kalerkantho


আধিপত্য নিয়ে বিরোধ

ফরিদপুরে দুই পক্ষের হামলা-ভাঙচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

১৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



ফরিদপুরের সদরপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রবিবার দুপুরে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর বাজার এবং পাশের ঠেঙ্গামারী ও নিজগ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ফকির মো. বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে কৃষ্ণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আখতারুজ্জামান তিতাসের বিরোধ চলছিল। গত মঙ্গলবার সকালে কৃষ্ণপুর বাজারে ইউপি চেয়ারম্যানের সমর্থক আব্দুর রহমানকে ছিনতাইকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ৫৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।

এ ঘটনায় আখতারুজ্জামানের সমর্থকদের আসামি করে থানায় মামলা করা হয়। গতকাল সকালে ফরিদপুরের বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির হয়ে আসামিরা জামিন প্রার্থনা করে। তবে জামিনের বিরোধিতা করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী ইনজামুল হক মিঠু। মিঠু কৃষ্ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেনের ছোট ভাই। আদালত জামিন মঞ্জুর করলে আসামিরা বেরিয়ে এসে আইনজীবী মিঠুকে নাজেহাল করে।

খবর পেয়ে মিঠুর ভাই ইউপি চেয়ারম্যানের সমর্থকরা কৃষ্ণপুর বাজারে বিক্ষোভ করে। একপর্যায়ে তারা পাশের ঠেঙ্গামারী গ্রামে আসামি আসলাম মাতুব্বরের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর চালায়। আখতারুজ্জামানের সমর্থকরা কৃষ্ণপুর বাজারে আসার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় পুলিশ বিল্লাল ফকিরের সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করে দিলে তারা কৃষ্ণপুর বাজারে ওই পক্ষের ১৫টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুট চালায়। পরে আখতারুজ্জামানের সমর্থকরাও পাল্টা বেশ কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করে।

ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল ফকির বলেন, ‘কোর্ট এলাকায় আমার ভাইয়ের ওপর হামলার প্রতিবাদে এলাকাবাসী বিক্ষোভ করে। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে তারা কৃষ্ণপুর বাজারে গিয়ে কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করে।’

আখতারুজ্জামান বলেন, ‘গত বছর ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল ফকির কৃষ্ণপুর বাজারের ইজারা নেন। এ বছর আমার এক সমর্থক কৃষ্ণপুর বাজারের ইজারা পান। আজ (গতকাল) ছিল ওই বাজারের প্রথম হাট। আমরা যাতে হাটের ইজারা ঠিকমতো তুলতে না পারি, এ জন্য ভাইয়ের ওপর কথিত হামলার গুজব ছড়িয়ে ইউপি চেয়ারম্যান এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।’

সদরপুর থানার ওসি হারুন অর রশীদ বলেন, হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ করেনি। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।


মন্তব্য