kalerkantho


দেশে-বিদেশে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন পাঁচজন

কাঠমাণ্ডুর মর্গে এখনো তিন হতভাগ্য বাংলাদেশির লাশ

তৌফিক মারুফ, কাঠমাণ্ডু (নেপাল) থেকে ফিরে   

২১ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ঢাকায় আর্মি স্টেডিয়ামে সোমবার বিকেলে ২৩ জনের জানাজা শেষে যখন তাদের মরদেহ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়, তখনো কাঠমাণ্ডুর ত্রিভুবন টিচিং ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল মর্গে পড়ে আছে বাংলাদেশের আরো তিন হতভাগ্য যাত্রীর মরদেহ। তাঁদের কোনো স্বজনকেও সোমবার বিকেলে আর দেখা যায়নি ওই মর্গের আশপাশে। মরদেহ তিনটি যে নজরুল ইসলাম, আলিফুজ্জামান ও পিয়াস রায়ের, তা আগেই নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ও নেপালের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। সমস্যা বেধেছে ওই তিনজনের কে কোনজন তা শনাক্ত করা নিয়ে। তাঁদের শরীর ও মুখমণ্ডল পুড়ে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় কয়েক দিন ধরে বহু চেষ্টা করেও চিহ্নিত করতে সফল হননি বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে একটি মরদেহের প্যান্টের স্টিকার রাজশাহীর একটি টেইলারিং শপের হওয়ায় সেটি নজরুল ইসলামের লাশ বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হলেও গত দুই দিনেও তা চূড়ান্ত করা যায়নি। ফলে গতকাল মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নজরুলকে শনাক্ত করার ঘোষণা দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

যদিও সোমবার কাঠমাণ্ডুতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসফি বিনতে শামস তাঁর দপ্তরে কালের কণ্ঠকে বলেছিলেন, ‘আশা করছি, আমরা দু-এক দিনের মধ্যে নজরুলের মরদেহ চিহ্নিত করে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারব।’

আর বাকি দুজনের মরদেহের ব্যাপারে মাসফি বিনতে শামস বলেন, ‘আমরা ডিএনএ টেস্টের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করব। তত দিন ওই মরদেহ ত্রিভুবন টিচিং ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের মর্গে থাকবে।’

এ ক্ষেত্রে মরদেহ দুটি বাংলাদেশে এনে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা যায় কি না—জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।

৫ বাংলাদেশি আইসিইউতে : এদিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের বিশেষজ্ঞ ও ইউএস-বাংলা বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসায় গঠিত বাংলাদেশের মেডিক্যাল টিমের সদস্য ডা. হুসাইন ইমাম ইমন ওই ঘটনায় আহতদের মধ্যে বর্তমানে দেশে-বিদেশে চিকিৎসাধীন সবার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে কালের কণ্ঠকে জানান, সিঙ্গাপুরে পাঠানো ডা. রেজাওয়ানুল হকের শরীরে দুটি অপারেশন করেছেন সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকরা। গতকাল তাঁকে আইসিইউ থেকে সাধারণ বেডে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইমরানা কবীর হাসির শরীরে এক দফা অপারেশন করা হয়েছে। তিনি এখনো আইসিইউতে আছেন।

ওই হাসপাতালের চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে ডা. ইমন বলেন, ‘দুজনই আশঙ্কামুক্ত বলে আমাদেরকে জানানো হয়েছে। হাসির চেয়ে রেজাওয়ানুল অপেক্ষাকৃত অনেকটাই সুস্থ।’

এ ছাড়া সোমবার দুপুরে কাঠমাণ্ডু নরভিক হাসপাতাল থেকে দিল্লির অ্যাপোলো হাসপাতালে পাঠানো  ইয়াকুব আলীকে ওই হাসপাতালের নিউরোসার্জিক্যাল আইসিইউতে রাখা হয়েছে। সেখানে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়েছে। গতকাল সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে রোগীদের সার্বিক খোঁজখবর নেওয়ার এক পর্যায়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ ফোনে ইয়াকুবের অবস্থা সম্পর্কে দিল্লির অ্যাপোলো হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।

আর সোমবার ঢাকায় নিয়ে আসা কবীর হোসেনকেও গতকাল সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেই সঙ্গে রবিবার কাঠমাণ্ডু থেকে ঢাকায় পাঠানো শাহীন ব্যাপারীকেও নেওয়া হয়েছে বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে। তাঁর শরীরে অপারেশন করতে হবে। একই হাসপাতালে থাকা আরেক আহত শাহরিন আহমেদের অবস্থা ভালো।

এ ছাড়া মেহেদী হাসান, রুবায়েত রশীদ ও কামরুন নাহার স্বর্ণা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কেবিনে চিকিৎসাধীন। তাঁদের অবস্থাও তুলনামূলক ভালো বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। আর আরেক আহত আলমুন নাহার এ্যানি বাসায় চলে গেছেন।

ঢাকা মেডিক্যালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী :  গতকাল সকালে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহ উদ্বোধন উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে গিয়ে নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে ঢাকার চানখাঁরপুলে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সাজার্রি ইনস্টিটিউট হাসপাতালটি হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি চিকিৎসাকেন্দ্র। ইনস্টিটিউটটি আগামী সেপ্টেম্বরে চালু করা হবে। যেকোনো ধরনের আগুনে পুড়ে যাওয়া রোগীদের সর্বাধুনিক চিকিৎসার সুযোগ থাকবে এই প্রতিষ্ঠানে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ সচিব ফয়েজ আহম্মদ, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, ঢাকা মেডিক্যালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন প্রমুখ।


মন্তব্য