kalerkantho


বসুন্ধরা খাতা-কালের কণ্ঠ জাতীয় স্কুল বিতর্ক শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



বসুন্ধরা খাতা-কালের কণ্ঠ জাতীয় স্কুল বিতর্ক শুরু

রাজধানীর পুলিশ স্মৃতি কলেজ মিলনায়তনে গতকাল ‘বসুন্ধরা খাতা-কালের কণ্ঠ জাতীয় স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০১৮’-র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কথাসাহিত্যিক ও কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, বসুন্ধরা পেপার সেক্টর মার্কেটিং জিএম মো. তৌফিক হাসান, ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ ও শুভসংঘের প্রধান উপদেষ্টা নিয়াজ মোর্শেদ এলিটসহ অন্য অতিথিরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘বিতর্ক এমন একটা ব্যাপার, যা একজন মানুষের জীবনকে আলোকিত করতে পারে। তবে সাহিত্য আর বিতর্কের মধ্যে পার্থক্য আছে। সাহিত্য হচ্ছে হৃদয়। আর বিতর্ক হচ্ছে মস্তিষ্ক। তবে এই মস্তিষ্কই হৃদয়কে পরিচালিত করে।’

গতকাল রবিবার রাজধানীর পুলিশ স্মৃতি কলেজ মিলনায়তনে ‘বসুন্ধরা খাতা-কালের কণ্ঠ জাতীয় স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০১৮’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন এসব কথা বলেন। কালের কণ্ঠ’র শুভসংঘ সারা দেশব্যাপী এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। এতে দেশের ৬০০ স্কুলের এক হাজার ৮০০ বিতার্কিক অংশগ্রহণ করবে।

ইমদাদুল হক মিলন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাদের সন্তানদের মাদক থেকে, অনাচার থেকে, কম্পিউটারের অপব্যবহার থেকে সরাতে চাই। তোমরা ফেসবুক ব্যবহার করবে, কিন্তু আসক্ত হবে না। তোমাদের যুক্তিনির্ভর মানুষ হিসেবে দেখতে চাই। ভালো মানুষ না হলে কেউ দেশ ও সমাজকে আলোকিত করতে পারবে না। কেউ যদি ভালো কাজ করে তাহলে এর সুফল সমাজ, দেশ ও বিশ্ব পাবে।’

ইমদাদুল হক মিলন আরো বলেন, ‘বসুন্ধরা গ্রুপের স্লোগান—দেশ ও মানুষের কল্যাণে। যারা দেশের কথা ভাবে, মানুষের কথা ভাবে তারাই প্রকৃত মানুষ। বসুন্ধরা গ্রুপও সারা দেশের মানুষকে আলোকিত করতে চায়।’

বসুন্ধরা গ্রুপের পেপার সেক্টরের জিএম (মার্কেটিং) মো. তৌফিক হাসান বলেন, ‘আমাদের সমাজে অনেক অবক্ষয় চলমান। আমাদের উচিত পরবর্তী প্রজন্মকে এই অবক্ষয় থেকে রক্ষা করা। বিতর্ক একজন শিক্ষার্থীর মধ্যে যুক্তির বীজ বপন করে। বসুন্ধরা খাতার পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে আমরা এমন একটি জাতি দেখতে চাই, যাদের যুক্তি আছে, মনোবল আছে।’

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান ও শুভসংঘ কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ‘বিতর্ক চর্চার মধ্য দিয়ে আমরা জঙ্গিবাদ, মাদকসহ নানা সমস্যার সমাধান করতে পারি। এই বিতর্ক উৎসবের মাধ্যমে আমরা নব নব তারা দেখতে পাব। যাদের মধ্য দিয়ে আমরা এই দেশকে, বিশ্বকে দেখতে পাব।’

শুভসংঘের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা নিয়াজ মোর্শেদ এলিট বলেন, ‘এই বিতর্কের মাধ্যমে একটা ভালো কাজ শুরু হয়েছে। যেখানে কালের কণ্ঠ আছে, বসুন্ধরা আছে, শুভসংঘ আছে। আর নতুন করে যুক্ত হলো পুলিশ স্মৃতি কলেজ। এখানে ভালো কাজ হবেই।’

পুলিশ স্মৃতি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘কালের কণ্ঠ ও বসুন্ধরা খাতার এ জাতীয় উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। পুলিশ স্মৃতি কলেজ এ কাজে যুক্ত হতে পেরে গর্বিত। যুক্তিতে বলীয়ান, শুদ্ধাচারি মানুষ হওয়ার জন্য বিতর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

বক্তৃতা পর্ব শেষে এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন। প্রতিযোগিতার প্রথম বিতর্কে অংশ নেন রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এবং এস ও এস হারম্যান মেইনার কলেজ। তাদের বিষয় ছিল ‘আগামী পৃথিবীর সংকট ক্ষুধা নয় পরিবেশে’। এতে বিজয়ী হয় আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল। আগামী জুলাই মাসে এই প্রতিযোগিতার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।



মন্তব্য