kalerkantho


সংসদ অধিবেশন

দেশের ব্যাংক খাত নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার। প্রথম দিনেই দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাত নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সংসদ সদস্যরা রাজনৈতিক নানা বক্তব্য নিয়ে বিএনপিরও সমালোচনা করেছেন।

জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে সাধারণ আলোচনায় গতকাল প্রথমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও পরে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া সভাপতিত্ব করেন। আলোচনায় অংশ নেন সরকারি দলের সদস্য নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মাহমুদুস সামাদ চৌধুরী, ইসরাফিল আলম, মোহাম্মদ নোমান, কবি কাজী রোজী, জাসদের নাজমুল প্রধান এবং বিরোধী দল জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ নোমান ও শামীম হায়দার পাটোয়ারী।

আলোচনার সূত্রপাত করে শাজাহান খান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জাতীয় ঐক্য গড়ার আহ্বানের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, কাদের সঙ্গে জাতীয় ঐক্য হবে? স্বাধীনতা-বিরোধীদের সঙ্গে ঐক্য হতে পারে না। বিকল্প ধারার প্রেসিডেন্ট এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ঐক্য গড়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শুধু বদরুদ্দোজা নন, এর পেছনে আরো অনেকে আছে। এরা কী ষড়যন্ত্র করছে?’ তিনি বলেন, ‘এর সঙ্গে রয়েছেন মাহমুদুর রহমান মান্না। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকা কী ছিল আমার জানা নেই। তবে তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দল করেছেন। আবার একজন শিল্পপতিও বটে। তাঁর পোশাক তৈরির কারখানায় শ্রমিকদের টাকা পরিশোধ না করায় ২০০৯ সালে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। সেই ব্যক্তি এখন বিভিন্ন ছবক দিচ্ছেন। তাঁদের ডাকে দেশবাসী সাড়া দেবে না।’

নৌমন্ত্রী বলেন, ‘কোটা সংস্কারের নামে যারা আন্দোলন করতে গিয়ে ভিসির বাসায় হামলা করেছে তাদের খুঁজে বের করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে যুদ্ধাপরাধীদের সন্তান ও তাদের উত্তরসূরিদের সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না।’ তিনি স্বাধীনতার চেতনাবিরোধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার দাবি জানান।

লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে মির্জা ফখরুলের বৈঠকের উল্লেখ করে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘ওখানে বসে কী ষড়যন্ত্র হচ্ছে তা খতিয়ে দেখতে হবে। একজন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামির সঙ্গে সাক্ষাৎ করায় আইনের ব্যত্যয় ঘটেছে কি না সেটা খতিয়ে দেখে মির্জা ফখরুলকে আইনের আওতায় আনতে হবে।’ তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। নির্বাচন করবে নির্বাচন কমিশন, সেদিকে মনোযোগী না হয়ে বিএনপি এখন বিদেশিদের কাছে ধরনা দিচ্ছে। তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। দেশবাসী আগামী নির্বাচনেও এদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে।’

জাতীয় পার্টির সদস্য মোহাম্মদ নোমান বলেন, ‘ব্যাংক খাতে লুটপাট নিয়ে কথা বলা যাবে না। চুরি করলে চোর বলা যাবে না। এটা কোন মহারাজার দেশে বাস করছি?’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চুরি হয়ে গেল, কোনো হদিস নেই, জবাবদিহি নেই। তদন্ত কমিটি হলো, কিন্তু রিপোর্ট প্রকাশ হলো না। তাহলে তদন্ত কমিটি কেন হলো?’


মন্তব্য