kalerkantho


গাজীপুর সিটি নির্বাচন

আয় ও স্থাবর সম্পদ বেশি জাহাঙ্গীরের

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

১৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের আয়, নগদ টাকা, স্থাবর সম্পদের পরিমাণ তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী হাসানউদ্দিন সরকারের চেয়ে বেশি। দুজনের হলফনামা থেকে এই তথ্য জানা গেছে। গতকাল রবিবার যাচাই-বাছাইয়ে ওই দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং অফিসার রকিব উদ্দিন মণ্ডল।

হলফনামা অনুযায়ী, জাহাঙ্গীর আলম একজন ব্যবসায়ী। তিনি অনারেবল টেক্সটাইল কম্পোজিট লিমিটেড ও জেড আলম অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএ ও এলএলবি। সম্ভাব্য বার্ষিক আয় ৩০ লাখ টাকা। তাঁর নগদ অর্থের পরিমাণ সাত কোটি ৪৮ লাখ ৯৬ হাজার ২৮ টাকা। ব্যাংকে জমা আছে মাত্র এক লাখ ৫৫ হাজার ৯৭১ টাকা। ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ আছে ৭৫ লাখ ২৩ হাজার ৭৮৭ টাকা। এর মধ্যে অনারেবল টেক্সটাইল মিলে শেয়ার বাবদ ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও জেড আলম অ্যাপারেলস লিমিটেডে শেয়ার বাবদ ২০ হাজার টাকা। বাকি টাকা অন্য ব্যবসায় বিনোয়োগ করা। তাঁর ১০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র রয়েছে। এ ছাড়া তাঁর দুটি গাড়ি, ৩৫ ভরি সোনা, এক লাখ ৭৫ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী, দেড় লাখ টাকার আসবাব, এক লাখ ৫৫ হাজার ৯৫০ টাকা দামের একটি বন্দুক ও একটি পিস্তল রয়েছে।

জাহাঙ্গীর আলমের স্থাবর কৃষি সম্পত্তির পরিমাণ এক হাজার ৪১৫ দশমিক ১৫ শতক, অকৃষি ৩৩ দশমিক ৭১২৪ শতক। ৭ দশমিক ৪৩৭ শতক জমির ওপর আবাসিক ভবন আছে। তিনি হলফনামায় জমি বিক্রির জন্য বায়না বাবদ দায় দেখিয়েছেন আট কোটি টাকা।

হাসানউদ্দিন সরকার হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস। তাঁরও পেশা ব্যবসা। ব্যবসা ও ঘরভাড়া থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ২০ লাখ টাকা। এর মধ্যে কৃষি খাত থেকে আয় ৬৩ হাজার টাকা, বাড়িভাড়া থেকে পাঁচ লাখ ২২ হাজার ৯০০ টাকা, ব্যবসা থেকে আয় তিন লাখ ৭৩ হাজার টাকা ও মুক্তিযোদ্ধা ভাতা থেকে আয় এক লাখ ২৭ হাজার ৫০০ টাকা। তাঁর নগদ রয়েছে তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা। ব্যাংকে জমা ৬০ লাখ ৪৯ হাজার ৬০১ টাকা। সাড়ে ২২ লাখ টাকা দামের একটি গাড়ি, ২১ তোলা সোনা, একটি পিস্তল ও একটি শটগান রয়েছে তাঁর।

হাসানউদ্দিনের স্ত্রীর নামে একটি একনলা বন্দুক রয়েছে। স্ত্রীর নামে নগদ রয়েছে ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ব্যাংকে রয়েছে ৫৮ হাজার ৫৪২ টাকা। সোনা আছে ৩২ তোলা।

হলফনামা অনুযায়ী, হাসানউদ্দিন সরকারের স্থাবর সম্পত্তির মূল্য ৭৭ লাখ ৮৪ হাজার ১৮৮ টাকা। কৃষিজমি আছে ৫০০ দশমিক ৫৩১ শতক, যার দাম উল্লেখ করা হয়েছে ৯৪ হাজার ৪৬৪ টাকা। সাড়ে সাত শতক বাণিজ্যিক সম্পত্তিতে দোকান রয়েছে পাঁচটি। টঙ্গীতে ৯০ শতক জমিতে ৩২টি সেমিপাকা ঘর আছে, যা থেকে বার্ষিক আয় ২৫ লাখ ৬২ হাজার ৮৪৯ টাকা। একটি একচালা টিনশেড ঘর আছে, যা থেকে বার্ষিক আয় তিন লাখ টাকা। এ ছাড়া দুই হাজার ৯০০ বর্গফুটের একটি চারতলা অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে।

হাসানউদ্দিনের স্ত্রীর নামে কৃষিজমি রয়েছে ২০৮ দশমিক ৮৩৫ শতক, যার মূল্য ৬১ হাজার ৩১৯ টাকা। অকৃষি জমি রয়েছে ৭০ শতাংশ, যার মূল্য ৬০ হাজার টাকা। গাজীপুরের বারইপাড়া ও ভাওয়ালগড় এলাকায় রয়েছে ২৭ শতক জমি, যার মূল্য আট লাখ ৭৯ হাজার ৭৫০ টাকা। টঙ্গীর বাদাম এলাকায় সেমিপাকা ৩২টি ছাপরা ঘর রয়েছে, যা থেকে ভাড়া বাবদ আয় হয় ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। হাসানউদ্দিন সরকার চেকের মাধ্যমে ঋণ গ্রহণ করেছেন ২৬ লাখ ৭৪ হাজার টাকা বলে হলফনামায় উল্লেখ আছে।


মন্তব্য