kalerkantho


সরেজমিনে একটি কেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা   

১৬ মে, ২০১৮ ০০:০০



সরেজমিনে

একটি কেন্দ্র

সকাল ১০টা। ভোটগ্রহণ শুরুর পর দুই ঘণ্টা পার হয়েছে। খুলনা বিদ্যুেকন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটাররা আসছেন, ভোট দিচ্ছেন। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানোর প্রয়োজন হচ্ছে না। ভিড় কম। তাই যাঁরাই আসছেন, তাঁরা বেশ ধীরে-সুস্থে ভোট দিতে পারছেন।

জানা গেল, দুই ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ১৪৬টি। এই কেন্দ্রে মোট ভোটার এক হাজার ১৭৭ জন। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর জানা গেল এই পুরো সময়ে ভোট পড়েছে ৬৭৭টি। শতকরা হিসাবে এই কেন্দ্রে ভোট প্রদানের হার ৫৭.৫০ শতাংশ।

সাধারণভাবে এই স্কুলকে খালিশপুরের গোয়ালপাড়া বিদ্যুেকন্দ্র স্কুল নামেই চেনে লোকজন। একসময় রমরমা বিদ্যুেকন্দ্রটির মতো স্কুলটিও রমরমা ছিল। এখন অনেক বিদ্যুেকন্দ্র হওয়ায় এটির জৌলুস কমেছে। শ্রমিক সংখ্যা কমেছে। পাশাপাশি স্কুলের গুরুত্বও যেন কমেছে। কিন্তু খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিন হওয়ায় গতকাল স্কুলটির আশপাশে ছিল অনেক মানুষের ভিড়। কেন্দ্র থেকে একটু দূরে স্কুলের দিকে যেতে তিন রাস্তার সংযোগস্থলে ছিল মেয়র-কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর সমর্থকদের জটলা। ছিলেন বিদ্যুৎ শ্রমিক লীগের এক নেতাও। খোঁজ-খবর নিচ্ছিলেন ভোটারদের। এই কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেছেন একজন পর্যবেক্ষকও; তিনি ইডাব্লিউজির (ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ) সদস্য।

ভোটকেন্দ্রে লোকজনের উপস্থিতি কম হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে একজন সাধারণ ভোটার রফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখানে ভোটারসংখ্যা এমনিতেই কম। মাত্র এক হাজার ১৭৭ জন। এর প্রায় অর্ধেক ভোটারই এলাকায় নেই। বিদ্যুেকন্দ্রটি নাজুক হওয়ায় এখানকার শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে যাঁদের বাড়ি অন্য জেলায়, তাঁরা চলে গেছেন। অনেকেই চাকরি ছেড়েছেন। এখনো যাঁরা চাকরি করছেন তাঁরাই পড়ে আছেন। তাই ভোটারদের উপস্থিতি কম।’

খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে কেন্দ্রটির অবস্থান। এখানে ভোটার কম হওয়ায় পোলিং বুথের সংখ্যাও কম। মাত্র চারটি। প্রতিটি বুথেই মেয়র পদের পাঁচজন প্রার্থীর এজেন্ট পাওয়া গেল। কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদেরও এজেন্ট ছিল। সবাই ভোট নিয়ে তাঁদের সন্তুষ্টির কথা জানালেন। 

মেয়র পদে হাতপাখা প্রতীকের এজেন্ট মাওলানা শফিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের এখানে খুবই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হচ্ছে। সব প্রার্থীরই এজেন্ট আছে। ভোটার তালিকা দেখে আমরা ভোটারদের শনাক্ত করছি। পরিচয় নিশ্চিত হচ্ছি। তারপর ভোট প্রদানের অনুমতি দিচ্ছি।’

 


মন্তব্য