kalerkantho


‘নির্বাচনী সংলাপ-২০১৭’ গ্রন্থ বিতরণ চলছে

সুপারিশের ৬৯ পয়েন্টের ছয়টিই সেনা সম্পর্কিত

বিশেষ প্রতিনিধি   

১৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



সুধীসমাজ, গণমাধ্যম, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, নারী নেত্রী ও নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপ নিয়ে নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত ‘নির্বাচনী সংলাপ ২০১৭’ শিরোনামের প্রতিবেদন গ্রন্থে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কোনো সুপারিশ স্থান পায়নি। এই গ্রন্থে সংগঠনটির নাম উল্লেখ না করে বলা হয়েছে, ‘একটি দল সংলাপ বর্জন করায় তাদের কোনো বক্তব্য এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ ছাড়া ১৬০ পাতার এই গ্রন্থে নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের এমন কিছু মূল্যায়ন প্রকাশ করা হয়েছে যা সংলাপের সময় প্রকাশ হয়নি। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে এই প্রতিবেদন গ্রন্থ সরকারি কর্তৃপক্ষ, সংলাপে অংশগ্রহণ করা দল, সংগঠন ও ব্যক্তিবিশেষের কাছে পাঠানো শুরু হয়েছে। গতকাল রবিবারও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে এই গ্রন্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছিল।

নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ গতকাল রবিবার এ বিষয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, কয়েক দিনের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট সবার কাছে এটি পৌঁছে যাবে।

গ্রন্থে প্রকাশিত নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ বা মূল্যায়নের ৬৯টি পয়েন্টের মধ্যে ছয়টিই হচ্ছে সেনাবাহিনী প্রসঙ্গে। এগুলো হচ্ছে—১. সেনাবাহিনী মোতায়েন হলে তা যদি ম্যাজিস্ট্রেটের নিয়ন্ত্রণে থাকে তাহলে কোনো কাজে আসবে না। ২. সেনাবাহিনী মোতায়েন হলে তাদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে। অর্থাৎ তারা যদি ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে থাকে তাহলে তাদের দায়িত্ব পালন সঠিকভাবে হবে না। ৩. সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়ার দরকার নেই। আবার ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে সেনা মোতায়েন করা হলে তা কার্যকরী হবে না। কাজেই কী পদ্ধতিতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে তা আগে থেকেই নির্ধারণ করা প্রয়োজন। ৪. সেনা মোতায়েন করা দরকার কি না তা নির্বাচন কমিশনই ঠিক করবে। ৫. মাঠপর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূলত পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করে। আগের নির্বাচনগুলোতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা মূল্যায়ন করতে হবে। ৬. সেনাবাহিনী নিয়োগ দিতে হবে। তা না হলে কমিশন বিতর্কের মুখে পড়বে।

গত বছরের ২৪ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ হিসেবে মোট ২৬ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও উপস্থিত হয়েছিলেন ১৬ জন। তাঁরা হলেন—সাবেক সিইসি বিচারপতি আব্দুর রউফ ও সাবেক সিইসি এ টি এম শামসুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার মো. সাইফুল আলম, মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন, এম সাখাওয়াত হোসেন, মোহাম্মদ আবদুল মোবারক, মো. আবু হাফিজ, মো. শাহ নেওয়াজ, সাবেক ইসি সচিব ড. এ এফ এম মহিউর রহমান, সাবেক সচিব হুমায়ুন কবির, সাবেক আইজিপি মোহম্মদ হাদীস উদ্দীন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবদুল করিম, সাবেক সচিব এএসএম ইয়াহিয়া চৌধুরী, বিজিবি ও আনসার-ভিডিপির সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রফিকুল ইসলাম ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সাবেক সচিব মঞ্জুর আহমেদ। তবে নির্বাচনে সেনা নিয়োগ বিষয়ে ওই সব মূল্যায়ন কাদের তা এই গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়নি।

প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গত বছরের ৩১ জুলাই সুধীসমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে এই সংলাপ শুরু করে। শেষ হয় ২৪ অক্টোবর।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সঙ্গে কমিশনের সংলাপ ছিল গত ১৬ অক্টোবর। সংলাপে দলটির সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃ প্রতিষ্ঠাতা বলার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন।


মন্তব্য