kalerkantho


ভাণ্ডারিয়ায় ডায়রিয়ার প্রকোপ

হাসপাতালকর্মীদের ছুটি বাতিল

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, পিরোজপুর   

১৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



হাসপাতালকর্মীদের ছুটি বাতিল

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের স্থান সংকুলান হচ্ছে না। ছবি : কালের কণ্ঠ

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দুই শতাধিক ডায়রিয়া রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েছে চার শতাধিক রোগী। এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছে। প্রশাসন ডায়রিয়া রোধে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দিতে ছয়টি মেডিক্যাল ক্যাম্প গঠনসহ হাসপাতালের সব নার্স ও কর্মচারীর ছুটি বাতিল ঘোষণা করেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রবিবার দুপুরে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগী বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ওয়ার্ডগুলোও ডায়রিয়া ওয়ার্ড হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। হাসাপাতালের মেঝে, বরান্দায়—সর্বত্রই ডায়রিয়া রোগীর ছড়াছড়ি। প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে। পৌর শহরের কানুয়া মহল্লার ষষ্ঠ শ্রেণির মাদরাসার ছাত্রী হাদিয়া তিন দিন ধরে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের বারান্দার একটি বেডে চিকিৎসা নিচ্ছে। তার নানা আব্দুর রশিদ জানান, হাসপাতাল থেকে দুটি কলেরা স্যালাইন দেওয়া হলেও বেশির ভাগ ওষুধ তাদের বাহির থেকে কিনতে হচ্ছে। এ ছাড়া শনিবার সকালে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী জাকিয়া এবং মাকসুদা। তাদের অভিভাবক আতাহার আলী হাওলাদার জানান, এখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় হাসপাতালের সেবিকারাই ডাক্তারের ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে সেবিকারাই হলো এ হাসপাতালের ভরসা। হাসপাতালের ওয়ার্ড ইনচার্জ ফাহিমা বেগম ও স্টাফ নার্স কুরছিয়া আক্তার জানান, ডায়রিয়া রোগীর চাপে তাঁদের ২৪ ঘণ্টাই ডিউটি করতে হচ্ছে। প্রতিদিন ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ফলে নববর্ষের দিনেও তাঁদের হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে।

ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এইচ এম জহিরুল জানান, কয়েক দিন ধরে প্রচণ্ড গরম পড়েছে। সেই সঙ্গে এ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে রয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব। গরম আর পানিবাহিত জীবাণু—এ দুইয়ে মিলে মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। তিনি আরো জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে হাসপাতালে পর্যাপ্ত কলেরা স্যালাইন মজুদ করা হয়েছে। তবে একজন রোগীকে দুই হাজার সিসি পর্যন্ত কলেরা স্যালাইন হাসপাতাল থেকে বরাদ্দ দেওয়া। এদিকে হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নিত হলেও আগের ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই চলছে এর কার্যক্রম। বর্তমানে হাসপাতালে মাত্র দুজন চিকিৎসক রয়েছেন। চিকিৎসক সংকটের ফলে ডায়রিয়া সমস্যা মোকাবেলায় তাঁদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। চিকিৎসা সহকারীদের (স্যাকমো) দিয়ে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে ছয়টি মেডিক্যাল ক্যাম্প এবং উপজেলা সদরে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।


মন্তব্য