kalerkantho


পঞ্চগড়ের চার সীমান্তে মিলনমেলা দুই দেশের বাংলাভাষীদের

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

১৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



পঞ্চগড়ের চার সীমান্তে মিলনমেলা দুই দেশের বাংলাভাষীদের

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে গতকাল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ৭৪৪-এর নো ম্যান্স ল্যান্ডসহ চারটি সীমান্ত এলাকায় এক মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার কালীগঞ্জ এলাকার খিরতা রানী (৬৫) মেয়ে দুর্গাকে ভারতের জলপাইগুড়িতে বিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু বিয়ের ৩০ বছরেও মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরতে পারেননি। মেয়ের চার সন্তানও বড় হয়ে গেছে। তাদের কারো বিয়েও হয়েছে। পাসপোর্ট ভিসা করে ভারতে গিয়ে মেয়েকে ও নাতি-নাতনিদের ছুঁয়ে দেখার সামর্থ্য নেই তাঁর। তাই মেয়েকে এক পলক দেখার জন্য ছুটে এসেছেন তিনি। সঙ্গে মেয়ের পরিবারের জন্য কিছু উপহার সামগ্রীও নিয়ে এসেছেন। লাখো মানুষের ভিড়ে খিরতা রানীর একটি কথা ভেসে আসে, ‘মা, টাকা জোগাড় করি তোক মুই ধরি আইসিম। তোক দেখাবার মোনাইছে মা।’

শুধু খিরতা রানীই নন, এই দিনে লাখো মানুষ স্বজনদের একপলক দেখার জন্য ছুটে আসে পঞ্চগড়ের বিভিন্ন সীমান্তে। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে গতকাল রবিবার পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ৭৪৪-এর নোম্যান্স ল্যান্ডসহ চারটি সীমান্ত এলাকায় এ মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়।

বিজিবি ও বিএসএফের কঠোর নিরাপত্তায় বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তবর্তী বাংলা ভাষাভাষীরা এ মিলনমেলায় যোগ দেয়। তেঁতুলিয়ার ভুতিপুকুর, মাগুরমারি, শুকানি ও পঞ্চগড় সদরের অমরখানা সীমান্তজুড়ে নানা বয়সী নারী-পুরুষের ঢল নামে।

প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এ মেলায় লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। ওই দুটি উপজেলার সীমান্তবর্তী প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিরাজ করে আনন্দমুখর পরিবেশ। নববর্ষের দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত এ মেলার পাশাপাশি তেঁতুলিয়ার অমরখানা সীমান্তের নাওঘাটায় সীমান্তহাট স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সকালে পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়কের অমরখানা এলাকায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান নুরুসহ স্থানীয়রা।

উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালে দেশ ভাগের পরপরই বাংলাদেশ ও ভারতের অনেক মানুষ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ভৌগোলিক সীমারেখা অতিক্রম করতে পাসপোর্ট ও ভিসার অভাবে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করার জন্য যারা যাতায়াত করতে পারে না, তাদের লক্ষ্য থাকে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে তারকাঁটার বেড়ার এপার-ওপার থেকে দেখার সুযোগ কাজে লাগানো। প্রতিবছর বাংলা নববর্ষের দ্বিতীয় দিন বিভিন্ন সীমান্তে স্বজনদের মধ্যে সাক্ষাতের এ সুযোগ হয়। এ সময় অনেকেই তারকাঁটার বেড়ার ওপর দিয়ে বিভিন্ন উপহার সামগ্রীও পাঠায় স্বজনদের কাছে।



মন্তব্য