাব্য কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা। তবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত না হওয়ায় দল দুটির নেতাকর্মীরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০১৩ সালের ১৫ জুন কেসিসির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। করপোরেশনের প্রথম সভা হয় সেপ্টেম্বরে। যার মেয়াদ শেষ হবে ২০১৮ সালের ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনানুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিন আগের সময়ে ভোটের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ নির্বাচনে নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি ভোট পেয়েছিলেন এক লাখ ৮০ হাজার ৯৩। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য তালুকদার আব্দুল খালেক। তিনি ভোট পেয়েছিলেন এক লাখ ১৯ হাজার ৪২২টি।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেয়র পদে লড়াইয়ের জন্য দলটির একাধিক নেতা আগ্রহী। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শহীদ শেখ আবু নাসেরের ছেলে শেখ জুয়েল, সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, দৌলতপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ সৈয়দ আলী, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক সরদার আনিছুর রহমান পপলু। সূত্র জানায়, আজ বুধবার দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে খুলনার শীর্ষ নেতৃবৃন্দের বৈঠকের কথা রয়েছে। বৈঠকে কেসিসি মেয়র প্রার্থীর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তা না হলেও আগামী সপ্তাহের মধ্যে দলের মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত হতে পারে।

আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই জানান, তাঁরা মনে করেন মেয়র পদে তালুকদার আব্দুল খালেকই দলের অন্যতম যোগ্য প্রার্থী। তিনি সিটি মেয়র থাকাকালীন উল্লেখযোগ্য উন্নয়নকাজ করেছেন। ২০১৩ সালে কেসিসির নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর মূলত তিনি সিটি নির্বাচনে আগ্রহ হারান। বিভিন্ন সময়ে দলের শীর্ষ নেতাদেরও তাঁর মনোভাবের কথা জানান।

অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে বর্তমান মেয়র ও মহানগর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি আবারও প্রার্থী হবেন বলে জানা গেছে। তবে মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে তাঁকে দলের জেলা সভাপতি এম এম শফিকুল আলম মনাকে মোকাবেলা করতে হবে। এদিকে জাতীয় পার্টি এস এম মুশফিকুর রহমান এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মাওলানা মুজাম্মিল হককে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করলেও তাঁদের নির্বাচনী কার্যক্রম এখনো দৃশ্যমান নয়।

মহানগর আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর একাধিক নেতা বলেন, নির্বাচন কমিশন সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের মেয়র প্রার্থী কে হবেন? এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। আগেভাগে নির্বাচনী মাঠে নামা যাচ্ছে না। এটি সমস্যায় ফেলতে পারে।

অন্যদিকে নগর বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, ক্ষমতাসীনদের অনেক প্রার্থী! সে তুলনায় বিএনপির প্রত্যাশী মাত্র দুজন। দল নির্বাচনে গেলে এটি চূড়ান্ত হবে।

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিজান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিভাগীয় সাংগঠনিক সভার মধ্য দিয়ে খুলনায় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। দলীয় সভানেত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী অঙ্গসহযোগী সংগঠনের কমিটি পুনর্গঠন, নির্বাচনী কমিটি গঠনসহ আনুষঙ্গিক কাজ চলছে। তবে এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি। কেন্দ্রীয় কমিটি ও মনোনয়ন বোর্ড যাকে মনোনয়ন দেবে তার জন্য সব নেতাকর্মী প্রস্তুত রয়েছে। তফসিল ঘোষণা হলে আমাদের নির্বাচনী কার্যক্রমও শুরু হবে। এ নিয়ে কোনো বির্তক নেই।’

মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিএনপির সামনে এখন কোনো নির্বাচন নেই। আমাদের প্রধান ও একমাত্র লক্ষ্য, দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা। এরপর আমরা ভাবব; নির্বাচন কমিশনের এমন প্রস্তুতিহীন নির্বাচনে আমরা যাব কি না।’

 


মন্তব্য