kalerkantho


ট্রাম্প-উন ঐতিহাসিক বৈঠক বিশ্লেষণ

এখনো অনেক কিছু অস্পষ্ট, অনিশ্চিত

ইমতিয়াজ আহমেদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক

১৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



এখনো অনেক কিছু অস্পষ্ট, অনিশ্চিত

প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে শীর্ষ বৈঠক হলো। এখন দেখা দরকার, কোরীয় উপদ্বীপে নিরস্ত্রীকরণ কখন, কিভাবে হবে এবং উত্তর কোরিয়ার ওপর যেসব অবরোধ বা নিষেধাজ্ঞা আছে সেগুলো কিভাবে তুলে নেবে।এ প্রক্রিয়া কবে হবে, কত দিন লাগবে সেটি বলা মুশকিল। তবে যেখানে কোনো জায়গায় কোনো অগ্রগতিই হচ্ছে না সেখানে তো অবশ্যই এই বৈঠক কিছুটা হলেও ইতিবাচক। যা কিছু বলা হচ্ছে তা হবে কি না সেটি নিয়ে এখনই বলার সময় আসেনি। মনে হচ্ছে এখনো অনেক কিছু অনিশ্চিত, অস্পষ্ট রয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গণমাধ্যমের নজরে থাকতে পছন্দ করেন—এটি না বোঝার কোনো কারণ নেই। তিনি গণমাধ্যমে খবর হিসেবে থাকতে চান। প্রতিদিনই তিনি টুইট করে আলোচনার ইস্যু হতে চান। সে ক্ষেত্রে এটি অস্বাভাবিক নয় যে তিনি উত্তর কোরিয়া বা এধরনের সুযোগগুলো ব্যবহার করবেন। তবে সমস্যা বা সমাধানের ব্যাপারে যেহেতু অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে; বিশেষ করে ওই অঞ্চলে চীনের একটি বড় প্রভাব আছে; সব মিলিয়ে আমাদের অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। মনে রাখা প্রয়োজন, ট্রাম্পের কূটনীতি, চমক লাগানোর চেষ্টা নতুন নয়। তাঁর জনগণকে দেখাতে চেষ্টা করছেন যে তিনি এমন বড় ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারেন। এটি তাঁর প্রয়োজনও ছিল। কারণ জলবায়ু পরিবর্তন থেকে শুরু করে নতুন শুল্ক আরোপ—সব বিষয়ে নেতিবাচক ভাবনা তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে। সেখানে তিনি আরেকটি চমক দিলেন। তবে এই চমকের কূটনীতি নিয়ে ওই অঞ্চলের সমস্যার সমাধান কতটুকু হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির লাভ হবে কি না সেটি বলা কঠিন।

তবে যুক্তরাষ্ট্রও বুঝতে পেরেছে যে ধীরে ধীরে ওই এলাকা থেকে তাকে হাত গুটিয়ে নিতে হবে।যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবস্থা আগের মতো নেই। পাশাপাশি সেখানে চীনের বড় প্রভাব এবং অর্থনৈতিক বড় ভূমিকা তৈরি হচ্ছে। সেখানে বিভিন্ন ধরনের সামরিক তৎপরতা রেখে যে খরচ হয় সেটি হয়তো যুক্তরাষ্ট্র কমাতে চায়।যুক্তরাষ্ট্রে যে একটি পরিবর্তন আসছে সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাজকর্মে সেটিই হয়তো স্পষ্ট হচ্ছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বৈঠকের প্রস্তাব এসেছিল উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের কাছ থেকে। তাতে রাজি হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। উত্তর কোরিয়ার পারমাণু সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম এমন জায়গায় পৌঁছে গেছে, সেখানে উনের এ ধরনের নীতি নেওয়াই স্বাভাবিক।কারণ সম্বৃদ্ধকরণ যা করার তা এরই মধ্যে করে ফেলেছে উত্তর কোরিয়া। এখন পারমাণু সম্বৃদ্ধকরণের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার অবস্থায় উত্তর কোরিয়া আর নেই। দেশটি স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ফলে কিম জং উনের মধ্যেএকটি আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে। পারমাণবিক যে পরীক্ষাগুলো তাঁর আগে দরকার ছিল, আমার মনে হয় না সেগুলো আর দরকার হবে।পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের পরই তিনি তাঁর আত্মবিশ্বাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বসার কথা বলেছেন। অন্তত ওই অঞ্চলে উত্তর কোরিয়াএকটি পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে মোটামুটিভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।


মন্তব্য