kalerkantho


চীনকে ইঙ্গিত করে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষোভ

কিছু দেশের কারণে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ মে, ২০১৮ ০০:০০



কিছু সদস্য দেশের জন্য রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের ব্যাপারে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ কোনো শক্ত ব্যবস্থা নিতে পারছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার সফর শেষ করে ফিরে যাওয়ার পর রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদে প্রথম বৈঠক হয় সোমবার। ওই বৈঠকে নিকি তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলে সংবাদমাধ্যম জানায়।

নিকিকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলে, ‘কাউন্সিলের (নিরাপত্তা) কিছু সদস্যের ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্য কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি সাম্প্রতিক সফরের সময় কোনো কোনো প্রতিনিধি কাউন্সিলের ঐক্য নষ্ট করেছেন, কাউন্সিল যে বার্তা মিয়ানমারকে দিতে চেয়েছিল, তা দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে।’ নিকি সরাসরি চীনের নাম উল্লেখ না করলেও তিনি যে চীনেরই সমালোচনা করেছেন তা তার বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল বলে রয়টার্স জানায়। কারণ নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে ব্রিটেন যে বিবৃতির খসড়া প্রস্তাব করেছিল, চীনের চাপে তাতে অনেক পরিবর্তন করতে হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ব্রিটেনের তৈরি প্রস্তাবে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের কথা বলা হয়েছিল, যেটা চাপের কারণে বাদ দিতে হয়েছে। ফলে অপেক্ষাকৃত দুর্বল একটি বিবৃতিতে শেষ পর্যন্ত ঐকমত্য হয়।

নিকিকে উদ্ধৃত করে এএফপি জানিয়েছে, ‘রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নিরাপত্তা পরিষদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ সংকট সমাধানে মিয়ানমার যাতে বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ নেয়, তা নিশ্চিত করার ক্ষমতা আমাদের কাছে রয়েছে।’ এএফপি বলছে, মুখে না বললেও, নিকি মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।

জানা গেছে, জাতিসংঘে চীনের দূত মা ঝাওশু নিকির সমালোচনার জবাবে বলেন, পরিস্থিতি আরো জটিল না করে, নিরাপত্তা পরিষদের উচিত বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারকে দ্বিপক্ষীয়ভাবে সমস্যার সমাধানে উত্সাহিত করা।

কূটনীতিকদের সূত্রে সংবাদ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, মিয়ানমারের ওপর নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে আলোচনায় রাশিয়াও চীনের সমর্থনে কথা বলেছে।

এ মাসের গোড়ার দিকে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিদলের মিয়ানমার সফরের সময় জাতিসংঘে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত বিবিসিকে বলেছিলেন, সফরকারী কূটনীতিকরা অং সান সুচি এবং মিয়ানমারের সেনাপ্রধানকে ‘স্পষ্ট করে বলেছেন’ রাখাইনে নির্যাতন, হত্যা এবং ধর্ষণের ঘটনাগুলোর ‘বিশ্বাসযোগ্য’ তদন্ত না করলে আন্তর্জাতিক আদালতে (আইসিসি) বিচারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

গত সপ্তাহে রয়টার্সের একটি অনুসন্ধানী রিপোর্টে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের ধর্ষণ এবং হত্যার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য-প্রমাণ জোগাড় করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে মিয়ানমারের সেনা-কর্মকর্তাদের আইসিসিতে বিচার হলে সাক্ষ্য-প্রমাণ হাজির করা যায়। তবে নিরাপত্তা পরিষদের দুই স্থায়ী সদস্য—চীন ও রাশিয়ার অবস্থানের কারণে সে পথে এগোনো কতটা সম্ভব তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক আদালতে রুদ্ধদ্বার বৈঠক

নিরাপত্তা পরিষদে মতদ্বৈধতা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের হত্যা-নির্যাতন-ধর্ষণের জন্য অভিযুক্তদের তদন্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আদালতের প্রধান কৌঁসুলি ফাতু বেনসৌদা এ তদন্তের জন্য বিচারকদের কাছে অনুমতি চেয়েছেন।

এ ব্যাপারে আদালতের তিনজন বিচারক গত সপ্তাহে বাংলাদেশের বক্তব্য জানতে চেয়ে ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। এএফপি জানাচ্ছে, এই তদন্ত হবে কি না সে ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে অপরাধ আদালতের বিচারকরা জুনের ২০ তারিখ এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসবেন।


মন্তব্য