kalerkantho


সংবাদপত্র পরিবহন শ্রমিকদের অভিযোগ

ফ্রি পত্রিকা না দেওয়ায় গুম করার হুমকি দেন এসআই

জিডি নেয়নি থানা পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় সংবাদপত্র পরিবহন শ্রমিকদের কাছে পত্রিকা চেয়ে না পেয়ে তাঁদের গুম করার হুমকি দিয়েছেন রইস নামের রমনা থানার এক এসআই (উপপরিদর্শক)। গত সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি ওই হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি সংবাদপত্র বণ্টন ও পরিবহনকাজেও বাধা দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাজলা এন্টারপ্রাইজ নামের জাতীয় সংবাদপত্র পরিবহন প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা কালের কণ্ঠ’র কাছে এ অভিযোগ করেছেন।

রইসের দফায় দফায় হুমকির কারণে উৎকণ্ঠার মধ্যে আছেন ওই শ্রমিকরা। ভুক্তভোগীরা শাহবাগ ও রমনা থানা পুলিশের কাছে এ নিয়ে অভিযোগ করেছেন। পুলিশ কর্মকর্তারা এ বিষয়ে তদন্ত করার আশ্বাস দিলেও জিডি (সাধারণ ডায়েরি) গ্রহণ করেননি। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করা হবে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।

কাজলা এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক জয়নাল আবেদীন কালের কণ্ঠকে বলেন, “সোমবার রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি অফিসের উল্টো দিকে রাস্তার পাশে ওই দিন প্রকাশিত পত্রিকাগুলো দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানোর উদ্দেশ্যে পরিবহনে ওঠানোর কাজ চলছিল। সেখানে গিয়ে সাদা পোশাকের একজন কয়েকটি পত্রিকা চান। এ সময় শ্রমিকরা তাঁকে জানান, পত্রিকা প্যাকেট করা, এগুলো বিভিন্ন সংবাদপত্র বিক্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছে। প্যাকেট খুলে পত্রিকা দেওয়া সম্ভব নয়। তখন ওই ব্যক্তি নিজেকে পুলিশ অফিসার রইস পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘আমাকে তোমরা চেন না। আমি চাইলে তোমাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিতে পারি। বাংলাদেশের কোথাও এই গাড়ি চলতে পারবে না। এখানে বসার অনুমতি কে দিয়েছে?’ এরপর কিছুক্ষণের মধ্যেই রইস ফোন করে শাহবাগ থানার এসআই আরাফাতসহ প্যাট্রল গাড়ি সেখানে আনেন এবং হুমকি দিতে থাকেন।”

জয়নাল আবেদীন বলেন, “এ সময় কাজলা এন্টারপ্রাইজের পক্ষ থেকে শাহবাগ ও রমনা থানায় ঘটনাটি জানানো হয়। রইস তখন ২০ মিনিটের মধ্যে পত্রিকা-বান্ডিল নিয়ে সরে না গেলে উঠিয়ে নেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়ে চলে যান। আরাফাতও চলে যান। কিছু সময় পর দুই-তিনজন সঙ্গী নিয়ে আবার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং শ্রমিকদের না সরলে গুম করার হুমকি দেন রইস। তিনি শ্রমিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশের কোথাও তোদেরকে থাকতে দেবে না।’ পরে সংবাদপত্র পরিবহন ব্যবসায়ীরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, রইস রমনা থানার কাকরাইল ফাঁড়ির ইনচার্জ। আর ঘটনাস্থলটি শাহবাগ থানায়।”

ভুক্তভোগীরা জানান, গতকাল শাহবাগ থানায় নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি।

এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান বলেন, ‘পত্রিকা নিয়ে এ ঘটনা। এর জন্য একজন এসআইয়ের বিরুদ্ধে জিডি নেওয়া যাবে না। অভিযোগ থাকলে ডিসি স্যারের কাছে যাক।’

রমনা থানার ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘রাতের ওই ঘটনা আমি শুনেছি। এ ব্যাপারটি খতিয়ে দেখা হবে।’

কাজলা এন্টারপ্রাইজের ব্যবসায়ীরা বলেন, রাতে প্রকাশিত সংবাদপত্রগুলো বান্ডিল ভাগ করে গাড়িতে তুলে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। দীর্ঘদিন ধরেই রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িতে এভাবেই পণ্য পরিবহন চলছে। ঢাকায় পুলিশের এমন বেপরোয়া আচরণ আগে দেখেননি ব্যবসায়ীরা। তাঁরা ডিএমপির রমনা বিভাগের ডিসির কাছে এ ব্যাপারে অভিযোগ করবেন বলেও জানান।



মন্তব্য