kalerkantho


রোহিঙ্গা শিবির ঝড়ে লণ্ডভণ্ড

গাছচাপায় এক গ্রামবাসী নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

১৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



অবিরাম বর্ষণ এবং ঝোড়ো হাওয়ায় কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরগুলো লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ঝড়ে গাছচাপা পড়ে গতকাল মঙ্গলবার সকালে প্রাণ হারিয়েছেন এক গ্রামবাসী। বর্ষণে বেড়েছে ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার দুর্গতি। ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে মৌসুমের প্রথম টানা বৃষ্টিতে রোহিঙ্গা শিবিরের কমপক্ষে আড়াইহাজার বস্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো।

গত রবিবার থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোর পাহাড়েও ধস দেখা দিয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত রোহিঙ্গারা প্রতিনিয়ত পাহাড়ধসের শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। কুতুপালং ডি-৪ এলাকার রোহিঙ্গা কামাল উদ্দিন জানান, পাহাড়ের ছড়ায় যারা বসতি গেড়েছে তারা যেমন আতঙ্কিত, তেমনি ঢালুতে যাদের বাস তারাও আছে ভয়ে।

বর্ষণে দুই হাজার ৩৩৪টি বস্তি বিধ্বস্ত কিংবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে গতকাল আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। আইওএমের গণযোগাযোগ কর্মকর্তা আকতার শিরিন গতকাল জানান, বর্ষণে রোহিঙ্গাদের জীবনযাপন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩১ রোহিঙ্গা শিবিরে বৃষ্টির কারণে বস্তিগুলোর চুলায় আগুন ধরানোই মুশকিল হয়ে পড়েছে। গ্যাসের চুলা যাদের নেই তারা আরো বেশি দুর্ভোগে পড়েছে। এসব রোহিঙ্গা পরিবারের চুলায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের লাকড়িও শুকানো যাচ্ছে না। লাকড়ির অভাবে অনেক রোহিঙ্গা পরিবারের খাওয়া-দাওয়া নিয়ে কষ্টের যেন শেষ নেই।

সেই সঙ্গে লাখ লাখ রোহিঙ্গা দুর্ভোগ পোহাচ্ছে চলাচলের রাস্তা নিয়ে। শিবিরগুলোর অভ্যন্তরীণ চলাচলের মাটির রাস্তাগুলো হাঁটু সমান কর্দমাক্ত হয়ে গেছে। কর্দমাক্ত রাস্তা পাড়ি দিয়ে বস্তিতে পানীয় জলের কলসি নিয়ে রোহিঙ্গা নারীদের যাতায়াতে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে অনেক শিবিরসংলগ্ন নালা-খাল এবং নিচু এলাকাও ডুবে গেছে। পানির কারণে শিশু-কিশোরদের নিরাপদ চলাচলও হয়ে পড়েছে ঝুঁকিপূর্ণ।

খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার ভোরে প্রবল বর্ষণের সময় ঝোড়ো হাওয়াও বয়ে গেছে। এ সময় ঝোড়ো হাওয়ায় গাছচাপা পড়ে মোহাম্মদ আলী নামের একজন বাংলাদেশি তরুণ প্রাণ হারান। উখিয়া থানার ওসি মো. আবুল খায়ের জানান, উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা শিবিরে এ ঘটনা ঘটেছে। মোহাম্মদ আলী স্থানীয় জামতলী এলাকার হোসেন আহমদের ছেলে।

সমুদ্রসৈকতে দুই লাশ : কক্সবাজার শহরের সুগন্ধা পয়েন্ট সৈকত ও ইনানী সৈকত এলাকায় গতকাল আলাদা দুটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আফরুজুল হক টুটুল জানান, গতকাল সকালে শহরের সুগন্ধা পয়েন্ট সৈকতের বালুচরে জোয়ারের পানিতে ভেসে এসে আটকা পড়ে একটি লাশ। অন্যদিকে জোয়ারের পানিতে উখিয়ার ইনানী সৈকতেও আরো একটি লাশ এসে আটকা পড়ে। তিনি জানান, গত রবিবার সকালে ঝোড়ো হাওয়ায় সাগরে ডুবে যাওয়া মাছধরা নৌকাগুলোর নিখোঁজ জেলেদেরই এসব লাশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।


মন্তব্য