kalerkantho


বৃষ্টি হলেই ঢাকা গতিহীন, স্থির

ভোগান্তির শেষ নেই গাড়ি চলে খুঁড়িয়ে

পার্থ সারথি দাস    

২২ মে, ২০১৮ ০০:০০



বৃষ্টি হলেই ঢাকা গতিহীন, স্থির

সামান্য বৃষ্টিতেই গতকাল সকালে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ডুবে যায়। এতে বিপাকে পড়ে সাধারণ মানুষ। ছবিটি মিরপুরের কাজীপাড়া এলাকা থেকে তোলা। ছবি : লুৎফর রহমান

স্থানে স্থানে ভাঙা রাস্তা, কোথাও উন্নয়নকাজের জন্য চলাচলের পথ সংকুচিত হয়েছে অর্ধেকেরও বেশি। স্বাভাবিক সময়েই গাড়ি চলে হাঁটার গতিতে। বাসে-মিনিবাসে ঘণ্টায় ৯ কিলোমিটার গতি ছিল তিন বছর আগেও। তা নেমে হয়েছে পাঁচ কিলোমিটার। তার ওপর সামান্য বৃষ্টি হলেই ঢাকা ডুবে যাওয়ার দশা হয়। ডুবন্ত শহরে বাসের গতি আরো কমে। বেশির ভাগ স্থানে স্থির থাকে গাড়ির চাকা। মনে হয়, ঢাকায় গতি নেই, স্থির।

গতকাল সোমবার সকালে টানা তিন ঘণ্টায় মাত্র ১৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। তাতেই রাজধানীর কোথাও হয়ে ওঠে ডোবা, কোথাও পুকুর। কোথাও বয়ে চলছিল নদীর মতো জলধারা। ছাতা হাতে কিংবা বৃষ্টি মাথায় নিয়ে গন্তব্যে যাওয়ার বাসে ও মূল রাস্তায় ওঠার আগেই অলিগলির কাদাপানিতে জেরবার হয় যাত্রীরা। পরনের পোশাক, পা, জুতো সব লেপ্টে গিয়েছিল কাদাপানিতে। অনেককে জরুরি অনুষ্ঠানে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করতে হয়।

আগের রাতে বৃষ্টি স্বস্তি এনে দিয়েছিল। কিন্তু দিনের আলো ফোটার সঙ্গে রাজধানীতে শুরু হয় দুর্যোগের আবহ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, রাজধানীতে গত রবিবার ভোর ৬টা থেকে গতকাল সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গতকাল ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয় ১৯ মিলিমিটার। বৃষ্টির কারণে রাস্তায় গণপরিবহন ছিল খুব কম। মিরপুর-যাত্রাবাড়ী রুটে চলাচলকারী ‘শিখর’ পরিবহনের বাসচালক মো. রিয়াজ মিয়া বলেন, ‘বিষ্টি হইলেই দিন শ্যাষ হইয়া যায় এক ট্রিপে। পানি না নামলে গাড়ি চালান যায় না।’ তিনি জানান, জলাবদ্ধতা থাকলেই গাড়ির গতি অর্ধেকে নেমে আসে।

ঢাকায় এখন ভাঙাচোরা রাস্তাহীন এলাকা নেই। ওয়াসা, পাউবো, এলজিআরডি, সওজ অধিদপ্তর, সেতু বিভাগ, মহাসড়ক বিভাগ, গণপূর্ত অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থার কাজ চলছে। তাতে সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে, কোথাও নতুন করে রাস্তা খোঁড়া হচ্ছে। বৃষ্টি হওয়ায় এসব খুঁড়ে রাখা অংশ হাঁ করে থাকে ভয়ংকরভাবে। জলাবদ্ধ হলে নিচের রাস্তা ভালো না খারাপ, নাকি কোনো গর্ত আছে তা বোঝা যায় না। হাতে প্রাণ নিয়ে চলতে হয়। সতর্ক হয়ে চললেও কাদাপানি থেকে রেহাই নেই।

গতকাল দুপুরের দিকে মিরপুরের চলন্তিকা মোড়ে ৯ বছরের মেয়ে স্বাগতাকে সঙ্গে নিয়ে পথ চলতে গিয়ে মা-মেয়ে দুজনই কাদায় গড়াগড়ি খায়। একটি বেসরকারি টেলিভিশন সকাল ৮টার অনুষ্ঠানের জন্য একজন অতিথিকে নিয়ে আসতে মিরপুরে গাড়ি পাঠালেও চালক গাড়ি নিয়ে সেখানে ঢুকতে পারেননি। পরে ওই অতিথিকে হালকা বাহনে করে গাড়িতে তোলা হয়। ঢাকার রাস্তার এমন অবস্থার কারণে গতকাল চট্টগ্রামে যাওয়া বাতিল করেন শ্যামলীর বাসিন্দা রজত বিশ্বাস।

সকাল সাড়ে ৯টায় দেখা গেল, মিরপুর-আগারগাঁও সড়কে সারি সারি ভ্যান চলছে। একেকটি ভ্যানে যতজন পারা যায় তোলা হচ্ছে। ভ্যান চলতে চলতে গর্তে কাত হয়ে পড়ছিল। তাতে যাত্রীরাও রাস্তায় পড়ে পানি-কাদায় একাকার হচ্ছিল। বাস চলছে দু-একটা। বাসের ভেতরও পানি ঢুকে পড়েছিল। পানি ছিটাতে ছিটাতে চলছিল জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস। পাশে হেঁটে চলা শিউলি বেগমকে ভিজিয়ে দিয়ে গেল। শেওড়াপাড়া ওভারব্রিজের নিচে দাঁড়ানো অবস্থায় তিনি বলেন, ‘রাস্তায় নাইম্যাই তো ভিইজ্যা শ্যাষ হয়া গেলাম।’

মিরপুর-১০ নম্বর থেকে পায়ের জুতা হাতে নিয়ে ফুটপাত ধরে চলছিলেন পিউ ইসলাম, সঙ্গে আরো নারী যাত্রী। তাঁরা বাস পাননি, ভ্যান পাননি। চলতে চলতে কাজীপাড়ায় কোমর ডুবছিল যেন। হঠাৎ গর্তে পা পড়লে হাতের ব্যাগ পড়ে ভাসছিল তাঁর। নিজেকে সামলাবেন না ব্যাগ ধরবেন—হতবুদ্ধি হয়ে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন তিনি।


মন্তব্য