kalerkantho


দুই মাস ধরে ইকো বন্ধ ঢাকা মেডিক্যালে!

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



দুই মাস ধরে ইকো বন্ধ ঢাকা মেডিক্যালে!

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের আউটডোর থেকে বেরিয়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশা খুঁজছিলেন রাকিবুল ইসলাম। সঙ্গে তাঁর মা। রোদের মধ্যেই অনেকটা সময় দাঁড়িয়ে থেকে হঠাৎ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন রাকিবুল, ‘দেশের সবচেয়ে বড় এই হাসপাতালেই সামান্য একটা ইকো টেস্ট করা যায় না! সেটা করতে এখন ধানমণ্ডি যেতে হচ্ছে! আগে জানা থাকলে তো এখানে না এসে একবারেই অন্য হাসপাতালে যেতাম। বাড়তি হয়রানি আর সময়, টাকাও বেশি খরচ হতো না।’

ঘটনা কী জানতে চাইলে ওই যুবক বলেন, ‘সরকার তো এই হাসপাতাল নিয়ে কত বড় বড় কথা বলে, যন্ত্রপাতির পেছনে নাকি কোটি কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে, তাহলে এত নাই নাই কেন? সেই টাকা দিয়া হচ্ছেটা কী? এখানকার হৃদরোগ বিভাগটা নাকি অচল হয়ে যাচ্ছে, অথচ তা দেখার কেউ নেই!’

ওই রোগীর স্বজনের ক্ষোভের সূত্র ধরে হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আসলেই প্রায় দুই মাস ধরে হৃদরোগীদের ইকো টেস্ট বন্ধ রয়েছে। মোট তিনটি ইকো মেশিন থাকলেও এর সব কটিই নষ্ট।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মহসিন আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সারা দেশ থেকে ঢাকা মেডিক্যালে নানা ধরনের রোগী আসে। আদের অনেকেরই প্রতিদিন ইকো (ইকোকার্ডিওগ্রাফি) করতে এই বিভাগে পাঠানো হয়। কিন্তু এখানে এসে সবাই হতাশ হয়ে ফিরে যায়। আমাদেরও কিছুই করার থাকে না তাদের ফিরিয়ে দেওয়া ছাড়া। কারণ আগে যে দুটি ইকো মেশিন ছিল তাও ঠিকমতো কাজ করছিল না, এর মধ্যে আরেকটি মেশিন এখানে দেওয়া হয়েছিল, সেটিও দুই মাস আগে অচল হয়ে পড়ে। মেরামত যেমন করা যাচ্ছে না, তেমনি নতুন মেশিনেরও কোনো উপায় হচ্ছে না। মানুষ আমাদের গালাগাল দেয়, অনেকে মেশিন নষ্টের কথা বিশ্বাসও করতে চায় না। কেউ কেউ মনে করে আমরা ইচ্ছা করেই রোগীদের বাইরে পাঠাচ্ছি প্রাইভেট কোনো ল্যাবে।’

ওই চিকিৎসক আরো নাজুক পরিস্থিতির তথ্য জানিয়ে বলেন, কেবল যন্ত্র নষ্ট তাই নয়, এই বিভাগে প্রায় দুই বছর ধরে একজন অধ্যাপক, একজন সহযোগী অধ্যাপক আর একজন সহকারী অধ্যাপকের পদ শূন্য পড়ে আছে। সেটাও পূরণের কোনো উদ্যোগ নেই। এমনকি চতুর্থ শ্রেণির জনবলও নেই। ফলে এখন এই বিভাগে রোগী রাখা মুশকিল হয়ে পড়ছে। প্রতিদিন দেড়-দুই শ রোগী ফিরে যাচ্ছে ইকো করাতে না পেরে।

ডা. মহসিন বলেন, ‘অথচ এই বিভাগটি বেশ উপকারে আসছিল রোগীদের। এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু রাখতে পারলে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ওপরও রোগীর চাপ অনেকটাই কমে যায়। এখানে আমরা প্রতিদিনই এনজিওগ্রাম করছি, তবে এখনো এখানে বাইপাস সার্জারি চালু হয়নি।’

একই বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. সি এম কুদরত-ই-খোদা যোগ করেন, ইকো বন্ধ থাকার প্রভাব পড়েছে আউটডোরের রোগীদের ওপরও। রোগীরা টিকিট কেটে ডাক্তার দেখিয়ে যখন জানতে পারে এখানে ইকো করা যায় না, তখনই তারা খেপে যায়। অনেকেই ইকো করাতে বাইরে গিয়ে আর ফিরে এখানে আসে না। অন্য কোথাও ডাক্তার দেখিয়ে নেয়।



মন্তব্য