kalerkantho


অষ্টগ্রামে কিশোরীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, হাওরাঞ্চল   

১৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে এক কিশোরী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের ছয় বখাটে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মেয়েটিকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় গত শনিবার মামলা রেকর্ড হলেও গতকাল রবিবার পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

১৪ বছর বয়সী মেয়েটি উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের বরাগীরকান্দি গ্রামের এক দিনমজুরের মেয়ে। তার মা সিলেটে বাসাবাড়িতে কাজ করেন। তার বাবা জড়বুদ্ধি প্রকৃতির লোক। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মেয়েটি এক দিন বাড়িতে পড়ে থাকলেও পরের দিন তার মা সিলেট থেকে এসে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করান।

 

আক্রান্ত কিশোরী, তার মা ও এলাকাবাসী জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মেয়েটি হাওর থেকে কুড়িয়ে আনা খড় বাড়ির দাওয়ায় গুছিয়ে রাখছিল। এ সময় গ্রামের শামসু মিয়ার ছেলে হযরত আলী, উছমান মিয়ার ছেলে আসাদ, আব্দুল আজিজের ছেলে সুশেল ও শাহাবউদ্দিনের ছেলে এমদাদসহ ছয় তরুণ মিলে মেয়েটির মুখে গামছা দিয়ে তাকে পাঁজাকোলা করে নিয়ে যায়। প্রায় এক কিলোমিটার দূরের একটি নির্জন ক্ষেতে নিয়ে তারা মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। অভিযুক্তদের বয়স হবে ১৭ থেকে ২০ বছর।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মেয়েটি কালের কণ্ঠকে জানায়, সে ধর্ষকদের দুজন বাদে সবাইকে চিনতে পেরেছে। আক্রান্ত মেয়েটি আরো জানায়, ধর্ষকরাই তাকে ফের নিয়ে এসে বাড়ির কাছে প্রায় অজ্ঞান অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায়। পরে তার গোঙানি শুনতে পেরে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেয়। ঘটনার খবর পেয়ে পরদিন তার মা সিলেট থেকে বাড়ি এসে অষ্টগ্রাম হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান।

অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের রেজিস্টারে ‘ধর্ষণজনিত’ কারণে মেয়েটিকে ভর্তির কথা লেখা রয়েছে। তবে কর্তব্যরত মেডিক্যাল অফিসার ডা. কাওসার হামিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

মেয়েটির মা শনিবার  বিকালে অষ্টগ্রাম থানায় ছয় ধর্ষককে আসামি করে এজাহার দায়ের করেন। পরে রাতেই এ মামলা রেকর্ড হয়। এরপর থানার ওসি কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল শনিবার রাতে ঘটনাস্থলে যায়। শনিবার দিবাগত রাতে বরাগীরকান্দি গ্রামজুড়ে পুলিশ ধর্ষকদের আটক করতে বিশেষ অভিযান চালালেও কাউকে আটক করতে পারেনি। 

ওসি কামরুল ইসলাম কিশোরীকে গণর্ষণের ঘটনার সত্যতা শিকার করে সাংবাদিকদের জানান, ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য গতকাল মেয়েটিকে কিশোরগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।


মন্তব্য