kalerkantho


আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস আজ

জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সেন্ট মার্টিনসে পর্যটক সীমিত করা হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ মে, ২০১৮ ০০:০০



জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কক্সবাজারের সেন্ট মার্টিনসে পর্যটকের সংখ্যা সীমিত করে আনতে চায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। পর্যটকসহ সেখানে সেবা প্রদানকারী সব প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রবেশ ফি ও ব্যবহার ফি আরোপ করারও পরিকল্পনা করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় গলাচিপার দক্ষিণ থেকে ছেঁড়াদিয়া দ্বীপ পর্যন্ত এলাকায় পর্যটকদের উপস্থিতি, নৌচলাচল কিংবা নোঙর করা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করতে চায়। সেন্ট মার্টিনস রক্ষায় এসংক্রান্ত একটি গুচ্ছ প্রস্তাব তৈরি করেছে মন্ত্রণালয়। আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস উপলক্ষে ‘সেন্ট মার্টিনসের বিরল জীববৈচিত্র্য এবং প্রতিবেশ সংরক্ষণ’ শীর্ষক এক জাতীয় কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে আজ মঙ্গলবার। সেখানে এসব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

রাজধানীর এলজিইডি ভবনে আজকের কর্মশালায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কর্মশালায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবসহ অন্যরা উপস্থিত থাকবেন।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সেন্ট মার্টিনসের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আমরা বেশ কয়েকটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। তবে বিষয়টি যেহেতু আমাদের একার নয়, তাই সবার মতামত নিতে চাই। সবার মতামত নেওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।’

জাতিসংঘ ঘোষিত ‘আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস’ পালিত হচ্ছে আজ ২২ মে। ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২৯ ডিসেম্বরকে জীববৈচিত্র্য দিবসের জন্য নির্বাচন করেছিল। কিন্তু ডিসেম্বরের ওই সময়ে পৃথিবীর অনেক দেশে সরকারিভাবে ছুটি থাকায় ২০০০ সালে তারিখ পরিবর্তন করে সাধারণ পরিষদ। ২০০০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত এক সভায় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২২ মে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস হিসেবে সারা পৃথিবীতে উদ্‌যাপন করার সিদ্ধান্ত নেয়। মূলত ১৯৯২ সালের ২২ মে নাইরোবিতে অনুষ্ঠিত জীববৈচিত্র্যবিষয়ক কনভেনশনের তারিখকে আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে নির্বাচন করা হয়। এবার দিবসের প্রতিপাদ্য হলো ‘জীববৈচিত্র্য রক্ষার ২৫ বছরের উদ্যোগ উদ্‌যাপন’।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, জীববৈচিত্র্যের দিক দিয়ে সেন্ট মার্টিনস খুবই সমৃদ্ধ। সেখানে ৬৬ প্রজাতির প্রবাল, ১৮৭ প্রজাতির শামুক ও ঝিনুক আছে। এ ছাড়া ২৪০ প্রজাতির মাছ, চার প্রজাতির উভচর, ২৯ প্রজাতির সরীসৃপ, তিন প্রজাতির সামুদ্রিক কাছিম আছে। একই সঙ্গে আছে ৬৭ প্রজাতির স্থানীয় পাখি, ১২০ প্রজাতির পরিযায়ী পাখি এবং ১৯ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী। কিন্তু অতিরিক্ত পর্যটক, বেশিসংখ্যক স্থানীয় মানুষ এবং পরিবেশ দূষণসহ নানা কারণে সেখানকার জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে। ১৯৯৯ সালে সেন্ট মার্টিনসকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হলেও তাতে কোনো সুফল মেলেনি।

আইইউসিএনের প্রগ্রাম অফিসার সীমান্ত দীপু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘৩১ প্রজাতির প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আরো অনেক প্রাণী বিলুপ্তির পথে। বাগডাশ, নদীর প্রাণ ঘড়িয়াল প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। পদ্মা-যমুনায় প্রজননক্ষম ঘড়িয়াল আর দেখা যাচ্ছে না বললেই চলে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ এলাকাকে ঘড়িয়ালের হট স্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছি।’


মন্তব্য