kalerkantho


জলাবদ্ধতা ঘিরে দুই প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

মেয়র মান্নানের ব্যর্থতার জন্য এই অবস্থা : জাহাঙ্গীর
দুঃশাসনে মানুষ প্রতিবাদের ভাষা হারিয়েছে : হাসান সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

১৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



দিন যতই ঘনিয়ে আসছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে উত্তাপ ততই বাড়ছে। প্রধান দুই দলের মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থীদের একে অন্যের বিরুদ্ধে নানামুখী অভিযোগ সেই উত্তাপে আরো হাওয়া দিচ্ছে। প্রার্থীর সমর্থক এবং দলীয় নেতাকর্মীরাও তাতে শামিল হচ্ছে। আগামী ২৬ জুন এই সিটিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু হবে ১৮ জুন।

আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম গতকাল মঙ্গলবার ইফতার-পূর্ব এক আলোচনাসভায় বিএনপির বর্তমান মেয়রের উন্নয়নে ব্যর্থতার দিক ইঙ্গিত করে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, অতীতের অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও জলাধার সংরক্ষণে ব্যর্থতার জন্য গাজীপুর নগরীতে সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি নির্বাচিত হলে এসব দিক মাথায় রেখে পরিকল্পিতভাবে নগরের উন্নয়নে কাজ করে যাবেন। তখন সিটির কোথাও আর জলাবদ্ধতা থাকবে না।

একই দিন পৃথক এক ইফতার-পূর্ব আলোচনাসভায় বিএনপি মনোনীত হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, মেয়র মান্নানকে জেলে রেখে তাঁর উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হয়নি। সরকার অত্যাচার-নির্যাতন করেই চলেছে। দুঃশাসনে অতিষ্ঠ মানুষ প্রতিবাদের ভাষা হারিয়ে ফেলছে।

ব্যাপকভাবে আলোচিত এই নির্বাচনে প্রধান দুই দলের মেয়র পদপ্রার্থী গতকাল নানা সামাজিক ও ঘরোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম চালান। নৌকার প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম সকালে নিজ বাসভবনে নির্বাচনে ৪২৫টি ভোটকেন্দ্র কমিটির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছয়দানায় নিজ বাসভবন, ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের কামারজুরি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ এবং গাছা বাজার দলীয় কার্যালয়ে ইফতার ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন।

কামারজুরি উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত ইফতার-পূর্ব আলোচনার শুরুতেই উপস্থিত সবাইকে ঈদের আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ঈদের ঠিক আগ মুহূর্তে বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে নগরবাসী। সামান্য বৃষ্টি হলেই টঙ্গী, গাছা, বোর্ডবাজার, চৌরাস্তা, জয়দেবপুর, কোনাবাড়ীসহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। অতীতের অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং জলাধার সংরক্ষণে ব্যর্থতা এ জন্য দায়ী। আমি নির্বাচিত হলে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরির পাশাপাশি জলাধার সংরক্ষণে উদ্যোগী হব।’ 

গাছার আলোচনাসভায় জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি কর্মে বিশ্বাসী। ছাত্রজীবন থেকেই কর্ম করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। সিটি করপোরেশনকে একটি জনবান্ধব ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগিতা নিয়ে এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করব।’

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন মহির সভাপতিত্বে এসব আলোচনাসভায় অন্যান্যের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা ডা. মোজাফ্ফর হোসেন, শহীদ উল্লাহ, আকরাম হোসেন সরকার, মো. মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ বক্তব্য দেন। উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম, আ. রশিদ মিয়া, কাজী ইলিয়াস আহমেদ, নুরুল ইসলাম তিতুমির, মামুন সরকার, হেলাল উদ্দিন প্রমুখ। 

অন্যদিকে টঙ্গীর নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ধানের শীষের মেয়র পদপ্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, ‘গাজীপুর নগরবাসীর প্রতিটি দুর্ভোগই মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নানের নির্যাতনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আওয়ামী লীগ শুধু মেয়র মান্নানকেই নির্যাতন করেনি, প্রকারান্তরে গোটা নগরবাসীকে নির্যাতন করেছে। আজকে সামান্য বৃষ্টি হলেই এই নগরী তলিয়ে যায়। মেয়র মান্নান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সর্বপ্রথম জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাঁকে জেলে ভরে সেই উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হয়নি। মেয়র মান্নানকে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ দিলে আজকের এই দুর্ভোগ থাকত না।’

হাসান উদ্দিন সরকার আরো বলেন, ‘যারা রোজা রেখেও ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য মিথ্যা কথা বলে এবং যারা তাদের সহযোগিতা করে তাদের প্রত্যেককেই একদিন সৃষ্টিকর্তার কাছে জবাবদিহি করতে হবে। সরকারি দলের মেয়র পদপ্রার্থী ও মন্ত্রী-এমপিরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। অভিযোগ দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। তারা সব কিছুই করছে। আমাদের ইফতার ও জাকাতের মতো দান-খয়রাতের কাজেও বাধা দেওয়া হচ্ছে।’

বিএনপির প্রার্থী গতকাল দুপুরে নির্বাচনী এলাকার বাইরে বাঘের বাজারে নিজ প্রতিষ্ঠান সাবাহ গার্ডেন ও আশপাশের দরিদ্রদের মাঝে জাকাতের কাপড় বিতরণ করেন।


মন্তব্য