kalerkantho


পাহাড়ধস

বৃষ্টিতেই যত ভয়

রাঙামাটি প্রতিনিধি   

১৪ জুন, ২০১৮ ০০:০০



রূপনগরের রাবেয়া। গেল বছরের পাহাড়ধসের তাজা স্মৃতি এখনো তাঁর মনকে কাঁদায়। তাই গত তিন দিনের বৃষ্টির পুরোটা সময় আশ্রয় নিয়ে ছিলেন রাঙামাটি শহরের টেলিভিশন উপকেন্দ্র আশ্রয়কেন্দ্রে। গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে আগ্রাসী বৃষ্টি বন্ধ হলে বুধবার সকালে স্বামী দিলদার আর সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ফেরেন ঘরে। আতঙ্কিত মুখে হাসিটা লেগেই ছিল। কারণ বসতঘরটি যেভাবে রেখে গিয়েছিলেন, ঠিক সেভাবেই ছিল অবিকল। বুধবার সকালে বাড়িফেরা রাবেয়ার মতো এমন অনেকেরই চোখেমুখে এমন রং ছিল। তবে আকাশের কালো মেঘ মুহূর্তেই তাদের মুখচ্ছবি গোমরা করার শঙ্কাই তৈরি করছে প্রতিনিয়ত।

টানা তিন দিনের ভারি বর্ষণ আর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার পর স্বাভাবিক হয়ে এসেছে রাঙামাটির জনজীবন। মঙ্গলবার বিকেল থেকে বর্ষণ বন্ধ হওয়ায়  বিভিন্ন কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া মানুষগুলোও ফিরে যাচ্ছেন নিজ বসতভিটায়।

বাঘাইছড়ির পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে পানি সরে যাওয়ায় তারাও আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে নিজ বসতিতে ফিরছে। জেলার সঙ্গে যেসব উপজেলার যোগাযোগ সাময়িক বন্ধ ছিল সেগুলো স্বাভাবিক হয়েছে। তবে প্রবল বর্ষণের কারণে সড়কের বেশ কিছু স্থানের প্রতিরক্ষা দেয়াল ধসে গেছে। ধসে পড়া সড়ক সংস্কারে ব্যস্ত দেখা গেছে সওজ কর্মীদের।

রাঙামাটি সড়ক বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী আবু মুছা জানান, রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের সব বাধা সরানো হয়েছে। বুধবার রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার রাঙামাটি-বান্দরবান ও রাঙামাটি-কাপ্তাই সড়কের কাজ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, ‘গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে নতুন করে বৃষ্টি না হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি এসেছে। তবে শহরের বিভিন্ন স্থানে যেভাবে ভবন, দেয়াল ও মাটি ধসেছে সেটাতে আমরা শঙ্কিত। দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিতভাবে অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এই শহরটিকে ঝুঁকিহীন করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার।’

এদিকে গত মঙ্গলবার নানিয়ার চরের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসে নিহত ১১ জনের লাশের পারিবারিক উদ্যোগে দাহক্রিয়া হয়েছে। নিহতদের পরিবারে মাতম থামেনি। আকস্মিক এ ঘটনায় হতবিহ্বল তারা। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলার সব মসজিদ-মন্দির-বিহার থেকে মাইকিং করে এলাকাবাসীকে বৃষ্টি হলে নিরাপদ স্থানে কিংবা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।

 


মন্তব্য