kalerkantho


বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি

কর্মকর্তাদের ওপর শ্রমিকদের হামলা, সংঘর্ষে আহত ৩০

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

১৬ মে, ২০১৮ ০০:০০



কর্মকর্তাদের ওপর শ্রমিকদের

হামলা, সংঘর্ষে আহত ৩০

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে শ্রমিক ধর্মঘটের মধ্যে ভেতরে ঢোকার সময় কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে আন্দোলনরত শ্রমিকরা। এই ঘটনার জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মহাব্যবস্থাপকসহ (জিএম) কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। শ্রমিক ধর্মঘটের তৃতীয় দিনে গতকাল মঙ্গলবার সকালে খনির প্রধান ফটকে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় খনি কর্তৃপক্ষ খনির ভেতরে জরুরি বৈঠক করে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।

আহতদের মধ্যে ১০ জন খনির কর্মকর্তা। তাঁরা হলেন বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক এ বি এম কামরুজ্জামান, ব্যবস্থাপক  সানাউল্যা, ব্যবস্থাপক সৈয়দ হাছান ইমাম, ব্যবস্থাপক সাজিউল ইসলাম, ব্যবস্থাপক জাহেদুর রহমান, সহকারী ব্যবস্থাপক কমল মল্লিক, সাজ্জাদ হোসেন, মুন্সি মিয়া, মাহাবুব হোসেন ও ইমরান হাসান।

আহত শ্রমিকদের মধ্যে খনি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদ আবু সুফিয়ান, শ্রমিক নেতা গোলাম মোস্তফা, এনামুল হক, মোতালেব হোসেন, আয়জার রহমান ও রাকিব হোসেনের নাম জানা গেছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে ফুলবাড়ী ও পার্বতীপুর হলদিবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে খনির চার কর্মকর্তা সাজিউল ইসলাম সাজু, সানাউল্যা, কমল মল্লিক ও জাহেদুর রহমান গুরুতর আহত হওয়ায় তাঁদের দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

খনির কর্মকর্তা ও আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল সকাল ৯টার দিকে খনির ছয় কর্মকর্তা মোটরসাইকেল নিয়ে খনির প্রধান ফটক দিয়ে ভেতরে ঢুকতে যান। তখন সেখানে অবস্থান করা আন্দোলনরত শ্রমিকরা তাঁদের বাধা দেয়। এর পরও তাঁরা ঢুকতে গেলে শ্রমিকরা ওই ছয় কর্মকর্তার ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এই খবর পেয়ে খনির ভেতরে অবস্থান করা অন্য কর্মকর্তারা সহকর্মীদের উদ্ধার করতে ঘটনাস্থলে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে বৃষ্টি এলে দুই পক্ষ যার যার অবস্থানে চলে যায়।

শ্রমিকদের হামলায় আহত মহাব্যবস্থাপক এ বি এম কামরুজ্জামান বলেন, তিন দিন ধরে খনির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চীনা সিএমসির অধীনে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকরা ১৩ দফা দাবি নিয়ে খনিটি অবরুদ্ধ করে ধর্মঘট পালন করছে। তাদের এই কর্মসূচির কারণে খনির সদর দপ্তরের ভেতরে বসবাস করা কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছেন। গতকাল সকালে বাইরে থাকা ছয়জন কর্মকর্তা মোটরসাইকেল নিয়ে খনিতে প্রবেশ করতে গেলে শ্রমিকরা সামনের চারটি মোটরসাইকেল ছেড়ে দিয়ে পেছনের দুটি মোটরসাইকেল আটক করে মাহাবুব হোসেন ও ইমরান হাসান নামের দুই কর্মকর্তাকে মারধর শুরু করে। এই খবর খনির ভেতরে গেলে খনিতে কর্মরত অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আহত কর্মকর্তাদের উদ্ধার করতে আসে। ওই সময় আন্দোলনরত শ্রমিকরা অন্য কর্মকর্তাদের ওপরও লাঠিসোঁটা ও রেললাইনের পাথর নিয়ে হামলা চালায়।

মহাব্যবস্থাপক আরো বলেন, তিনি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করলে শ্রমিকরা তাঁকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। এ ছাড়া শ্রমিকদের হামলায় আরো ৯ জন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির শ্রমিকরা ১৩ দফা দাবিতে তিন দিন আগে থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী ছয় দফা দাবিতে খনি গেটে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ফুলবাড়ী সার্কেল) রফিকুল ইসলাম জানান, শ্রমিক ও খনির কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি ও পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেহানুল হক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বিষয়টি সমাধানের জন্য। তিনি বলেন, ‘খনি এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

 


মন্তব্য